‘অতীতের ভুলের’ জন্য ক্ষমা চাইলেন অনুপ চেটিয়া
‘অতীতের ভুলের’ জন্য আসামের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে উলফা’র শীর্ষনেতা অনুপ চেটিয়া জানিয়েছেন শান্তি আলোচনার জন্য তিনি প্রস্তুত। একাধিক খুন, অপহরণ, হুমকি-ভয় দেখিয়ে টাকা তোলার দায়ে অভিযুক্ত সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক চেটিয়া বলেছেন, ‘আমাদের অতীতের ভুলের জন্য আমি আসামের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইছি।’ ১৫-বছর বাংলাদেশের জেলে থাকার পর গত মাসেই চেটিয়াকে ভারতের হাতে তুলে দেয় বাংলাদেশ সরকার।
কেন্দ্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই উলফা ধারাবাহিকভাবে চেটিয়াকে দেশে ফেরানোর দাবি জানিয়ে এসেছে। বি জে পি ক্ষমতায় আসার পর সেই দাবি আরও জোরালো হয়। শেষে তাকে সিবিআই-র হাতে ‘প্রত্যার্পণ’ করে বাংলাদেশ। সোমবার বিশেষ টাডা আদালত থেকে বেরিয়ে আসার সময় চেটিয়া বলেন, ‘আমাদের বিদ্রোহের বিরোধিতা করতে গিয়ে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’ শান্তি আলোচনায় তার সমর্থন করা হলে চেটিয়া বলেন, ‘অনেকেই সন্দেহ করেছিলেন আমি হয়তো শান্তি আলোচনার (সরকারের সঙ্গে) পক্ষে নই। অনেকে সন্দেহ করেছিলেন আমি হয়তো পালিয়ে যাব। কিন্তু আমি শান্তি আলোচনার পক্ষে।’
‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈর কাছে আমি কৃতজ্ঞ, যারা আমাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন।’ বলেছেন চেটিয়া।
নভেম্বরে মেঘালয়ে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চল দাওকি দিয়ে এই নেতাকে নিয়ে আসা হয়। ওই রাতে চেটিয়ার দুই সঙ্গী বাবুল শর্মা এবং সৈকত শর্মাকেও ভারতের হাতে তুলে দেয় বাংলাদেশের সরকার। ১৯৯১ সালে মুক্তি পেয়েই পালিয়ে যায় গোলাপ বড়ুয়া ওরফে অনুপ চেটিয়া। দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে থাকার পর ১৯৯৭ সালের ২১ ডিসেম্বর মাসে ঢাকার কাছে তাকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশের পুলিশ। তার কাছ থেকে জাল পাসপোর্ট, জাল বিদেশি মুদ্রাসহ আগ্নেয়াস্ত্র ও স্যাটেলাইট ফোন উদ্ধার হয়। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আদালতকে ৭বছরের কারাদণ্ড দেয়। কিন্তু জেলের মধ্যেই খুন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে আদালতে আবেদন করে চেটিয়া। ২০০৩ সালে বাংলাদেশের হাইকোর্ট তার এই আবেদন অনুমোদন করে। সাত বছর কারাবাস শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ২০০৫, ২০০৮ এবং ২০১১ সালে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে অনুপ চেটিয়ার আবেদন মঞ্জুর করে বাংলাদেশের প্রশাসন। জেলের মধ্য থেকেই চেটিয়া উলফার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত বলে ভারতের অভিযোগ। চেটিয়ার সঙ্গেই তার স্ত্রী রানি আখতার ওরফে মনিকা, ছেলে জুমান এবং মেয়ে বন্যা বাংলাদেশের আশ্রয়ে ছিল। গত বছর মনিকা ও তার ছেলে, মেয়ে আসামে ফিরে আসে।
‘বিপ্লব কোনো নেতার ওপর নির্ভর করে না’ এদিকে উলফার কমান্ডার ইন চিফ পরেশ বড়ুয়া বলেছেন, একক কোনো নেতার ওপর বিপ্লব নির্ভর করে না। আসাম ট্রিবিউনের সঙ্গে টেলিফোনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, তাদের লড়াই স্বাধীনতার জন্য।এই সংগ্রাম কোনো নেতার ওপর নির্ভর করে নয়।
পরেশ বড়ুয়া বলেন, উলফা চারবার তাদের চেয়ারম্যান পরিবর্তন করেছে।চতুর্থ চেয়ারম্যান হলেন অভিজিৎ হাজারিকা। তিনি বলেন, ২০১০ সালে কয়েকজন সিনিয়র নেতা গ্রেফতার এবং সরকারের সঙ্গে তাদের আলোচনা শুরু হওয়ায় অনেকে ভেবেছিল উলফা শেষ হয়ে যাবে।কিন্তু উলফা টিকে আছে এবং নিজেদের কাজ ভালোভাবেই চালিয়ে নিচ্ছে।
আসামের সাবেক ডিরেক্টর অব পুলিশ জিএম শ্রীবাস্তব দাবি করেন, দলের সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়া যদি শান্তি আলোচনায় যোগ দেন তাহলে পরেশ বড়ুয়া সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যাবেন।
পরেশ বড়ুয়া বলছেন, উলফা গঠনের সময় তিনি ও চেটিয়া উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “ আমি এবং চক্র গোহেন ছিলাম দুই ব্যক্তি যারা উলফার পক্ষে সশস্র সংগ্রাম শুরু করি। কিন্তু চক্র বেশিদিন উলফায় ছিলেন না।”
ওই টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বড়ুয়া আরো বলেন, “আমার জীবদ্দশায় হয়তো লক্ষে পৌঁছতে পারব না, কিন্তু নতুন প্রজন্ম এই লড়াই চালিয়ে নেবে।”



