ফরিদপুরে ভয়াবহ ঘুর্নিঝড়ে নিহত ৪ আহত শতাধিক ১০টি গ্রাম লন্ডভন্ড
আবু নাসের হুসাইন,/ খালেদুর রহমান ,ফরিদপুর প্রতিনিধি:
ফরিদপুরে গতকাল রবিবার দুপুরে ভয়াবহ ঘূর্নিঝড়ে ৪জন নিহত ও শতাধিক আহত এবং ১০টি গ্রাম লন্ডভন্ড হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ সহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, রবিবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে একটি ঘুর্ণিঝড় ফরিদপুরের কয়েকটি উপজেলার উপর দারুন ভাবে প্রভাব বিস্তার করে। ঘূর্নিঝড়টি তালমার নিকট জোবাইদা করিম জুটমিলের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় মিলের ভবন ধশে প্রায় শতাধিক শ্রমিক আহত হয় । এদের ফরিদপুর মেডিকেলে আনা হলে ৪ জনকে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত্য বলে ঘোষনা করে। নিহতদের নাম বিরেন সিকদার (৫০), হয়রত আলী (৪০), মালতি রানী মন্ডল (৩৫)। নিহত অপর এক জনের নাম জানা জায়নি।ঘটঁনার পরপর মিলের মালিক কুটিমিয়া হেলিকপ্টার যোগে ঢাকা থেকে ঘঁটনাস্থলে আসেন।নিহতের পরিমান বেশি বলে স্থানীরা মনে করেন। এ ছাড়া সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়ন ও আটঘর ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে আঘাত হানে। এতে গট্টি ইউনিয়নের আড়–য়াকান্দী, ভাবুকদিয়া, শশ্মানঘাট, আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড়, গোয়ালপাড়া, শলিয়া, সাড়–কদিয়া, গৌড়দিয়া, সেনহাটি, খাগৈড় গ্রামের প্রায় ৭শতাধিক ঘরবাড়ি এবং সাড়–কদিয়া স্কুল, সাড়–কদিয়া বাজার, গৌড়দিয়া মাদ্রাসা ও সরকারী ভূমি অফিস লন্ডভন্ড হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। কয়েক মিনিটের ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড়ে ঘর বাড়ির পাশাপাশি অগণিত গাছ-পালা ভেঙ্গে গিয়ে রাস্তা-ঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুতের তার ছিড়ে সংযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঘুর্ণিঝড় সংঘঠিত এলাকা অচল হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আহাজারে ওই এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এ ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড়ে রাকিব (২০) ও মনিমালা (৩৫) সহ ৫জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে ২জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জোবাইদা করিম জুটমিলে জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলী এবং পুলিশ সুপার জামিল হাসানের নেতৃত্বে প্রশাসনের এশটি দল তাৎক্ষনিক পরিদর্শন করেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাহায্যের আশ্বাস দেন। সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ মোবাশ্বের হাসান, সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ডী.এম বেলায়েত হোসেন, আটঘর ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল হাসান খান সোহাগ, গট্টি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলু ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।