দক্ষিণ ইয়েমেনের বন্দরনগরী আল কায়েদার দখলে
আরবীয় উপদ্বীপের আল-কায়েদা গেরিলারা দক্ষিণ ইয়েমেনের এক বিমানবন্দর নিজেদের দখলে নিয়েছে। দেশটির দাপ্তরিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দক্ষিণ ইয়েমেনের হাদরামওত প্রদেশের মুকাল্লা শহরের বিমানবন্দর দখলের প্রাক্কালে নগর প্রতিরক্ষাবাহিনীর সদস্যেরা পালিয়ে যায়। শহরটি অরক্ষিত হয়ে পড়ায় সহজেই বিমানবন্দরটির দখল নিতে সমর্থ হয় আরব উপদ্বীপের আল-কায়েদা। মুকাল্লা ইয়েমেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী। বিমানবন্দর দখল ছাড়াও আল-কায়েদা যোদ্ধারা কারাগারগুলো থেকে আটক দলীয় কর্মীদের মুক্তি দেয়। এরপর আরও একটি অংশ শহরের নৌবন্দর ও তেলক্ষেত্রটি দখল করে নেয়। সব মিলিয়ে এ মুহূর্তে মুকাল্লা শহর আল-কায়েদার করায়ত্ব। দেখা যাচ্ছে- সৌদি আরবের হামলা সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বে ঠেকাতে কোনো ভূমিকাই রাখতে পারছে না। মন্তব্য ইয়েমেনের উপ-রাষ্ট্রপতি খালেদ বাহা’র। এ অবস্থায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দেশটিতে স্থল-অভিযান পরিচালনার কথা ভাবছিল। বাহা তাতে বাধ সেধেছেন। বলছেন, এসব ফলপ্রসূ হবে না। যুদ্ধের পরিধি বাড়ানো নয়- বরং কমানোর দিকেই বাহার মত। তবে সৌদি মিত্রশক্তি তা কতটুকু অবলম্বন করবে সেটি দেখার বিষয়। আল-কায়েদার মতো চরমপন্থী সুন্নি সংগঠন শিয়া-মতাবলম্বী হুতি বিপ্লবীদের বিরোধী অবস্থান নিতে যাচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত নয়।
এদিকে ইয়েমেনের লড়াই আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি। তিনি আরও বলেন, “ইয়েমেনে হামলা চালানো থেকে সৌদি আরবকে বিরত করা কঠিন হতে পারে।” মঙ্গলবার আবাদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আব্দ-রাব্বু মনসুর হাদিকে দেশত্যাগে বাধ্য করে রাজধানী সানাসহ প্রায় পুরো ইয়েমেন দখল করে নিয়েছে ইরানপন্থী শিয়া হুতি বিদ্রোহীরা। এই বিদ্রোহীদের দমন করতে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ইয়েমেনে বিমান হামলা পরিচালনা করছে হাদিকে সমর্থন করা সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলো। দেশ ত্যাগ করে সৌদি রাজধানী রিয়াদে আশ্রয় নিয়েছেন হাদি। তিনি বলেন, “এটি (ইয়েমেনের লড়াই) পুরো অঞ্চলকে আরেকটি সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। এই অঞ্চলে আর একটি সাম্প্রদায়িক লড়াই আমরা চাই না।” ইরাক ও ইয়েমেন, উভয় জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র বেশ বেকায়দায় রয়েছে। ইরাকে সুন্নি ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র আবাদির শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে। এতে ইরাকে ইরান সমর্থিত যোদ্ধাদেরও সমর্থনে বাধ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অপরদিকে ইয়েমেনে ইরানসমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান মিত্র সুন্নি সৌদি আরবকে সমর্থন দিচ্ছে। মিত্র সৌদিদের ব্যাপক গোয়েন্দা সহযোগিতা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কিছুটা অস্বস্তির সঙ্গে আবাদি যুক্তরাষ্ট্রের এই দ্বৈত অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন।
