রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া-সংঘর্ষ-আহত ১৯
বেরোবি প্রতিনিধি,রংপুর:
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতা স্বারকে পুষ্পার্ঘ অর্পনকে কেন্দ্র করে উপাচার্য অপসারনের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে উপাচার্য সমর্থনকারী শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় সাধারন শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে সাধারন শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে। গতকাল দুপুর ১২ টায় দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও পুলিশের লাঠিচার্জে আন্দোলনরতদের ১৫ জন এবং উপাচার্য সমর্থনকারীদের ৪ জন সহ মোট ১৯ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে আন্দোলনকারী রামচন্দ্রশীল(এমএলএস), লাবু(পরিবহন পুল) ও সাধারন শিক্ষার্থী পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের মৃতিশ রায় এর অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও এই তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব এ্যাম্বুলেন্সে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনা স্থলে গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী পূর্ব থেকে যথেষ্ঠ পুলিশ মোতায়েন থাকলেও পরবর্তীতে বেগতিক পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী স্বাধীনতা স্বারকে পূষ্পার্ঘ অর্পনের পর উপাচার্য সমর্থনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্র্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপাচার্যসহ আলোচনা সভা শুরু করে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অপসারনের এক দফা এক দাবির আন্দোলনরত শিক্ষক সমিতি, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর একটি সুবিশাল র্যালি স্বাধীনতা স্বারকে পূষ্পার্ঘ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসে। সেই মুহুর্তে অর্থাৎ আলোচনা সভা চলাকালে বক্তব্যরত শিক্ষক উমর ফারুককে বক্তব্য বন্ধ করতে বলেন আন্দোলনরত শিক্ষক সমিতির ড. শফিকুর রহমান । এসময় বক্তব্য বন্ধ না হলে আন্দোলনরত শিক্ষক সমিতি ও উপাচার্য সমর্থনকারী শিক্ষকদের মধ্যে বাকবিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে বিতর্কের মাঝে আন্দোলনকারী ও উপাচার্যের সমর্থনকারীরাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, চেয়ার ছুড়ে মারা, ইট ও পাথর নিক্ষেপ এবং উপাচার্যের সমর্থনকারী বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারী আন্দোলনকারীদের উপর লাঠি দিয়ে হামলা চালায়। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ দুপক্ষেরই উপর লাঠিচার্জ করে। তবে সাধারন শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের দূর্বলতার কারনে পুলিশ শুধুমাত্র সাধারন শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ করে। উক্ত সংঘর্ষে আন্দোলনরত ও সাধারন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৫ জন ও উপাচার্যের সমর্থনকারী ৪ জনসহ মোট ১৯ জন আহত হয়।
এদিকে তাৎক্ষণিক ভাবে দুপক্ষই পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করে। আন্দোলনরত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. সাইদুল হক বলেন, “আমরা শিক্ষক সমিতি, বিভিন্নবিভাগের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার মানুষের একটি সুবিশাল বিজয় দিবসের র্যালি নিয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে পূষ্পার্ঘ অর্পন করতে এসেছি। কিন্তু উপাচার্যের লেলিয়ে দেওয়া গুন্ডা বাহিনী ও ভাড়াটে বহিরাগত সšত্রাসী কর্তৃক নিরীহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে প্রায় ১৫ জন গুরুতর আহত হয়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।”
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলনরত শিক্ষক সমিতি, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিকাল ৫ টায় রংপুর প্রেসক্লাবে উক্ত হামলার প্রতিবাদে একটি সমাবেশ করে।
অন্য দিকে সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. একেএম নূর-উন-নবী বলেন, “মহান বিজয় দিবসে আজকের এই ঘটনায় শিক্ষক সমিতির অতর্কিত উস্কানিমূলক আচরণ ও হামলার আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। বিজয় দিবসেও এই অশুভ স্বাধীনতা বিরোধী পক্ষের কার্যকলাপে আমি হতবাক। আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাষ করি, তাই আন্দোলনরতদের দাবিগুলো আলোচনার মধ্য দিয়েই সমাধান হবে বলেই আমি মনে করি। কিন্তু আন্দোলনকারীরা স্বাধীনতা স্বারক মঞ্চে যে বিশৃংখলা সৃষ্টি করল তাতে প্রমাণ হল তারা স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি। তিনি আবেগপ্রবন হয়ে আরো বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী পক্ষের হাত থেকে এবিশ্ববিদ্যালয়কে বাচাতে সকলের সাহায্য চ্ইা, এ বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ঘটনা ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. আব্দুল কাদের জিলানী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বলেন, প্রশাসন কারো উপর লাঠিচার্জ করে নি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য যতটুকু প্রয়োজন তা আমরা করেছি। এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।