মানব পাচার বন্ধে সরকার আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে:আইনমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিনিধি: মানব পাচার বন্ধে সরকার আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, দেশের বিভাগীয় পর্যায়ে এই ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব আমি দিয়েছি। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত চিঠি (সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে) পাঠানো হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনাল গঠন না হওয়া পর্যন্ত প্রচলিত আইনে নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে মানব পাচারের বিচার চলবে।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত জোহান ফ্রিসেল বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপর নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান আনিসুল হক।
মন্ত্রী বলেন, ‘মানব পাচার অপরাধের বিচার চলমান। দেশের নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে এর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু মানব পাচারের ঘটনায় কয়েকদিনের পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ সংক্রান্ত অপরাধের মামলা আরো বাড়তে পারে। তাই আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি। এই ট্রাইব্যুনাল দেশের বিভাগীয় পর্যায়ে হবে। কারণ, যে এলাকায় ঘটনা ঘটবে সেই এলাকা সংশ্লিষ্ট জেলায় ট্রাইব্যুনাল হলে বিচার প্রভাবিত হতে পারে। সঠিক বিচার না পেতে পারেন, এমন সবকিছু চিন্তা করেই বিভাগীয় পর্যায়ে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
আনিসুল হক আরো বলেন, ‘মানব পাচার ট্রাইব্যুনাল বর্তমান নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মতোই হবে। এটি বিশেষ কোনো ট্রাইব্যুনাল নয়।’
সুইডেনের রাষ্ট্রদূত জোহান ফ্রিসেলের সঙ্গে কী বিষয়ে কথা হয়েছে জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, ‘তার সঙ্গে হিউম্যান রাইটস এবং ওয়ার ক্রাইমের ক্যাপিট্যাল পানিশম্যান্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সুইডেনের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, মানবতা বিরোধী অপরাধে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াতের নেতা কামারুজ্জামানের ছেলে সুইডেনের নাগরিক এবং সেখানেই বসবাস করেন। এ কারণে কামারুজ্জামানের মৃত্যুদ-াদেশ দিয়ে রায়ের পর সুইডেনে মাতামাতি হয়েছে। ইউরোপিয় ইউনিয়ন মৃত্যুদ- নিয়ে কথা বলেছে। সুইডেন ক্যাপিটেল পানিশমেন্ট সমর্থন করে না বলে জানালেও আমি পরিষ্কার করে বলে দিয়েছি, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদ-ের বিধান থেকে পিছিয়ে আসতে পারবো না। তবে ভবিষ্যতে আইন করার ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’
আনিসুল হক বলেন, ‘আমাদের দেশের হিউম্যান রাইটস সুইডেনের সমান না হলেও কাছাকাছি রয়েছে। ওখানে কেমন আর আমাদের দেশে কেমন তা নিয়ে সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা হয়েছে।’
বাজেট অধিবেশনের পর আইসিটি অ্যাক্ট সংশোধনী প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হবে বলে আশা করেন আইমনন্ত্রী।