কালকিনিতে হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে চলছে ইটভাটার কাজ।
আশরাফুর রহমান কালকিনি(মাদারীপুর) প্রতিনিধি
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ডাসার থানার কাজিবাকাই ইউনিয়নের দক্ষিন ভাউতলী গ্রামে অবস্থিত এইচবিএম অবৈধ ইটভাটা তৈরীর কাজ বন্ধে গত ১৫ই ডিসেম্বর হাইকোর্ট এইচবিএম অবৈধ ইটভাটা বন্ধো রেখে হাইকোর্টে চলা মামলার জবাব ভুমি মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ১১ জননের বিরুদ্ধে ৬সপ্তার রোলজারী করেছিল হাইকোর্ট। ‘এইচবিএম’ ইটভাটার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন মামলা দায়ের করেছিলেন সংগঠনটির আইনজীবী ও সুপ্রীমকোর্টের এ্যাডভোকেট মো: ইকবাল কবির।রিট পিটিশন মামলা নং ১২১৭৮/১৪। অবৈধ ইটভাটাটি গত মে মাস ২০১৫ইং পর্যন্ত ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিয়মিত ভাবে ইটপোরানোর কাজ চালিয়ে যায়। এতে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় “হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে চলছে ইটভাটা” শিরোণামে খবর প্রকাশিত হলে তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ হেমায়েত উদ্দিন ও জেলা প্রশাসক মাদারীপুর জি এস এম জাফরউল্লাহ ১৯এপ্রিল ২০১৫ইং ইটভাটা সাময়ীক বন্ধ রয়েছে মর্মে হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন প্রেরন করে। অথচ তখনো ইটভাটার কায্যক্রম চলেছে। গত ১৩নভেম্বর ২০১৫ইং শুক্রবার বিকেলে ফের ইটভাটাটিতে ইট পোরানোর জন্য কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালানো হয়েছে। বর্তমানে ‘এইচবিএম’ ইটভাটার কায্যক্রম দ্রুত চলছে।
ভুক্তভোগি মোঃ জালাল সরদার, মোঃ কাবিল হোসেন, মোঃ , আমজেদ সরদার, ছত্তার হাওলাদার, ছত্তার খান ও সাহেদ আলী ঘরামীসহ শতাধিক ব্যাক্তি বলেন, গত বছর প্রশাসনের দারে দারে ঘুরেও কোন ফল পাইনি, এইচবিএম অবৈধ ইটভাটা বন্ধে হাইকোর্ট নিদের্শ দিলেও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তারা কার্যক্রম চালিয়ে গিয়েছে। এখন ফের ইটভাটার কাজ দ্রুত চলছে। আমরা গ্রামবাসি এই ইটভাটা বন্ধে উর্ধতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
উল্লেখ্য যে, আদম আলী হাওলাদার ২০০০সালে প্রথমে ফসলি জমি ক্রয় করে সেখানে গড়ে তোলেন তার হাওলাদার ব্রিকস ম্যানুফ্যাচার(এইচবিএম) ইটভাটা। এলাকাবাসী প্রথমে বুঝতে না পারলেও যখন দেখেন ইট তৈরীর জন্য মাটি কেটে বড় গর্ত করায় পাশের ফসলি জমি দিন দিন ভেঙ্গে পরা, গাছপালা মরে যাওয়া, ফসলাদি নষ্ট হওয়া, মানুষের ক্ষতি হওয়ায় এলাকাবাসী একত্র হয়ে তারা ইটভাটার মালিককে অনুরোধ করেন সেখানে থেকে ইটভাটাটি অন্যত্র নেয়ার জন্য। আদম আলী হাওলাদারের কাছে যারা অনুরোধ জানিয়ে ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে তিনি চাদাঁদাবীর মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন অনেক দিন। এক পর্যায়ে কয়েকশত এলাকাবাসী সরনাপন্নহন পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সরেজমিন তদন্ত করা হয়। তারা দেখতে পায় ইটভাটাটি প্রায় ২০ একর জমি দখল করে তাদের কাজ চালাচ্ছে অথচ সরকারী বিধিমোতাবেক একটি ইটভাটা ২একর জমির মধ্যে ঝিকঝাক নির্মান করে ইট পোড়াতে হবে। ঝিকঝাক হবে ১শত ২০ফুট কিন্তুু তিনি নির্মান করেছেন ৬০ফুট। ইটভাটা নির্মান করতে হবে লোকালয় থেকে অনেক দুরে অথচ তিনি ইটভাটা নির্মান করেন লোকালয়ের মধ্যে। এলাকাবাসীর অভিযোগ সত্য প্রমানীত হওয়ায় ইটভাটার মালিক আদম আলীকে ৫লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। এবং তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরে আরো ছয়টি শর্ত সম্বলিত লিখিত অঙ্গিকারনামা দিয়েছেন । অঙ্গিকারনামায় রয়েছে ইটভাটায় ব্যবহৃত অতিরিক্ত কৃষিজমি সংকুচিত করে ২একরের মধ্যে রাখতে হবে, স্থানীয় কৃষকদের কৃষিজমি অবিলম্বে কৃষকদের মধ্যে হস্তান্তর করতে হবে, ইট প্রস্তুত কাজে পার্শ্ববতী কৃষি জমির মাটি ব্যবহার করা যাবেনা, সরকারের অনুমোদন ব্যাতিত কোন পুকুর খনন করা যাবেনা এবং ভাটার মাটি কেটে যে পুকুর করা হয়েছে তা মাটি দিয়ে ভরাট করে পুর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে, পরিবেশ-প্রতিবেশ ক্ষতি হয় এমন কোন কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে হবে। সর্বপরি এইচ,বি,এম ব্রিকস কর্তৃক পরিবেশ বিরোধী কর্মকান্ডের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে দুঃখ প্রকাশ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সকল শাস্তিমুলক ব্যবস্থা মেনে নেয়ার অঙ্গিকার করেন ভাটা মালিক আদম আলী হাওলাদার। ভাটা মালিকের দেয়া অঙ্গিকারনামায় সাক্ষি হন তার ছোট ভাই কালকিনি পৌরসভার মেয়র এনায়েত হোসেন হাওলাদার। জরিমানা ও শর্ত বাস্তবায়ন করেছিলেন ততসময়ের পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহম্মাদ হাফিজুর রহমান। পরবর্তিতে ইটভাটার মালিক আদম আলী হাওলাদার অঙ্গিকারনামার শর্ত বাস্তবায়ন না করায় ইটভাটাটি উচ্ছেদের জন্য ৫বার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েও ইটভাটাটি উচ্ছেদ করাতে পারেনী। ফলে এলাকাবাসী পরিবেশ বাদী সংগঠন (বেলা) সাহায্য চাইলে তারা বাংলাদেশের সর্বচ্চ আদালত হাইকোর্ট এমটি মামলা দায়ের করেন।
এইচবিএম ইটভাটার সত্তাধিকারী মোঃ আদম আলী হাওলাদার বলেন, আমি পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করেছি কাগজ পেয়ে যাব।
কালকিনি উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা মোসাঃ শাম্মি আকতার বলেন, আমি নতুন এসেছি বিধায় বিষয়টা আমার জানা নাই। আমি খোজ নিয়ে দেখছি।
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল উদ্দিন বিশ্বস জানান এইচবিএম ইটভাটার বিষয়ে আমার জানা নাই। তবে কাগজপত্র দেখে আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।



