পাশ্চাত্যে খবরের কাগজের দিন কি শেষ হয়ে আসছে?
ইন্ডিপেনডেন্ট এর সবশেষ সংস্করণের কপিতে পত্রিকাটি মোড়ানো ছিলো একটি আলাদা পৃষ্ঠায়, আর সেখানে শুধু লেখা ছিলো ‘স্টপ প্রেস’।ব্রিটেনের ৩০ বছরের পুরনো সংবাদপত্র দি ইন্ডিপেনডেন্ট–এর সবশেষ প্রিন্ট সংস্করণ বাজারে এসেছে। এখন থেকে আর কাগজে নয়, শুধু অনলাইনেই প্রকাশিত হবে পত্রিকাটি। বলা হচ্ছে, পত্রিকার কাটতি না থাকায় শুধু বিজ্ঞাপন বেচেই টিকে আছে অনেক কাগজ। এটিই ব্রিটেনে মূলধারার প্রথম কোনো পত্রিকা যেটি ছাপা থেকে অনলাইনে রূপান্তরিত হলো।তাহলে কি পাশ্চাত্যে খবরের কাগজের দিন শেষ হয়ে আসছে? লন্ডনে গবেষণারত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ক শিক্ষক শামীম রেজা বলছিলেন “এখনই এভাবে মূল্যায়ন করাটা কঠিন”। “তবে একটা চ্যালেঞ্জ লক্ষ্য করা যাচ্ছে- অধিকাংশ যে সংবাদপত্রগুলো যেগুলোকে আমরা চিনি- যেসব পত্রিকা এখানে প্রভাবশালী, বিশেষ করে সমাজ, রাজনীতি বা সংস্কৃতির ক্ষেত্রে যে পত্রিকাগুলো প্রভাবশালী তাদের পাঠক সংখ্যা কমেছে-মুদ্রিত যে অংশ সে অংশের পাঠক কমছে”-বলেন মি: রেজা।এখন থেকে আর কাগজে নয়, শুধু অনলাইনেই প্রকাশিত হবে ‘দি ইন্ডিপেনডেন্ট’ পত্রিকাটি।কেন মুদ্রিত কাগজের সংখ্যা কমছে? দি ইন্ডিপেনডেন্ট এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শামীম রেজা বলেন “এ পত্রিকাটি খবরের কাগজ থেকে ওইভাবে রাজস্ব তুলতে পারছিলনা। আর খবরের কাগজের পাঠক সংখ্যাও কিন্তু ব্যাপক হারে কমে গিয়েছিল- কয়েক লক্ষ থেকে ৩০ হাজারে নেমে এসেছিল”। “তিন দশকের পুরনো এই সংবাদপত্রটি ওইভাবে রাজস্ব তুলতে না পারার কারণে এই সিদ্ধান্তে এসেছে-আর তাদের কাগজের সংস্করণের তুলনায় অনলাইনে পাঠকও বেশি”। “ব্রিটেনের অন্যান্য কাগজগুলোও একই অবস্থার মধ্যে পড়ছে। কাগজের বিক্রি আগের তুলনায় কমেছে। তবে তাদের পাঠক সংখ্যা ইন্ডিপেনডেন্টের মতো এটা কমেনি। তবে এটা ঠিক এখন পাঠকেরা ছাপার সংস্করণ থেকে আস্তে আস্তে অনলাইনের দিকে ঝুঁকছেন”-বলেন মি: রেজা।



