রংপুরের পীরগাছায় কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য
আব্দুর রহমান রাসেল, রংপুর: রংপুরের পীরগাছায় গত কয়েক বছরের লোকসান কাটিয়ে অবশেষে গত ৩ বছর ধরে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। যে কৃষক ফসল ফলিয়ে লাভ তো দুরের কথা খরচও তুলতে পারছিলেন না, গত ৩ বছরে সেই কৃষক জমিতে এখন সোনা ফলাচ্ছেন। ফলে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে আদর্শ কৃষক তৈরির কারখানা। সোনা ফলানো এই কৃষকরা ব্র্যাক কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচীর কর্মকর্তাদের কারিগরি সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে তারাও এখন কৃষি পরামর্শ দিচ্ছেন গ্রামের অন্য কৃষকদের মাঝে। যে কৃষক কয়েক বছর আগেও সঠিক কৃষি পরামর্শ ও সহযোগিতার অভাবে কৃষি ক্ষেত্রে লোকসান গুনছিল। ঠিক সেই সময় ২০১২ সালের জুলাই মাসে তাদের পাশে এসে দাড়ায় কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচী। এরপর থেকে সংস্থাটির কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শ, কারিগরি সহযোগিতা ও কৃষকদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তোলার পর কৃষকরা বিভিন্ন জাতের হাইব্রীড ধান, সরিষা, ভূট্টা, সূর্যমূখী, সবজি ও উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ করে তাদের ভাগ্য বদলাতে শুরু করেন। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৪৮টি ব্লকের ৬ হাজার ৫শ’ ৪৩ জন কৃষক ২০১২ সাল থেকে গত ৩ বছর ধরে তাদের নিজস্ব ৯৪০.০৯ একর জমিতে ধান চাষ, ১১০৬.৭৮ একর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ ২৭৯.৪৫ একর জমিতে সরিষা চাষ, ১৮০.৭২ বিঘা জমিতে সবজি চাষ, ৫৮.২৯ একর জমিতে সূর্যমূখী চাষ ১৭৪.৪৫ একর জমিতে হাইব্রীড ভুট্টা চাষ এবং ২৮.২৩ একর উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ চাষ করা হয়। এসব শস্য ক্ষেত কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের উপ-পরিচালক, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউএনও, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, ব্র্যাকের উধ্বর্তন কর্মকর্তাগণ বিভিন্ন সময়ে পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সরেজমিনে উপজেলার অনন্তরাম, তালুক ইসাদ, আদম সবুজ পাড়া,কামার পাড়া, মহিষমুড়িসহ কয়কটি গ্রাম ঘুরে কৃষক আনোয়ার,জলিল সরকার, কেরামত আলী, জয়নুল, মিলনের সাথে কথা বললে তারা বলেন, আগে আমরা প্রতি বছর এক জমিতে বার বার একই ফসল চাষ করেছিলাম। এখন ওই সংস্থার কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে নানা পদ্ধতিতে নতুন নতুন ফসল চাষ করছি। ফলনও হচ্ছে বেশ বাম্পার। এসময় আরেক কৃষক আক্কাছ মিয়া এগিয়ে এসে জানান, তার সংসারে স্বচ্ছলতার নানা গল্প।

উপজেলা ব্র্যাক কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচীর উপজেলা ব্যবস্থাপক এসএম শাহ আলম জানান, আমরা শুধু কৃষকদের ফসল চাষ বিষয়ে সঠিক পরামর্শ, কারিগরি সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের আদর্শ কৃষক হিসেবে তৈরি করার চেষ্টা করেছি। এখন তারাই গ্রামের অন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে গড়ে তোলার চেষ্টা করবে।
