আমের সাতকাহন
রকমারি ডেস্ক:
ইদানীং অধিকাংশ মহিলাই খুব ফিগার কনসাস। আমে যেহেতু মিষ্টির পরিমাণ বেশি তাই ভাবেন আমের মধ্যে থাকা সুগার হয়তো ফ্যাট নিয়ে আসবে। কিন্তু এই ধারণা যে শুধু ভুল তাই নয়, যথেষ্ট হাস্যকর। অন্যান্য ফলের তুলনায় আমের ক্যালরি এবং সুগার বেশি। মানুষের শরীরের পক্ষে তা মোটেই বেশি নয়। একটা ২০০ গ্রাম আম থেকে খুব বেশি হলে খাওয়া হয় ১২৫ গ্রাম। সেদিক থেকে দেখতে গেলে এটা শরীরের পক্ষে অত্যন্ত জরুরি। আমের একটি উল্লেখযোগ্য উপাদান হলো বিটা ক্যারোটিন, যা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। তা হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ক্যানসার প্রতিরোধ করে। ইদানীং আম দিয়ে ব্লাড ক্যানসার, কোলন ক্যানসার, ব্রেস্ট ক্যানসার সারিয়ে তোলার গভীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। অনেক ক্ষেত্রেই পরীক্ষার ফলে সাফল্য মিলছে। আমের হলুদ শাঁসালো অংশ শরীরে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ তে পরিবর্তিত হয়ে যায়। চোখের স্বচ্ছ দৃষ্টির জন্য এটা খুবই উপকারী। আমের একটি অন্যতম উপাদান হলো ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম, ব্লাড প্রেসারকে নর্মাল রাখে। যাঁদের প্রেসারের সমস্যা রয়েছে তাঁরা নিশ্চিন্তে পরিমিত আম অবশ্যই খান। এই ফলটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও অমূল্য ওষুধ হিসেবে কাজে আসতে পারে। আমে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার কারণে এটা পরিপাক ক্রিয়াকে সক্রিয় রাখতে পারে। যাঁদের ত্বকে অ্যাকনে, ছুলি বা এই জাতীয় কোনো সমস্যা রয়েছে আমের শাঁস ব্যবহার সেইসব ক্ষেত্রে ভালো ফল দেয়। তাছাড়া আম ত্বককে চকচকে করে তোলে। বিভিন্ন হরমোনের স্বাভাবিকতাকে তরান্বিত করতে আমের জুড়ি মেলা ভার। ফলে শরীর রোগমুক্ত থাকে। ভিটামিন ‘সি’ এর কোলেস্টরেল আয়ত্তে রাখতে অত্যন্ত উপকারী। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং কর্মদক্ষতা অত্যন্ত বাড়িয়ে তুলতে পারে একটা পাকা এবং তাজা মিষ্টি আম। সুগারের রোগীদের ইনসুলিন লেভেল ঠিক রাখতে আমের আশ্চর্য ঔষধী গুণ আবিষ্কৃত হয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিদিন একটি আম শরীরে সুগারের ভারসাম্য বজায় রাখতে চমৎকার ফল দেয়। পাকা আমের শাঁস হজমশক্তিকে স্বাভাবিক করতে খুব ভালো ফল দেয়। আম হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচাতে অব্যর্থ। প্রতিদিন সন্ধের ø্যাক্সে শিঙাড়া রোল বা তেলেভাজা মুড়ি না খেয়ে একটা আম দিয়ে টিফিন করুন। শরীরের ভেতর এবং বাইরে দু’দিকেই আপনাকে তাজা রাখবে এই মধুর ফল।