তালেবানের দখলে হেলমান্দের সাঙ্গিন প্রদেশ
আফগানিস্তানের দণিাঞ্চলের প্রদেশ হেলমান্দের জেলা শহর সাঙ্গিন দখল নিয়েছে তালেবান যোদ্ধারা। আফগান কর্মকর্তারা গতকাল সোমবার এ খবর জানান। তালেবান যোদ্ধরা ইতোমধ্যেই হেলমান্দের সাঙ্গিন জেলার পুলিশ সদর দফতর দখল করে নিয়েছে বলে জানা গেছে। জেলার অন্যান্য স্থানেও লড়াই চলছে। পাজুক বার্তা সংস্থা এ খবর দিয়েছে।
সূত্রটি জানিয়েছে, দু’টি ভবন থেকে প্রায় ১৫০ জন পুলিশকে নিকটবর্তী স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তালেবান গেরিলারা পুলিশ সদস্যদের ঘিরে রেখেছে এবং তাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ওই এলাকায় অবিলম্বে বিমান হামলা না চালানো হলে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা হতে পারে বলেও ওই সূত্রটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এর আগে হেলমান্দের গভর্নর মোহাম্মদ জান রাসৌলিয়ার ফেসবুক বার্তায় দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির কাছে সরকারি সহযোগিতা অপ্রতুল বলে অভিযোগ করেছিলেন। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন তালেবান যোদ্ধারা শহরটি দখল করতে পারে। কয়েক বছর ধরে এটি রার জন্য লড়াই করছে মার্কিন ও ব্রিটিশ সেনারা। প্রেসিডেন্ট গনিকে উদ্দেশ করে রাসৌলিয়ার লিখেছেন, ‘আমি জানি, বিষয়টি সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তুলে ধরায় আপনি ুব্ধ হবেন। কিন্তু আমি তো আর নীরব থাকতে পারছি না। কারণ হেলমান্দ পতনের তীরে এসে দাঁড়িয়েছে। গত দুই দিনের গেরেশক ও সাঙ্গিন জেলায় ৯০ জনকে হত্যা করা হয়েছে।’ গনির বিশ্বস্ত লোকেরা পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রাসৌলিয়ার বলেন, শত্রুরা হেলমান্দ দখল করে নেবে। এখানকার পরিস্থিতি কুন্দুজের মতো হবে না। আমরা বিমানবন্দর থেকে দখলমুক্ত করার অভিযান পরিচালনা করতে পারব। কিন্তু এটা অসম্ভব ও স্বপ্নের মতো। আফগান প্রেসিডেন্টের সরাসরি হস্তপে কামনা করেন তিনি। তাৎণিকভাবে গনির অফিস রাসৌলিয়ারের পোস্টে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তবে কাবুলে প্রতিরা মন্ত্রণালয় হেলমান্দের পতন এবং ৯০ সেনার মৃত্যুর খবর দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। কিন্তু স্থানীয় কর্মকর্তারা রাসৌলিয়ারের বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেছেন এবং বলেছেন সাঙ্গিনের মতো জেলায় তালেবান যোদ্ধারা দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। হেলমান্দের এ খবর দণিাঞ্চলীয় কুন্দুজ শহরের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে স্বল্প সময়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শহরটি দখল করে নিয়েছিল তালেবান। সেটা ছিল গত ১৪ বছরের মধ্যে তাদের কোনো বড় বিজয়। শেষ পর্যন্ত হেলমান্দের পতন হলে তা হবে দেশটিতে মোতায়েন ন্যাটো নেতৃত্বাধীন বাহিনীর জন্য আরেকটি আঘাত।



