আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাচ্ছেন ম্যাককালাম
স্পোর্টস ডেস্ক: আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেশের মাটিতে সিরিজ শেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।
হ্যামিল্টনে গত সোমবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ৫ উইকেটের জয় পায় নিউ জিল্যান্ড। দুই টেস্টের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জেতার পরের দিন ক্রাইস্টচার্চে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন ম্যাককালাম।
আগামী বছরের মার্চে ভারতে আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে খেলবেন না নিউ জিল্যান্ডের মারকুটে এই ব্যাটসম্যান। বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেবেন কেন উইলিয়ামসন।
ওয়েলিংটনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলবে নিউ জিল্যান্ড। ম্যাচটি হবে ম্যাককালামের ক্যারিয়ারে শততম টেস্ট। অভিষেক থেকে টানা ১০০ টেস্ট খেলা প্রথম ক্রিকেটার হয়ে যাবেন তিনি।
ক্রাইস্টচার্চে ২০ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া দ্বিতীয় টেস্ট খেলে বিদায় নেবেন ম্যাককালাম।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ শেষেই অবসরের ঘোষণা দিতে চেয়েছিলেন ম্যাককালাম। তবে আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির জন্য নিউ জিল্যান্ডের দল দেওয়ার সময় চলে এসেছে বলে বিষয়টি আগেই ঘোষণা করতে হয়েছে তাকে। কারণ তখন ম্যাককালাম দলে না থাকলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
“ব্ল্যাকক্যাপসের হয়ে খেলা আর অধিনায়কত্ব করতে পারার সুযোগ পাওয়ায় আমি আনন্দিত। কিন্তু সব ভালো জিনিসেরই শেষ আছে এবং দেশের হয়ে খেলতে পারার অসাধারণ অভিজ্ঞতার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
রস টেইলরকে অধিনায়কের পদ থেকে বরখাস্ত করার বিতর্কের মধ্যেই নিউ জিল্যান্ড দলের নেতৃত্ব নেন ম্যাককালাম। ২০১৩ সালের শুরুতে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্ট সিরিজটা খুব বাজে কাটে তার। সেই সিরিজে কেপ টাউনে এক ইনিংসে ৪৫ রানে অলআউট হয় নিউ জিল্যান্ড। এছাড়া দুটি ইনিংস হারের তিক্ত অভিজ্ঞতাও হয় তাদের।
এর পর থেকে অবশ্য ম্যাককালামের নেতৃত্বে ভালো করে নিউ জিল্যান্ড। দলে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার মানসিকতা সঞ্চার করেন ম্যাককালামই। আর এটা তাদের সাফল্যও এনে দেয়, বিশেষ করে ঘরের মাঠে।
হ্যামিল্টনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ে নিজেদের একটা শীর্ষবিন্দু স্পর্শ করে নিউ জিল্যান্ড। দেশের মাটিতে টানা ১৩ টেস্ট অপরাজিত থাকল কিউইরা। সবশেষ হেরেছিল তারা ২০১২ সালের মার্চে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই হ্যামিল্টনেই।
দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া ২৯ টেস্টের ১১টিতেই জেতেন ম্যাককালাম। নিউ জিল্যান্ডের অধিনায়কদের মধ্যে জয়ের শতকরা হার তারই বেশি। ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময়েই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে গেছেন ম্যাককালাম। বেশিরভাগ সময়ই টেস্টে মিডলঅর্ডার আর ওয়ানডেতে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন তিনি।
গত বছর ওয়েলিংটনে ভারতের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি করেন ম্যাককালাম। নিউ জিল্যান্ডের কোনো ব্যাটসম্যানেরও এটা প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি। এক বর্ষপঞ্জিতে এক হাজার রানের মাইলফলক অতিক্রম করা প্রথম কিউই ব্যাটসম্যানও তিনিই। এই সাফল্যও গত বছরই পান ম্যাককালাম।
অ্যাডাম গিলক্রিস্টের সঙ্গে যৌথভাবে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডের মালিক ম্যাককালাম তার ক্যারিয়ারে ৬ হাজার ২৭৩ রান করেন। টেস্ট ক্রিকেটে ১১টি শতক আছে তার।
এ পর্যন্ত খেলা ৯৯ টেস্টের ৫২টিতে উইকেটরক্ষক হিসেবে খেলেন ম্যাককালাম। টেস্ট ক্রিকেটে ১৯৪টি ক্যাচের পাশে ১১টি স্টাম্পিং করেন তিনি।
২৫৪টি ওয়ানডে খেলে ৫ হাজার ৯০৯ করেন ম্যাককালাম। শতক করেন ৫টি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও দারুণ সফল তিনি। ৭১ ম্যাচ খেলে ২ হাজার ১৪০ রান করেন, শতক দুটি।


