নড়াইলে সংস্কার না করায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেহাল দশার সৃষ্টি; বড় দূর্ঘটনার আশঙ্কা
প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ…!!
নড়াইলে সংস্কার না করায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেহাল দশার সৃষ্টি; যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল: নড়াইলের তিনটি উপজেলার খাসজমির ওপর নির্মিত সাতটি আশ্রয়ণ প্রকল্প দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সেগুলোর বেশির ভাগ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রকল্পের বাসিন্দাদের অভিযোগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও ঘরগুলো মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তাঁরা।
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে সেনাবাহিনীর সদস্যদের তত্ত্বাবধানে নড়াইল সদর উপজেলায় দুটি, লোহাগড়ায় দুটি ও কালিয়া উপজেলায় তিনটি আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা হয়।
জানা যায়, সরেজমিনে বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ব্যারাক জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ঘরের ছাউনির টিনগুলো মরিচা পড়ে ছিদ্র হয়ে গেছে। সেগুলো বন্ধ করতে পলিথিন বিছিয়ে তার ওপর ইটচাপা দেওয়া হয়েছে। দরজা-জানালার কপাট ভেঙে গেছে। এব জানালা-দরজা চটের বস্তা অথবা পাটকাঠির বেড়া দিয়ে বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ সময় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বর্ষা মৌসুমে ঘরের ভেতর পানি পড়ে। শীতের সময় ঠান্ডা লাগে।
সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের গোপীকান্তপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের সমবায় সমিতির সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, ২০০৮ সালের ১৮ জুন ৯ নম্বর ব্যারাকের সলোকা বেগমের রান্নাঘর থেকে আগুন লেগে ব্যারাকটি পুড়ে যায়। এর পরের বছর ৩ নম্বর ব্যারাকের আমিনুল মোল্যার ঘরে আগুন লেগে ব্যারাকটি পুড়ে যায়। ফলে এই দুটি ব্যারাকের ২০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। তখন জেলা প্রশাসন পরিবার প্রতি তিন হাজার টাকা ও ২০ কেজি করে চাল দিয়ে সহায়তা করে। এরপর কেউ আর খোঁজ নেয়নি, ব্যারাক দুটিও মেরামত করা হয়নি।
কালিয়া উপজেলার খাশিয়াল ইউনিয়নের মধুমতি নদীর চরে নির্মাণ করা হয় চোরখালি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২৮টি ব্যারাক। প্রতিটি ব্যারাকে পাঁচটি করে পরিবার বসবাস করে। প্রকল্পের বাসিন্দা শেখ শাহীন বলেন, ২০১৫ সালে কালবৈশাখী ঝড়ে ১০টি ব্যারাকের টিনের ছাউনি উড়ে যায়। এখনোও ঘরগুলো মেরামত হয়নি।
লোহাগড়া উপজেলার মাইট কুমড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রমেশ বিশ্বাস নিজের ঘরের ছাউনি দেখিয়ে বলেন, টিনের ওপর পলিথিন বিছিয়ে আজ চার বছর ধরে বাস করছি। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি। জেলা প্রশাসক হেলাল মাহামুদ শরীফ এ প্রতিবেদক উজ্জ্বল রায়কে বলেন, জরাজীর্ণ ২০টি ব্যারাক মেরামতের জন্য ২০১৪ সালের ২৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে মেরামত করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।