ঝিনাইদহ চাঁদপুরে গ্রামবাসির সংঘর্ষ, পুলিশের গুলি: আহত ১৫
মনিরুজ্জামান সুমন,ঝিনাইদহ : স্কুলের স্থান পরিবর্তন নিয়ে সোমবার সকালে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা গ্রামে দু’দল গ্রামবাসির সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ গুলি চালালে ১৫ জনসহ আট জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বাটিকাডাঙ্গা গ্রামের ছব্দুল, চুয়াডাঙ্গা গ্রামের শফি, বাবুল, রিয়াজ, ফেলা, সাব্বির, শাহিন, ওমর আলী ও সমির আলীর পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকীদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে ছব্দুল, বাবুল ও রিয়াজ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রিয়াজ, বাবুল ও ছবদুল ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে মকবুল, শফিসহ ৫ জনকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় বলে চুয়াডাঙ্গা গ্রামের রুবেল হোসেন জানান। সংঘর্ষের সময় বি.সি.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব আলীসহ ৮ জনের দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট এবং ভাংচুর করা হয়। এছাড়া কলা গাছ, আম, মেহগনি, লাউ ও কপির ক্ষেত তছরুপ করে কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট করা হয়।
প্রত্যাক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভোমরাডাঙ্গা গ্রামের খোকনের নেতৃত্বে লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে চুয়াডাঙ্গা বাজারে হামলা চালায়। এ সময় বাজারের লোকজন প্রতিরোধ করলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে ভোমরাডাঙ্গা, বাটিকাডাঙ্গা ও চুয়াডাঙ্গা গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে কোটচাঁদপুরের দোড়া ইউনিয়নের লক্ষিপুর পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ শরিয়তুল্লার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেলে পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের কমবেশি ১৫ জন আহত হন।
পুলিশের গুলিতে আহতরা অভিযোগ করেন, লক্ষিপুর পুলিশ ফাড়ির আইসি শরিয়তুল্লা ভোমরাডাঙ্গা গ্রামের লোকজনের পক্ষ নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর গুলি চালিয়েছে। গ্রামবাসির ভাষ্যমতে পুলিশ শতাধীক রাউন্ড সটগানের গুলি ছুড়েছে। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলে, পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রামবাসি বোমা ছুড়ে মারার পরই ৯ রাউন্ড সটগানের গুলি ছোড়া হয়। এদিকে সংঘর্ষের সময় পুলিশের উপস্থিতে ভোমরাডাঙ্গা গ্রামের লোকজন চুয়াডাঙ্গা বাজারে অবস্থিত ইয়াকুব, রিয়াজ, সেলিম, কোরবান, তক্কেল, নজরুল, মনিরুল, লালচাঁদ ও সানাজুলের দোকান ভাংচুর করে। এতে কোটি টাকা মুল্যের জিনিস নষ্ট হয়। প্রতিপক্ষরা মসিয়ারের কলা ক্ষেত, ইয়াকুব জোয়ারদারের কপি ক্ষেত, আম ও মেহগনি গাছ এবং দাউদ হোসেনের লাউ ক্ষেত কেটে দেয় বলে অভিযোগ করেন।
স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব আলী অভিযোগ করেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ ভোমরাডাঙ্গা গ্রামের খোকন, মসিয়ার মাষ্টার, ইব্রাহিম, আনারুল ও মহিদুল স্কুলটির অবস্থানের নাম করণ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি করে। তাদের ইন্ধনেই সোমবার আমাদের উপর পুলিশ দিয়ে হামলা চালায় এবং দোকান ভাংচুর করে লুটপাট চালায়। বিষয়টি নিয়ে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহম্মেদ কবীর জানান, সতের বছর আগে ভোমরাডাঙ্গা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত বি.সি.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম করণ নিয়ে আগে থেকে তিন গ্রামের মানুষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো। সেই বিরোধের সুত্র ধরে সোমবার সংঘর্ষের সুত্রপাত ঘটে। তিনি আরো জানান, সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ৯ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। সকালের দিকে গুলিতে কেউ আহত হয়নি বলে দাবী করলেও বিকালে তিনি বলেন পুলিশের প্রতি বোমা ছুড়ে মারলে পুলিশ গুলি চালায়। এ ঘটনায় কমবেশি কয়েকজন আহত হতে পারে। আহতদের নাম জানিনা। ওসি জানান, তিনি এখন ঘটনাস্থলে রয়েছেন। পরিস্থিতি পুলিশের সম্পুর্ন নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।
