বাংলাদেশকে ফুটবল শেখাল আফগানিস্তান
স্পোর্টস ডেস্ক: আরো একবার হতাশা দিয়েই শুরু হলো বাংলাদেশের সাফ ক্যাম্পেইন। আফগানদের বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পর প্রথম ম্যাচ পরেই আরো একবার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়ার শঙ্কায় পরে গেছে মারুফুল হকের শিষ্যরা। সাফ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ দল একরকম বিনা প্রতিদ্ব›দ্বীতায়ই হার মেনে নিলো আফগানিস্থানের সাথে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের অর্ধে জেঁকে বসে আফগান খেলোয়াড়রা। দুই উইং ব্যবহার করে ডিফেন্স ভেদ করে একের পর এক করে আক্রমণ চালিয়ে যান যাযাই, আমিরিরা। আক্রমণ ভাগের খেলয়াড়দের ভুলের কারনে প্রথম গোলের জন্য আফগানদের অপেক্ষা করতে হয় ম্যাচের আধ ঘণ্টা পর্যন্ত। এরপরই পুরোপুরি ম্যাচের কতৃত্ব নিয়ে নেয় আফগানরা।
রক্ষণভাগে হাস্যকর সব ভুল দেখে মনে হচ্ছিলো আফগানদের নিজেদের জালে গোল উৎসবের আমন্ত্রন জানিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের মাঝমাঠে বল দখলের লড়াইয়েও বাংলাদেশকে খুঁজেই পাওয়া যায়নি প্রথমার্ধে। জামাল ভূঁইয়ার অনুপস্থিতিতে ৪-৩-৩ ফরমেশনে আফগান বধের ছক সাজান মারুফ। তাতে মাঝমাঠে আফগানিস্থানের ৪ খেলোয়াড়ের বিপক্ষে মামুন, সোহেল রানাদের বল দখল করা আরো কঠিন হয়ে যায়। জাহিদ ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। হেমন্ত শেষ কবে ভালো খেলেছিলেন সেটি তিনিও মনে করতে পারেন কিনা সন্দেহ! ম্যাচের শুরুতেই আফগান ডিফেন্সের ভুলে গোল করার সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন রনি। এছাড়াও দু’একটি সুযোগ যা পেয়েছেন তাঁর কোনটিই আফগান গোলরক্ষকের জন্য বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
সবগুলো গোলেই বাংলাদেশের অগোছালো ডিফেন্সের সাহায্য পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। মাঝমাঠ কঠিন কোন বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়নি তাঁদের। গোল লাইন থেকে সহজ বল ক্লিয়ার না করতে পারার কারনেও গোল হজম করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। আমিরির করা তৃতীয় গোলটি তপু বর্মণ ডাইভ দিয়ে ঠেকিয়ে দেয়ার চেষ্টাও করেননি। খাপছাড়া ডিফেন্সের সাথে গোলকিপার শহীদুলের ভুলের সুযোগ নিয়ে একের পর এক বাংলাদেশের জালে বল জড়িয়েছেন সাইগানী, শায়েস্তে, আমানি, দস্তগীররা। অবশ্য শহীদুলের বেশ কয়েকটি ভালো সেভ করে আরো বড় লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন দলকে। দ্বিতীয়ার্ধে জাহিদ, হেমন্তকে নিচে নামিয়ে মাঝমাঠে ৫ জন খেলান মারুফ। তাতে বল দখলের লড়াইয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও লাভের লাভ কিছু হয়নি। আফগান দুর্গে হানা দেয়ার মতো মাঝ মাঠ থেকে কোন ডিফেন্স চেরা পাস, ভালো একটি ক্রস- কিছুই দেখা যায়নি। ৩ গোল খাওয়ার পরো মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে বার বার ব্যাক পাস দেয়ার প্রবণতা বাংলাদেশ দলের করুণ পরিণতির খন্ড চিত্র মাত্র। ৬৯ মিনিটে মাঠে নামার দুই মিনিটের মধ্যেই গোল করে এক হালি পুর্ণ করেন আমানি।
নেপালের সাথের ম্যাচটি বাদ দিলে এই নিয়ে গত ৩ ম্যাচে ১৩ গোল হজম করলো বাংলাদেশ। লজ্জাজনক এই হারে গ্রুপের তলানীতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ দল। অতিরিক্ত সময়ে জামাল ভূঁইয়াকে পরের ম্যাচের প্রস্তুতি হিসেবে নামিয়েছিলেন কোচ। পরবর্তী ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে জয় ছাড়া তাই আর কোন উপায় থাকলো না মারুফের হাতে। গ্রæপের অন্য ম্যাচে ভূটানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মালদ্বীপ। আফগানদের বিরুদ্ধে এমন হারের পর বাংলাদেশ দলের ঘুরে দাঁড়ানোটা সহজ হবে না একেবারেই। প্রথম ম্যাচ পরেই কি বিদায় ঘন্টা বেজে গেলো বাংলাদেশ দলের?



