তুরস্কের ওপর আসছে রুশ নিষেধাজ্ঞা
তুরস্কের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ বৃহস্পতিবার কথা জানিয়েছেন। খবর বিবিসির।
মেদভেদেভ বলেছেন, ‘আসন্ন দিনগুলোতে তুরস্কের বিপক্ষে বৃহৎ পরিসরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’ এর ফলে খাদ্য ও যৌথ বিনিয়োগের মতো বৃহৎ খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি। ইরানের পর রাশিয়াই তুরস্কের সবেচেয়ে বড় ব্যবসায়িক সহযোগী। রাশিয়ার এ সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিতে বড় রকমের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তুরস্কে নিজ নাগরিকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাশিয়া। দেশটিতে অবস্থানরত রুশ নাগরিকদের ফিরে আসতেও বলা হয়েছে। এর ফলে পর্যটন খাতে আয় কমে গেছে তুরস্কের। তুরস্কের সঙ্গে সবধরনের সামরিক যোগাযোগ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে রুশ সামরিক বিভাগ। এমনকি বিমান দুর্ঘটনা এড়াতে ‘হটলাইন’ও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সিরীয় সীমান্তে গত মঙ্গলবার রাশিয়ার সু-২৪ যুদ্ধুবিমান ভূপাতিত করে তুরস্ক। তুর্কি আকাশসীমা লঙ্ঘনের দায়ে এফ-১৬ বিমান থেকে রুশ বিমানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। বিমানটি বিধ্বস্তের পর সিরীয় বিদ্রোহীদের হাতে রাশিয়ার এক পাইলট ও এক মেরিন সেনা নিহত হয়। রাশিয়ার পক্ষ থেকে এ ঘটনার জন্য তুরস্ককে ক্ষমা চাইতে বলা হলেও দেশটি ক্ষমা চাইবে না বলে জানিয়েছে। তুরস্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা বিমানটি ভূপাতিতের আগে বেশ কয়েকবার সতর্ক করেছে। তবে বিমানটিতে থাকা রুশ পাইলট তা অস্বীকার করেছেন। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোয়ান বলেছেন, তুর্কি বাহিনী যদি জানত এটা রুশ বিমান তাহলে অবশ্যই ভিন্নভাবে সতর্ক করা হতো। তবে এরদোয়ানের এ দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, এটা রাশিয়ার বিমান তা স্পষ্টতই জানত তুরস্ক। দেশটির এই কার্যক্রমকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।


