Connecting You with the Truth
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

- Advertisement -

লক্ষ্মীপুরে ভয়াবহ মেঘনার ভাঙন, কাঁদছে উপকূল

Lakshmipur pic
কমলনগরে মেঘনায় বিলীন হওয়া বেড়ীবাঁধ, নদীর বুকে ভাসছে ব্রিজ

রুবেল হোসেন, লক্ষ্মীপুর: উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে মেঘনার ভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে নদীর তীরবর্তী হাজারো মানুষের স্বপ্ন। প্রতিনিয়ত নদীর করাল গ্রাসে বিলিন হয়ে যাচ্ছে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার গ্রামের পর গ্রাম। এটি যেন নদীর চির প্রাপ্য সম্পদ। এ দৃশ্য প্রতিনিয়ত দেখা যায় উপকূলীয় উপজেলা রামগতি ও কমলনগরে। এসব ভাঙনে নিঃশ্ব হওয়া মানুষদের যেন দেখার কেউ নেই !
লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি ও কমলনগর মেঘনার ভাঙ্গনের কারনে মানচিত্র থেকে ছোট হয়ে যাচ্ছে এ দুটি উপজেলা। বর্ষায় প্রবল বৃষ্টি আর বাতাসের বেগে মেঘনা নদী ক্রমান্নয়ে ভাঙ্গতে থাকে। নদী ভাঙ্গনের ফলে ঘর-বাড়ি, বসত-ভিটা, ফসলের মাঠ, গাছ-পালা, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ পূর্বপূরুষের শেষ ঠিকানা (কবর) টুকুও আজ বিলিন হয়ে যাচ্ছে রাক্ষসী মেঘনা পেটে। শুধু এ নয় প্রিয় মানুষের হাসি ও স্বপ্ন আজ রাক্ষসী মেঘনার ভাঙ্গনে হারিয়ে যাচ্ছে। তার পরেও থেমে নেই মেঘনার ভাঙ্গন। সবকিছু হারিয়ে পরের জায়গায় একটু মাথা গোজাবার জন্য ঠাঁই নেয় অসহায় নদী গর্ভে নিঃশ্বেস হওয়া মানুষগুলো। সম্প্রতি নদী ভাঙন রোধে ১’শ ৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হলেও তার কাজ এখনো সম্পন্ন করা হয়নি। এদিকে প্রতিনিয়ত গ্রামের পর গ্রাম গ্রাস করে নিচ্ছে মেঘনার প্রবল ঢেউ। এতে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ওইসব গ্রামের হাজারো মানুষ।
মেঘনা নদীর তীরে হাজারোও পরিবারের স্বপ্ন আজ মেঘনায় বিলিন হয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কমলনগর উপজেলার মতির হাট বাজার এলাকায় নদীমাত্রীক এমন এক করুন দৃশ্য মেঘনার অকাল ভাঙ্গন। প্রতিনিয়তই প্রবল জোয়ারের শ্রোতে অসংখ্য ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট, ফসলী জমি ও বেড়ী বাঁধ ভেঙ্গে নদী গর্বে বিলিন হয়ে যায়। তা শুধু স্মৃতির পাতায় থেকে যায়। এসব করুন দৃশ্য স্বচোখে উপলব্ধি করতে গিয়ে হঠাৎ দেখা মিলে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ হাদিস খানের সাথে।
নদী ভাঙ্গন সম্পর্কে কথা তুলতেই তিনি কান্না কন্ঠে বলেন, এ রাক্ষষী মেঘনা নদী এ পর্যন্ত ৭ বার আমার ঘর-বাড়ি ও জায়গা জমি তলিয়ে নিলো। আমার বাবা-মা, পূর্বপুরুষ এমনকি প্রিয়তমা স্ত্রী ছাহেদা বেগমের কবর টাও এ মেঘনার তীরে হারীয়ে গেছে। নিজের মৃত্যু পর কোথায় দাপন হবে এ নিয়ে শুধু এখন হাদিস খানের ভাবনা ।
সবকিছু হারিয়ে শোকবশত বলে, আজ আমি অন্যেও জমিতে ঘর তুলে থাকতে হয়। যেকোন মুহুর্তে এ রাখোষী মেঘনা আবার আমার থাকা এ ঘরটুকু কেড়ে নিতে পারে। এসব কথা বলতে গিয়ে কান্না করতে ক্রতে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
এ দিকে জেলে পল্লীর শিশুরা মেঘনার তীরে খেলা-ধুলা করতে দেখা যায়। সাধারণ মানুষ গুলু নামাজ পড়ে সৃষ্টি কর্তার কাছে প্রার্থনা করে দুই হাত তুলে। খুবই কষ্টে নদীর পাড়ে মানুষ গুলু মানবেতে জীবন যাপন করতে দেখা যায়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.