দীর্র্ঘ ১৬ বছর শিক্ষকতা করেও নিয়োগ পেলেন শিক্ষক মিজান
রিয়াজুল করিম, রাজবাড়ী: রাজবাড়ী জেলা শহরের প্রান কেন্দ্রে অবস্থিত অঙ্কুর স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক নিয়োগ পরিক্ষায় চরম দূর্নীতি আর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে, নিয়োগ বঞ্চিত শিক্ষক মিজান জানান, দীর্ঘ ১৬ বৎসর স্কুলে শিক্ষক হিসাবে নিয়মিত সার্ভিস করলেও শেষ মূহুর্তে এসে এমন বঞ্চনার স্বীকার হতে হল। তিনি আক্ষেপের সথে বলেন নিজ অর্থে ঢাকা বোর্ড থেকে সেকশন অর্ডার, পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা সহ আনুসঙ্গিক সকল কাজ কর্ম করেও কোন কুল কিনারা হলনা। এখন নিয়োগ পিএসসির অধিনে, চাকরীর বয়স শেষ, জীবনে আর হয়ত সরকরী চাকুরী হবেনা। মানবিক বিবেচনায় তিনি দ্রুত এ পরিক্ষার ফলাফল স্থগিত করে পূনরায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরিক্ষা নেওয়ার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সহ সংশ্লিষ্ঠদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।
স্কুল কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে উক্ত স্কুলে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে ২জন শিক্ষক নিয়োগের জন্য গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় দৈনিক দেশ জনতা ও স্থানীয় দৈনিক মাতৃকন্ঠ এবং ১৫ অক্টোবর জাতীয় দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাপা হয়। সে অনুযায়ী স্কুল কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে দায়িত্ব প্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাইয়ার সুলতানা একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমন ও মোঃ হুমায়ন রশিদ কে নিয়োগ প্রদানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করে রেজুলেশন সহ স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ রফিকুল ইসলাম খানের নিকট পাঠায় সে অনুযায়ি গত ১১ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে লিখিত ও মৌখিক পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ বোর্ডের একাধিক সদস্যের তথ্য অনুযায়ি শিক্ষক মিজান পরিক্ষায় ভল করলেও ভারপ্রাপ্ত্র প্রধান শিক্ষিকা নাইয়ার সুলতানা মোটা অংকের অর্থের বিনীময়ে তার পছন্দের প্রার্থীদের কে পরীক্ষায় পাশ দেখিয়ে নিয়োগ প্রদানের বিষয় চূড়ান্ত করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে নিয়োগ বোর্ড পরবর্তীতে নড়েচড়ে বসে।
কেন এ অনিয়ম করা হল এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি তেমন কোন সদূত্তর দিতে পারেন নাই। তবে তিনি জানান শিক্ষক মিজান পরিক্ষায় ভাল করতে পারেন নাই। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে স্কুল ম্যনেজিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খানের সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি জানান, শিক্ষক নিয়োগে কোন প্রকার অনিয়ম করা হয়নি, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ১১ অক্টোবর শুক্রবার থেকেই প্রশাসন সহ শিক্ষক সমাজের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার ঝর শুরু হয়েছে। শিক্ষক মিজান অঙ্কুর স্কুল এন্ড কলেজের মধ্যে একজন খুব মেধাবী শিক্ষক বলে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক মহলে তার একতটা বিশেষ সুনাম রয়েছে, অথচ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা তার দূর্নীতি আর অনিয়মকে ধামাচাপা দিতে শিক্ষক মিজানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে সে পরীক্ষায় খারাপ করেছে। প্রধান শিক্ষিকার এই মিথ্যে প্রলাপ ছাত্র শিক্ষক অভিভাবক মহলে রিতি মত হাস্যকর পরিস্থিতি সৃষ্ঠি করছে। প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার খাতা ও প্রকৃত রেজাল্ট যাচাই বাছাই করে দেখলে প্রধান শিক্ষিকার সকল দূর্নীতির থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে। অনতিবিলম্বে এ পরীক্ষাটি বাতিল করে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে পূনরায় নিয়োগ পরিক্ষাটি অনুষ্ঠিত হলে মেধাবী শিক্ষক নিয়েগের মাধ্যমে স্কুলটিতে চলমান সমস্যার প্রকৃত সমাধান মিলবে বলে স্কুলের ছাত্র শিক্ষক সহ সকল সূধীমহল মনে করেন।



