ভিডিও কনফারেন্সে দহগ্রামে থ্রিজি সেবার উদ্ভোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি : লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার প্রত্যন্ত ইউনিয়ন দহগ্রাম ইউনিয়নে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গ্রামীণফোনের থ্রিজি সেবার উদ্ভোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার (২৫ নভেম্বর) গণভবন থেকে বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের সাথে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলে গ্রামীণফোনের থ্রিজি সেবার উদ্ভোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় দহগ্রাম ইউনিয়নবাসীদের ঊদ্দেশ্যে বলেন, ‘দহগ্রাম আঙ্গরপোতা আমাদের মুল ভূÑ খন্ড আমি যখন ক্ষমতায় ছিলাম না তখন রাজিব গান্ধি ক্ষমতায় ছিলেন ভারতে এক কনফারেন্সে দহগ্রামের মানুষদের দূর্দশা লাঘবে কথা বলে প্রথমে একঘন্টা ও পর্যায়ক্রমে ১২ ঘন্টা এবং আমরা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আমাদের প্রচেষ্টায় ২৪ ঘন্টা করিডোর গেট খোলা রাখার ব্যবস্থা করি। দহগ্রামে বিওপি, পুলিশ ফাঁড়ি, স্কুল স্থাপন করে দেই। দহগ্রামে সুপেয় পানির অভাব ছিল আমরা টিউবওয়েল স্থাপন করে দিয়েছিলাম।
তিনি লালমনিরহাট জেলার ঊন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর ওপর ব্রীজ নির্মাণের ঊদ্যেগ গ্রহণ করি কিন্তু দূর্ভাগ্য ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে ব্রীজের কাজ বন্ধ করে দেয়। বর্তমান দুটি ব্রীজ নির্মাণের কাজ চলছে। বাংলাদেশে প্রথম যখন সিদ্ধান্ত নেই ভূট্রা চাষ করার তখন লালমনিরহাট জেলায় প্রথম চাষ শুরু করি। পরবর্তীতে নীলফামারী, কুড়িগ্রামে ভূট্রা চাষের প্রসার ঘটে। লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম মঙ্গাপীড়িত এলাকা ছিল আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর খুব দ্রæত খাদ্য উৎপাদনের এলাকা হিসেবে চিহিৃত হয়। এখন এসকল এলাকায় ধানসহ খাদ্য উৎপাদন ১৫% বেশি হয়। লালমনিরহাটের রেল জংশন একদম মূমুর্ষ অবস্থায় ছিল আমরা নতুন করে আবার রেল লাইন করে ঊন্নত করছি। যাতে লালমনিরহাট হয়ে গাইবান্ধাসহ যে সকল এলাকায় যাবে সে ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। যোগাযোগ ব্যবস্থার যতটুকু উন্নত হবে মানুষের আর্থিক ঊন্নতি, কর্মক্ষমতাও বাড়বে। শুধু মোবাইল ফোন নয় আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার আগে বাংলাদেশের কোথাও ডিজিটাল টেলিফোন ছিলনা, এ্যনালক ছিল। শুধুমাত্র চিটাগং আর ঢাকার কিছু জায়গায় ছিল এমনকি ঢাকা শহরের লালবাগেও ছিলনা। সে সময় মোবাইল ফোনের ব্যবসা দেখত বিএনপি’র এক মন্ত্রী, এজন্য মোবাইল ফোন কিনতে এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা লাগত প্রতি মিনিট কল ধরলে ১০ টাকা করলেও ১০ টাকা দিতে হত। আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে এসব সেক্টরকে প্রাইভেট সেক্টরে খুলে দিয়ে কর্মসংস্থান ও মানুষের সেবা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করি। প্রথম তিনটি মোবাইল কোম্পানিকে গ্রামীণফোন, একটেল ও সেবাকে ব্যবসা করতে দেই। এভাবে পর্যায়ক্রমে কোম্পানি বৃদ্ধিতে মানুষ কম টাকায় কথা বলবে ও সেবা পাবে।’ প্রধানমন্ত্রী এসময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও গ্রামীণফোনকে দূর্গম এলাকা দহগ্রামে থ্রিজি সেবা চালু করায় ধন্যবাদ জানান।
এসময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে গণভবনে উপস্থিত ছিলেন, গ্রামীণফোনের সিইও রাজিব শেঠি, সিএমও ইয়াসির আজমান। অন্যদিকে গ্রামীণফোন কর্তৃক আয়োজিত দহগ্রাম হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত টেলিকনফারেন্সে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এমপি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি লালমনিরহাট- ১ আসনের সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন, গ্রামীণফোন চিপ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মামুদ হোসেন।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম দহগ্রাম থেকে ফেরার পথে দহগ্রাম কড়িডোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী(বিএসএফ)- এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন ও পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।



