ডিআইজি রফিকুলকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ, অভিযোগ অস্বীকার
স্টাফ রিপোর্টার: অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিটি এসবির দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিআইজি (প্রটেকশন) রফিকুল ইসলাম। গত কাল বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ৬টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সত্য নয়। আমি দুদকে আমার বক্তব্য তুলে ধরেছি।” এর আগে বিকেল ৪টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তিনি হাজির হন। সোয়া ৪টায় তার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। দুদকের উপপরিচালক হামিদুল হাসান তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সূত্র জানায়, প্রায় শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক বনে যাওয়া এ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। তার অংশ হিসেবেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। দুদকের কাছে আসা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ রফিকুল ইসলাম পদ-পদবি ব্যবহার করে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন। পিতা মরহুম হাতেম আলী মোল্লা ছিলেন গ্রাম্য ডাক্তার। রফিকুল ইসলাম ১৯৮৬ সালে চাকরিতে ঢোকার সময় গ্রামের বাড়িতে ছিল সাধারণ একটি টিনের ঘর। পরে কালিয়াকৈর ফুলবাড়িয়া বাজারে খাস জমিতে একটি টিন শেড বাড়ি করেন রফিক। চাকরির কয়েক বছরের মধ্যেই বদলে যায় তার অর্থনৈতিক অবস্থা। তার অর্জিত সম্পদের মধ্যে রয়েছে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ৩টি বাড়ি, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকা। উত্তরায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ি কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছেন। রফিকুল ও তার পরিবারের সদস্যরা দুটি দামি গাড়ি ব্যবহার করেন, যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি টাকা। সূত্র মতে, ডিআইজি রফিকুল ইসলামের মালিকানায় কালিয়াকৈরের নাবিবহর মৌজায় রয়েছে ৮০/৮৭৭, ৮৭৮, ৮৭৯, ৮৮১ ও ৮৮৩ নম্বর দাগে ৭৪ শতাংশ জমি। যার আনুমানিক মূল্য ৩২ লাখ টাকা। মুথাজুড়ি মৌজার ছলংগায় রয়েছে ১২ বিঘা জমি। মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। একই মৌজায় ২৬৯৩ ও ৮৮৪৪ নম্বর দাগে ২৪ শতাংশ জমি। যার মূল্য ৩৬ লাখ টাকা। কড়ই চালায় ২০ বিঘা জমি, মূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ফুলবাড়িয়া বাজার সংলগ্ন ২০৯৮ নম্বর দাগে ১৪০ শতাংশ জমি। মূল্য ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ফুলবাড়িয়া উত্তরপাড়ায় রয়েছে ২৪ শতাংশ জমি। যার মূল্য ৩৬ লাখ টাকা। মুথাজুড়ি বাজার সংলগ্ন ২১২১ নম্বর দাগে ১০০ শতাংশ জমি, যার মূল্য প্রায় ৮০ লাখ টাকা। একই মৌজার ২৪৭৩ নম্বর দাগে ১৭৫ শতাংশ জমি। মূল্য প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ২২৪২ নম্বর দাগে রয়েছে ১৪২ শতাংশ জমি, মূল্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। এছাড়া রফিকুলের স্ত্রী শিরীন আক্তারের নামে মুথাজুড়ি মৌজার ৩০০৩, ৩০০৪, ৩০১১ ও ৩০১২ নম্বর দাগে ফুলবাড়িয়া দক্ষিণ পাড়ায় (কসাইর চালা) রয়েছে ৮ বিঘা জমি। যার আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি টাকা। এছাড়াও নামে-বেনামে রয়েছে বিপুল নগদ অর্থ। বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।



