Connecting You with the Truth
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

- Advertisement -

হারিয়ে যাবার পথে নড়াইলের কুমার সম্প্রদায়: অধিকাংশই পেশা পরিবর্তন করেছেন, জীবিকার সন্ধানে ভারতে পাড়ি জমিয়েছেন অনেকে

mritshilpoউজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: কৃষিপ্রধান নড়াইল জেলায় একসময় নদীর পাড়ে পাড়ে গড়ে উঠেছিলো কুমার পল্লী । স্থানীয় ভাষায় এই পাল রা-ই মাটির তৈজষপত্রের চাহিদা মেটাতো জেলা থেকে জেলার বাইরের মানুষের । কালের বিবর্তনে মাটির তৈরী হাড়ি পাতিলের চাহিদা কমতে থাকে তার জায়গা দখল করে নেয় অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিক-মেলামাইন সামগ্রী । এক সময়ের রান্নাঘরের হাড়ি, কড়াই, বদনা, ঢাকুন, ফুলের টব, কলস, ঠিলে, পিঠার ছাচ, মুড়ি ভাজার সামগ্রী তৈরী করে গৃহস্থালীর চাহিদা মেটানো সেই সব কুমোরদের অধিকাংশরই চাকা ( মাটির সামগ্রী তৈরী করা যন্ত্র) বন্ধ । এর মধ্যে পেশা পরিবর্তন করে দিন মজুর, স্বর্নকার কিম্বা ভ্যান চালিয়ে জীবীকা নির্বাহ করছে, অনেকেই জীবিকার সন্ধানে ভিটা মাটি বিক্রি করে ভারতে পাড়ি জমিয়েছেন । বিস্তারিত উজ্জ্বল রায়ের রিপোর্টে একসময় নড়াইল জেলায় কুড়ালিয়া, রতডাঙ্গা, বাধাল, চন্ডীবরপুর, নোয়াগ্রাম, রায়গ্রাম, জয়পুর , মল্লিকপুর, শিয়েরবর, রাজপুর, ধানাইড়, লাহুড়িয়া, জয়নগর, মাছিমদিয়া, শ্রীফলতলা, মাইজপাড়া, দলজিতপুর, কমলাপুর, শিখালী গ্রাম সহ প্রায় প্রত্যেক ইউনিয়নেই অন্ততঃ ৩ হাজার কুমার পরিবারের বাস ছিলো । আজ তা হয়ে দাড়িয়েছে ৪শ থেকে সাড়ে ৪শ পরিবারে ।

নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের রায়গ্রাম নবগঙ্গা নদীর পাড়ে ১০ বছর আগে ৪০ টি পাল পরিবার (কুমার) ছিলো এখন আছে ২০ টি । এরমধ্যে ১২ জনের বাড়িতে কাজ হয় বাকিরা পেশা পরিবর্তন করে ফেলেছে । আর ২০ পরিবার এলাকা ছেড়ে ভারতে পাড়ি জমিয়েছে । নিজেদের পৈত্রিক পেশা ধরে রেখে কষ্টে জীবন যাপন করা বাবু পাল, বাসুদেব পাল, নির্মল পাল, সুবোধ পাল জানান, আগামী ৫/৭ বছর পরে তারা ও এ কাজ ছেড়ে দিবেন । জেলায় সঠিক কুমার পরিবার ও তাদের সংখ্যা সরকারী কিম্বা বেসরকারী কোথাও লিপিবদ্ধ নেই । এ রকম একটি ঐতিহ্যবাহী পেশা আগামী ১০ বছরের মধ্যে হারিয়ে যাবার আশংকায় এখনই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন জেলার সচেতন মহল।
নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের রায়খালী গ্রামের অনীল পাল জানান, নতুন কেউ এ কাজ শিখছে না ,তাই আগামীতে কুমারের চাকা ঘোরোনোর মত কেউ থাকবে না। তিনি আরও বলেন বর্তমানে প্লাস্টিক ও সিলভার এসে মাটির তৈরী জিনিসের দাম কমে গেছে । আগামীতে এই কাজ করে আমাদের পোষাবে না তাই ছেড়ে দেব । নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের রায়খালী গ্রামের সুবাস পাল জানান, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম যেভাবে বেড়েছে সে তুলনায় মাটির জিনিসের দাম বাড়েনি, আমাদের দিকে সরকারের কোন নজর নাই। আমরা দিন দিন শেষ হয়ে যাচ্ছি ইচ্ছা থাকলেও বাবা ঠাকুরদাদের পেশা ধরে রাখতে পারছিনা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.