ভারতে গণধর্ষণ মামলা: ৭ অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড
নির্ভয়া কাণ্ডের নাবালক অপরাধীর মুক্তিতে ন্যায়বিচার হলো না বলে রবিবারই সরব হয়েছিল ভারতবাসী। তবে তার পরদিন রোহতক কাণ্ডের বিচারে অনেকটাই আশ্বস্ত হয়েছে দেশের মানুষ। কেননা রোহতক গণধর্ষণ মামলার সাত অপরাধীকেই ফাঁসির সাজা দিল আদালত। তাই এই মামলায় সুবিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে দাবি সাধারণ জনগণের।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবারই রোহতক গণধর্ষণ মামলার সাজা ঘোষিত হয়েছে। এই মামলার সাত অপরাধীকেই ফাঁসির সাজা দিয়েছে হরিয়ানার আদালত। এই সাত অপরাধীর নাম হল, পদম, মনবীর, সুনীল, সখর, রাজেশ, পবন এবং সুনীল। এই মামলার আরেক অপরাধী সম্বির গ্রেফতার হওয়ার পরই আত্মহত্যা করেছে।
চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি হরিয়ানার রোহতকে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নেপালি মহিলা গণধর্ষিতা হয়ে খুন হন। পদম, মনবীর, সুনীল, সখর, রাজেশ, পবন, সুনীল এবং সম্বির তাকে ধর্ষণ করার পর নৃশংসভাবে খুন করে। ঘটনার তিনদিন পর আর্থাৎ ৪ ফেব্রুয়ারি বহু আকবর গ্রামে তার নগ্নদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তারপর এই মহিলার দেহ ময়নাতদন্ত করে জানা যায়, ওই মহিলাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। তার মাথায় এবং দেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং গোপনাঙ্গ থেকে পাথরের টুকরো পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ জানায়। নেপালি এই মহিলা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং রোহতকে বোন ও জামাইয়ের সঙ্গেই থাকতেন। তাঁর বোনের অভিযোগের ভিত্তিতেই ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তারপর এই ঘটনায় অভিযুক্ত আটজনকেই গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর সম্বির পুরো ঘটনার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করে। ঘটনার দিন তারা সকলে মদ্যপ অবস্থায় ছিল এবং নেশার খেয়ালেই এই নৃশংস হত্যা করেছে বলে পুলিশকে জানায় সম্বির। পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তির পর লজ্জায় আত্মহত্যাও করে সে। তারপর গত ১০ মাস ধরে সাত অপরাধীর বিচার চলার পর অবশেষে রায় ঘোষিত হল।



