ফরিদপুরে বাস-কাভার্ডভ্যান মুখোমুখি সংঘর্ষ: নিহত-১৫ আহত-২০
শওকত আলী শরীফ, নগরকান্দা -ফরিদপুর প্রতিনিধি ঃ
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার গজারিয়া নামক স্থানে যাত্রীবাহি বাসের সাথে বিপরিত দিক থেকে আসা একটি সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৫ জন নিহত এবং কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদেরকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স , ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার রাত ১১ টায় এই মমার্ন্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। আহত বাসযাত্রী এবং নগরকান্দা থানা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে,নড়াইল থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহি বাসের সাথে বিপরিত দিক থেকে আসা গোপালগঞ্জগামী পারভেজ ট্রান্সপোর্টের কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় গজারিয়া নামক স্থানে। এ সময় বাস এবং কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরে যায় । আগুনে পুড়ে কাভার্ড ভানের চালক এবং ১২ বাসযাত্রী মারা যায়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দুই বাসযাত্রী মারা গেছে বলে জানা গেছে। হতাহতদের পরিচয় জানা যায় নি। শনিবার সকালে নড়াইল থেকে আসা হতাহতদের কিছু স্বজনকে আহাজারি করতে দেখা গেছে।
দুর্ঘটনার সাথে সাথে এলাকাবাসী ছুটে আসলেও দুটি গাড়ীতে আগুন লেগে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয় । খবর পেয়ে ফরিদপুর এবং গোপালগঞ্জ থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এসে আধাগন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাসের ভেতরে ঢুকে লাশগুলো উদ্ধার করে ।
নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ এ এফ এম নাসিম জানান, ফায়ার সাভির্সের তিনটি ইউনিট এসে দুর্ঘটনা কবলিত যাত্রীবাহি বাস এবং কাভার্ড ভ্যানের আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে এবং অগ্নিদদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া যাত্রীদের লাশ উদ্ধার করে। আহতদেরকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ সহ অন্যান্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মমতাজ উদ্দিন জানান, নিহতদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলো নড়াইলের ডাঃ গোলাম রসুল সিকদার (৫০) ও যশোর বাহাদুরপুরের আশা ইসলাম যিনি হানিফ পরিবহনের চালক বলে জানা গেছে,অপর দিকে গোলাম রসুল ইবনেসিনা হাসপাতালের চিকিৎসক বলে জানিয়েছে তার ছেলে ডাঃ তারেক । আহতদেরকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ,মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং একজনকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানে হয়েছে এবং কয়েকজন প্রাথমিক চিকৎিসা নিয়েছেন। বাসযাত্রীদের অধিকাংশই নড়াইলের লোহাগড়ার বাসিন্ধা বলে জানা গেছে। এই মমার্ন্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় লোহাগড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসছে বলে লোহাগড়ার এক সাংবাদিক এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ডঃ কামরুজ্জামান সেলিম জানিয়েছেন যাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের সনাক্ত করা হবে। এ ছাড়া নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।