কালকিনিতে চর্তুর মুখী প্রতিদন্দিতায় নির্বাচনী প্রচারনা
আশরাফুর রহমান, কালকিনি(মাদারীপুর) প্রতিনিধি : সারাদেশের ন্যায় মাদারীপুজেলার কালকিনি পৌরসভা নির্বাচন চলছে আনন্দ মূখর পরিবেশে। আওয়ামীলীগের ৪জন প্রার্থী হলেও এরা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড,আবদুস সোবাহান গোলাপ সমর্থীত আওয়ামী বিদ্রোহী প্রার্থী মো: আবুল কালাম আজাদ (জগ) মার্কায় প্রতিদন্দিতা করছেন, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের সমর্থীত ২জন স্বতন্ত্র প্রার্থী সরদার মোঃ লোকমান হোসেন (মোবাইল ফোন) ও মসিউর রহমান সবুজ (নারিকেল গাছ) ও বর্তমান এমপি আ,ফ,ম বাহাউদ্দিন নাছিমের আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী মো: এনায়েত হোসেন (নৌকা) বলে আওয়ামীলীগ নেতা-কমিরা জানিয়েছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মোঃ লুৎফর রহমান (হাত পাখা) নিয়ে নির্বাচন করছেন। উপজেলা বিএনপি কোন প্রার্থী দিতে পারেনী বলে তারা আওয়ামীলীগের প্রার্থীর জন্য মাঠে কাজ করছে এবং নৌকা মার্কায় ভোট চাইছে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচনী ময়দান শুধু উত্তপ্ত রয়েছে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলরদের জন্য। আওয়ামীলীগ প্রার্থী ক্ষমতার অপ-ব্যবহার করে কিছু আচরন বিধী লঙ্ঘন করলেও বিদ্রোহী প্রার্থীসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নেই কোন অভিযোগ। ৫/৬টি ভোট কেন্দ্র ঝুকিপুর্ন হলেও বাকি গুলো নিয়ে কোন প্রার্থীর অভিযোগ নেই। ৫জন প্রার্থী পৌরসভা নির্বাচনে অংশ গ্রহন করলেও ৪জনের অভিযোগ ওই ভোট কেন্দ্রের উপর বাকি গুলো সাভাবিক থাকবে বলে সকল প্রার্থীসহ এলাকাবাসী আসাবাদ ব্যক্ত করেন। ৫জন প্রার্থীর ৩জনই আওয়ামীলীগের পরিক্ষিত নেতা বলে স্থানীয় আ’লীগের নেতা-কর্মিরা জানিয়েছেন। আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর পরিবারের সকলে বিএনপি জামায়াতের দলীয় হলেও মোঃ এনায়েত হোসেন পৌর যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ছিলেন। গত পৌর নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করায় তাকে বহিস্কার করার পর তিনি দলের কোন সদস্যপদও লাভ করতে পারেনী। এবং তার উপর পৌরসভার কোটি কোটি টাকা আত্বসাধ করা এবং জেলা আ’লীগ কোটি টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন ক্রয় করে এনে দেয়ার অভিযোগ এনে স্থানীয় আওয়ামীলীগ তার মনোনয়ন নিয়ে একযোগে দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। এবং বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মোঃ আবুল কালাম আজাদকে মনোনয়নপত্র দাখিল করিয়ে ছিলেন। এনিয়ে কেন্দ্রীয় আ’লীগের মনোনয়ন বোর্ড ঢাকায় কালকিনি উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগ নেতাদের ডেকে ছিলেন। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ঢাকা থেকে কালকিনিতে ফিরে পৌর আওয়ামীলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মিদের বলে ছিলেন যেহেতু কালকিনিতে বিএনপি-জামাতের কোন প্রার্থী নেই সেহেতু ৪জনই আওয়ামীলীগ প্রার্থী বলে ঢাকা থেকে আমাদের জানিয়ে দিয়েছে। এবং তারা সকলে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন শুরু করলে আ’লীগ প্রার্থীর পরাজয় ভেবে গত ১৭ডিসেম্বর জেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক কাজল কৃষ্ণদের সাক্ষরিত পত্রে মোঃ আবুল কালাম আজাদ ও সরদার মোঃ লোকমান হোসেনকে বহিস্কার করেন। এর পর শুরু হয় গন বহিস্কার এক পর্যায়ে উপজেলা আ’লীগের সভাপতিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মিরা ফের আ’লীগের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিতে থাকেন। বর্তমানে দলের কিছু নেতা-কর্মি কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষেই অবস্থান নিয়ে নির্বাচন করছেন। এছাড়া যারা আ’লীগ প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করছেন তারা তাদের দলের ভাবমুর্তি রক্ষা করার জন্য লড়ছেন বলেও বিভিন্ন সুত্রে যানা যায়। এদিকে আনন্দমূখর পরিবেশে নির্বাচন চললেও পৌরবাসী মনে করেন ড, আবদুস সোবাহান গোলাপ সমর্থিত আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ আবুল কালাম আজাদ ও সৈয়দ আবুল হোসেন সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সরদার মোঃ লোকমান হোসেনের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত লড়াই হবে। আরো কিছু সুত্র জানায় সরদার মোঃ লোকমান হোসেন ও আওয়ামীলীগ প্রার্থী মোঃ এনায়েত হোসেনের মধ্যেও লড়াই হতে পারে। তবে বংশ কেন্দ্রিকও পুরানা আওয়ামীলীগ হিসেবে লোকমান হোসেনের সাথেই লড়াই হয়ে বলে মাঠে সোরগোল চলছে। তার পরও ৪জন প্রার্থীই ব্যপক আনন্দমূখর পরিবেশে প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে ৩০ডিসেম্বর কে জিতবে আর কে হারবে তাই এখন দেখার পালা। এদিকে নির্বাচনী ময়দান শুধু উত্তপ্ত রয়েছে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলরদের জন্য। আওয়ামী বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, তৃনমুল আওয়ামীলীগের সমর্থীত প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক ইমারত হোসেনের ছোট ভাই এনায়েত হোসেনকে সংসদ সদস্য আ,ফ,ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি তার ক্ষমতা বলে জেলা আওয়ামীলীগ দিয়ে মনোনয়ন দিয়েছে সেহেতু কালকিনি পৌরসভা আ’লীগের তৃনমূল নেতা-কর্মিরা আমাকে ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে জিতাবে বলে আমি আশাবাদী। পৌর মেয়র প্রার্থী স্বতন্ত্র সরদার মোঃ লোকমান হোসেন বলেন, আমি দলের নিকট মনোনয়ন চাইনি কারন চাইলেও পেতাম না। কালকিনিতে আওয়ামীলীগ বলতে গেলে আমরা কয়েকজন সংগঠন চাঙ্গা করেছিলাম। সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আলহাজ্ব সৈয়দ আবুল হোসেন ১৯৯১সালে আ’লীগের হাল ধরলেই সংগঠন পরিপুর্ণ ভাবে রুপ লাভ করে। কালকিনি পৌরসভা নির্বাচন বংশকেন্দ্রী হয়ে থাকে যেহেতু পৌরবাসী যানে আ’লীগে কাদের অবদান বেশী তাই আমি মনে করি তারা আমাকেই ভোট দিয়ে মেয়র বানাবে ইনশাআুল্লাহ।



