ফেলানী হত্যা মামলার পুনর্বিচারে পূর্বের রায় বহাল
স্টাফ রিপোর্টার : ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের অভিযুক্ত সদস্য অমিয় ঘোষ অাবারো নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যা মামলায় বিএসএফের নিজস্ব আদালত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্ট (জিএসএফসি) এর আগে যে রায় দিয়েছিল তা পুনর্বিবেচনার পরেও সেই রায় বহাল রেখেছে। বিবিসি বাংলার এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার অনেক রাত পর্যন্ত আলোচনা করে কোর্ট মার্শালের সমতুল্য বিএসএফের নিজস্ব আদালত জিএসএফসি এ রায় দেয়। পাঁচ সদস্যের আদালতের প্রধান ছিলেন বিএসএফ আধিকারিক সিপি ত্রিবেদী। এই পাঁচজনই মূল মামলার শুনানিতে বিচারক ছিলেন। তবে বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে রায়ের কথা ঘোষণা করেনি। কারণ রায়ের কপিতে বিএসএফ মহাপরিচালকের অনুমোদন প্রয়ােজন। তবে আগের রায় বহাল থাকলেও ভারতের আদালতে ফেলানীর পরিবার এই রায় চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পাবেন।
এদিকে রায় বহাল রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সীমান্তে বিএসএফের গুলি চালানো নিয়ে সরব ভারতীয় মানবাধিকার সংগঠন মাসুম এর প্রধান কিরিটী রায়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিএসএফের আদালতে আগেই স্থির করা ছিল যে কী রায় দেয়া হবে। এটা লোক দেখানো বিচার হলো।’
ফেলানি হত্যা মামলা দেখাশোনার দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত কুড়িগ্রাম জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর আব্রাহাম লিঙ্কন বলেন, এ ধরনের রায়ের আশঙ্কা ছিল। যে বিচারকেরা প্রথম মামলাটা শুনেছেন, তারাই আবার পুনর্বিবেচনা করেছেন। এক্ষেত্রে যদি তারা অন্য কোনও রায় দিতেন, তাহলে তাদের প্রথমে দেয়া রায় নিয়ে প্রশ্ন উঠত। আগের রায়ে তাহলে ভুল ছিল, সেটা প্রমাণিত হত।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে বাবার সঙ্গে নিজের দেশ বাংলাদেশে আসছিল ১৬ বছরের কিশোরী ফেলানি খাতুন। কোচবিহার জেলার চৌধুরীহাট সীমান্তে মই বেয়ে কাঁটাতার পার হওয়ার সময় বিএসএফের ১৮১ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদস্য অমিয় ঘোষ তার ইনসাস ৫ দশমিক ৫৬ মিলিমিটার বন্দুক থেকে গুলি করেন। এতে মারা যায় ফেলানী। কাঁটাতারের ওপরে ফেলানির দেহ দীর্ঘক্ষণ ঝুলে ছিল। ফেলানীর মৃতদেহ নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সীমান্তে বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানায়।