Connect with us

সারাদেশ

অপেক্ষার প্রহর কাটিয়ে দেখা দিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা

Published

on

অপেক্ষার প্রহর কাটিয়ে দেখা দিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা
পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের প্রান্তিক জেলা পঞ্চগড়ে খালি চোখেই দেখা মিলছে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ। চলতি মৌসুমে ৮ হাজার মিটারেরও অধিক উচ্চতা এই পর্বতের রূপে মুগ্ধ হয়ে পড়েছে পর্যটকেরা।

সোমবার (১৭ অক্টোবর) সকালে জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দেখা যায় শ্রেত শুভ্র আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘা।

জানা যায়, কাঞ্চনজঙ্ঘা ভারতের অন্যতম এক সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। ১৮৫২ সালের আগে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ বলেই ধারণা করা হত কাঞ্চনজঙ্ঘাকে। বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া। কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়া দেখতে গেলে যেতে হয় ভারতের সিকিম ও দার্জিলিয়ে। কিন্তু বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের প্রান্তি জেলা পঞ্চগড়ে চলতি মৌসুমের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে পশ্চিমের মেঘ মুক্ত শুভ্র আকাশে উকি দিয়েছে বিশ্বেও তৃতীয় এই পর্বত শৃঙ্গ। এর আগে গত কয়েকদিন ধরে আকাশ মেঘলা ও ঘনকুয়াশা থাকায় অক্টোবরের শুরু থেকে দেখা মিলেনি কাঞ্চনজঙ্ঘার।

এদিকে এই কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর রূপ দেখতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় জড়ো হচ্ছেন পর্যটকেরা।

ভারতের সিকিম ও নেপালের সীমান্তাঞ্চলে অবস্থিত এ পর্বতের চূড়া অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মেঘমুক্ত আকাশে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে দেখা যায়। খুব ভোরে অর্থাৎ সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যেই দৃশ্যমান হয় কাঞ্চনঝঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। প্রতিবছরই শীত এলে হিমালয়ের এই পর্বতশৃঙ্গের দেখা মেলে। তবে প্রতিদিনই যে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মিলবে তা কিন্তু নয়। পর্যটকের বলছেন পরিবার নিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার জন্য ছুটে এসেছেন তেঁতুলিয়ায়।

আসমা বেগম নামে একজন পর্যটক জানান, আজ হঠাৎ এসে দেখা মিলল কাঙ্খিত সেই পর্বত। অনেক ভালো লাগছে পর্বতটি দেখে। এর আগের মৌসুমে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছিল। এমন একটি পর্বত খালি চোখে দেখতে পারবো তা ভাবতে পারি নি। আসলে সৌভাগ্য যে কোন পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াই পর্বতটি দেখতে পেরেছি।

দিনাজপুর থেকে ঘুরতে আসা আব্দুস সামাদ জানান, প্রতিবারে ঘুরতে আসি তেঁতুলিয়ায়। গত কয়েকদিন ধরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য অপেক্ষা করছি। আজ অবশেষে দেখতে পারলাম।

হাসনাত জামান নামে আরও একজন পর্যটক জানান, কল্পনার চেয়ে অধীক সুন্দর দেখতে এই কাঞ্চনজঙ্ঘা। দেখতে খুব ভালো লাগছে।

এ বিষয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশ পঞ্চগড় জোনের পুলিশ পরিদর্শক সিরাজুল ইসলামের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, বিনোদন প্রেমিদের একটি পছন্দের স্থান তেঁতুলিয়া। বিশেষ করে শীত মৌসুমে। আর এই সময়ের পর্যটকদের কাছে অতি প্রিয় কাঞ্চনজঙ্ঘা। এর পাশাপাশি আরও বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। আমরা পর্যটকদের সুরক্ষা ও সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছি। আমরা তাদের যেকোন সমস্যায় কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের ট্যুরিস্ট পুলিশ টিম মাঠে তৎপর রয়েছে।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউওনও) সোহাগ চন্দ্র সাহা জানান, আজ মেঘমুক্ত ও কুয়াশা মুক্ত আকাশে দেখা গেছে কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত। এই পর্বত দেখতে প্রতিবছর এই সময়ে অনেক পর্যটক তেঁতুলিয়ায় ঘুরতে আসেন। আমরা ট্যুরিযম বিষয়টি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এবং পর্যটকরা যেন পরিবার নিয়ে ভালো ভাবে তেঁতুলিয়া ঘুরতে পারে তার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবে সামনের দিকে আরও ভালো ভাবে দেখা মিলবে বলে মনে করছি আমরা।

কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে যেভাবে যাবেন: প্রথমেই বলে রাখি। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার মুখ্যম সময় অক্টোবর থেকে নভেম্বর। আর এর মাঝে আকাশ মেঘমুক্ত ও কুয়াশা মুক্ত থাকলে দেখা মিলে এই পর্বত। ঢাকা থেকে ট্রেন বা বাসে করে সরাসরি তেঁতুলিয়ায় যাওয়া যায়। তবে ভাগ্যে থাকলে এই দুই মাসের মধ্যে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা মিলে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সারাদেশ

ঈশ্বরদীতে ২৫ হাজার টাকা ঋণের মামলায় ১২ কৃষক জেলে

Published

on

দেশজুড়ে ডেস্ক:
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে করা একটি মামলায় ৩৭ জন কৃষকের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালত। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে গদতকাল সকাল পর্যন্ত তাদের মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার কৃষকদের বরাত দিয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ বলেছে, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক নামের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছিলেন ওই কৃষকেরা। ঋণের টাকা পরিশোধ করার পরও তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের জেলা কার্যালয় পাবনা শহরের এলএমবি মার্কেটে। এ বিষয়ে গতকাল দুপুরে সেখানে গিয়ে ওই কার্যালয় বন্ধ পাওয়া যায়।

গ্রেপ্তার ১২ কৃষক হলেন, উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারি গ্রামের শুকুর প্রামাণিকের ছেলে আলম প্রামাণিক (৫০), মনি মণ্ডলের ছেলে মাহাতাব মণ্ডল (৪৫), মৃত সোবহান মণ্ডলের ছেলে আবদুল গণি মণ্ডল (৫০), কামাল প্রামাণিকের ছেলে শামীম হোসেন (৪৫), মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে সামাদ প্রামাণিক (৪৩), মৃত সামির উদ্দিনের ছেলে নূর বক্স (৪৫), রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আকরাম (৪৬), লালু খাঁর ছেলে মোহাম্মদ রজব আলী (৪০), মৃত কোরবান আলীর ছেলে কিতাব আলী (৫০), হারেজ মিয়ার ছেলে হান্নান মিয়া (৪৩), মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ মজনু (৪০) ও মৃত আখের উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান (৫০)। তারা সবাই প্রান্তিক কৃষক।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক থেকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে ঋণ নিয়েছিলেন ৩৭ জন কৃষক। এই ঋণ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে ২০২১ সালে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই থানা–পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার বলেন, ২০২১ সালে ওই ৩৭ কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পরে আদালত গত বুধবার তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর ভিত্তিতে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কৃষকেরা দাবি করেন, তারা ঋণের টাকা পরিশোধ করেছেন। এরপর কেন মামলা হলো, তা তারা জানেন না। সূত্র: প্রথম আলো।

Continue Reading

সারাদেশ

নাটোরে ইমো হ্যাকিং চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

Published

on

ডেস্ক রিপোর্ট:

নাটোরের লালপুর উপজেলা থেকে ইমো হ্যাকিং চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বিলমারিয়া বাজার থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মৃত শামসেদ মন্ডলের ছেলে মো. বেলাল মন্ডল (২৯), মো. শাহাবুল ইসলামের ছেলে মো. মেহেদী হাসান (২৪), মো. মঞ্জুর রহমানের ছেলে মো. মোহন সরকার (১৯), মো. মাজদার প্রামানিকর ছেলে মো. শিমুল আলী (১৯), মো. নূর আলম সরকারের ছেলে মো. শাহ পরান সরকার (১৯), মো. ইয়াসিন আলীর ছেলে মো. রবি (২২) এবং মো. রিফাজ মন্ডলের ছেলে মো. রুবেল মন্ডল (৩২)। শুক্রবার র‌্যাব নাটোর ক্যাম্পের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন জানান, ওয়াসিমের চাচাতো ভাই মনিরুল ইসলামের সৌদি আরব থাকেন।

ওয়াসিমের ইমো আইডি থেকে মনিরুলের কাছে শ্রমিকের বিল দেওয়ার জন্য একটি বার্তা আসে এবং একটি বিকাশ নম্বর দেওয়া হয়। মনিরুল ইসলাম সরল বিশ্বাসে ওই বিকাশ নম্বরে ২১ হাজার ৫০০ টাকা পাঠান। পরবর্তীতে তার চাচাতো ভাইয়ের ইমো আইডি থেকে বেশ কিছু বিকাশ নম্বর পাঠিয়ে টাকা দিতে বলা হয়। মনিরুল ইসলাম একইভাবে ওই বিকাশ নম্বরগুলোতে মোট ১ লাখ ২০ হাজার ৮৬০ টাকা পাঠান।

কিছুদিন পর তার চাচাতো ভাই তাকে ফোন করে জানান, তার ব্যবহৃত ইমো অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে। তখন মনিরুল বুঝতে পারেন প্রতারক চক্র তার কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। তিনি বিষয়টি র‌্যাবকে জানান। র‌্যাব অভিযান চালিয়ে সেই সংঘবদ্ধ ইমো হ্যাকিং চক্রের সাত সদস্যকে আটক করে। এ ঘটনায় লালপুর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা হয়।

Continue Reading

Highlights

কেরুর বিষাক্ত বর্জ্যের পানিতে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ, মশার উপদ্রব

Published

on

কেরুর বিষাক্ত বর্জ্যের পানিতে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ, মশার উপদ্রব

কেরুর বিষাক্ত বর্জ্যের পানিতে ৪ মাস ধরে বন্দি হয়ে আছে মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়। এতে করে একদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের যেমন করা হচ্ছে অবমাননা অপরদিকে বিঘ্ন হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধােদের কার্যক্রম। চোখের সামনে ৪ মাস ধরে পানি বন্দী থাকলেও দিবা ঘুমে আছন্ন কেরুর কর্মকর্ত কর্মচারীরা। মুক্তিযোদ্ধা কোটার দাবিতে আন্দোলন করার খেশারত কিনা সে রহস্য খুজে পাচ্ছেন না মুক্তিযোদ্ধা সন্তানসহ সচেতন মহল।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ চিনিকল ও ডিস্টিলারি। কেরু এন্ড কোম্পানির বর্জ্যের দুর্গন্ধে এলাকাজুড়ে মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষণ ঘটছে। স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে চিনিকলের আশপাশ এলাকার হাজার হাজার মানুষ। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা- কর্মচারিদের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার কারণে এমন পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

জানা গেছে, কেরু এন্ড কোম্পানির জৈবসার তৈরির কাঁচামাল চিনিকল ও ডিস্টিলারির বর্জ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণের অভাব মিলের বর্জ্যপানি নিষ্কাশন লাইনের পাইপ ফেটে নোংড়া পানি বের হয়ে বিভিন্ন এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় মারাত্মকভাবে পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে শহরে বসবাসকারী লক্ষাধিক মানুষ। প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের সময় মিলের মানুষ তরল বর্জ্য ও মিলের যন্ত্রপাতি ধোয়ামোছাসহ আবাসিক এলাকার নোংরা পানি নিষ্কাশনের জন্য চিনিকল থেকে মাথাভাঙ্গা নদী পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পাইপ লাইন বসানো হয়েছিলো। এ পাইপ লাইনটি দীর্ঘদিনের পুরাতন হওয়ায় পাইপের বিভিন্ন অংশ ফেটে ও ভেঙ্গে মিলের তরল বর্জ্যসহ নোংড়া পানি বের হয়ে গোটা এলাকায় মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। কয়েক বছর আগে চিনিকল কর্তৃপক্ষ টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে পাইপ লাইনটি মেরামত করে। মেরামতকালে চিনিকলের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দুর্নীতির করণে নিয়োজিত ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করার ফলে সংস্কারের কিছুদিনের মাথায় পাইপটি ফাটল দেখা দেয়। আবারোও পাইপ লাইনের বিভিন্ন স্থানে ফাঁটল ধরে আগের অবস্থায় ফিরে গিয়ে অসহনীয় দুর্গন্ধে অতিষ্ট করে তুলেছে দর্শনা শহরবাসীকে। এর ফলে পথচারিরাও পড়ছে বিপাকে। দুর্গন্ধের কারনে কেরু এলাকা ছাড়াও শহরের আনোয়ারপুর, শান্তিপাড়া, পাঠানপাড়া, মোবারকপাড়া, ইসলামবাজার, পুনাতনবাজার, মহম্মদপুর, আজমপুরসহ গোটা শহর জুড়ে মারাত্মকভাবে বায়ুদূষন ঘটছে। ফলে বায়ুদুষনজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এলাকায় বসবাসকারী মানুষ।

সরেজমিনে কেরুজ বাজারমাঠ সংলগ্ন এলাকা ও মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নোংড়া পানি উপচে গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেই পানি থেকে বের হচ্ছে পচা দূর্গন্ধ। ছড়িয়ে পড়া এই পানিতে জন্ম নেয়া মশা-মাছি দেখে মনে হয়েছে কেরু কোম্পানি চিনি ও স্পিরিট উৎপাদনের পাশাপাশি মশা-মাছিরও উৎপাদন শুরু হয়েছে। এর ফলে বাড়তে পারে ডেঙ্গু মশার উৎপাত। এমন পরিস্থিতিতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে চিনিকলের আশপাশ এলাকার হাজার হাজার মানুষ। একটি রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠানের কারণে এলাকায়
এভাবে পরিবেশ দূষণের ঘটনায় জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। দীর্ঘদিন থেকে এ অবস্থা চলতে থাকলেও যেন দেখার কেউ নেই। পরিবেশদূষণ রোধে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলী বলেন আমরা দির্ঘদীন ধরে অফিসের ভিতর বর্জ্য পানি থাকার কারণে আমাদের কার্যক্রম করতে পারছি না। আমাদেরকে রিতিমত অবমাননা করছে কেরু চিনিকল কতৃপক্ষ। তবে আমি কেরু এ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনকে বিষয়টি জানানোর পর তিনি অতিসত্বর ঠিক করে দেবে বলে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কেরু এ্যান্ড কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) শেখ মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, বাজারমাঠ সংলগ্ন এলাকায় বর্ডার পানি বের হচ্ছে এমন খবর কেও আমাকে জানায়নি, আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমাকে জানালে ব্যবস্থা নিতাম। ওই এলাকার পানিনিষ্কাশনের লাইন পৌরসভার ড্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। আমি যতদুর জানি ড্রেনের কাজ শুরু হয়নি ফলে পানি ওভারফ্লু হয়ে রাস্তায় চলে এসেছে। আর মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয়ের সামনে আমরা মাটি ভরাটের কাজ শুরু করবো, বাজেট হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে কেরু এ্যান্ড কোম্পানির ব্যাবস্হাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

Continue Reading