ভুরুঙ্গামারী ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসায় শূন্য পদে বেতনভাতা উত্তোলন ও নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ভূঙ্গামারী উপজেলার ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ, একজন সহকারী মৌলভী শিক্ষককে প্রভাষক পদে নিয়োগসহ নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোক পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে ঐতিহ্যবাহী ভ’রুঙ্গামারী ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রমিজ উদ্দিন মÐল তার জামাতা মাওঃ আলতাফ হোসেনকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ভারপ্রপ্ত অধ্যক্ষ লতিফুর রহমানের সহায়তায় অধ্যক্ষ নিয়োগ দেন। গত জুন/২০১৫ ইং তারিখে এই নিয়োগ সম্পন্ন করেন। মাওঃ আলতাফ হোসেন এর প্রভাষক পদ পত্রিকার বিজ্ঞাপনে শূন্য ঘোষনা করা হলেও তিনি নিয়মিত সরকারী বেতনভাতা উত্তোলন করেছেন। যাহা সোনালী ব্যাংক ভ’রুঙ্গামারী শাখার ম্যানেজার নারায়ণ চন্দ্র রায় নিশ্চিত করেছেন। প্রভাষক আলতাফ হোসেনের ইনডেক্স নং LEC-394995। অপর সহকারী মৌলভী শিক্ষক মোছাঃ আলতাফুন নাহারের পদ শূন্য ঘোষনা করে গত ০৬/১২/২০১৫ইং তারিখে তাহাকে প্রভাষক আলতাফ হোসাইনের শূন্য পদে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। তাহার ইনডেক্স নং AM-2032209। আলতাফুন নাহারের পদ শূন্য হলেও তিনিও নিয়মিত সরকারী বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন যাহা সরকারী বিধী মোতাবেক সম্পূর্ণ বেআইনি।
গত ২২ফেব্রুয়ারী ২০১৫ইং তারিখে অবসরে যাওয়ার আগে নিয়মনতী উপেক্ষা করে সিনিয়র প্রভাষক থাকতে একজন জুনিয়র প্রভাষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ দেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও একান্ত অনুসারী ও বাধ্যানুগত ভারপ্রাপ্ত অধক্ষের সহযোগীতায় নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। সদ্য অবসরে যাওয়া অধ্যক্ষ রমিজ উদ্দিন মন্ডল তার অবসরে যাওয়ার প্রাক্কালেও দুর্নীতির কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ৬০হাজার টাকা জরিমানা দেয়ার প্রমাণ রয়েছে। বর্তমানে আবারও আলতাফুন নাহারের শূন্য পদে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে আব্দুল বারিককে গোপনে নিয়োগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। মাদ্রাসাটিকে বর্তমানে অধ্যক্ষে শ্বশুর অবসরে যাওয়া রমিজ উদ্দিন মন্ডল ও মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা শাহাজাহান সিরাজের যোগসাজসে মাদ্রাসার জমি বিক্রিরও পায়তারা করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
নাম প্রকালে অনিচ্ছুক মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির একাধিক সদস্য জানান, কমিটির সদস্যদের না জানিয়ে গোপনে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একের পর এক নিয়োগ দিয়ে যাচ্ছে ম্যানেজিং কমিটির অবৈধ্য সভাপতি ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহাজাহান সিরাজ এবং মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলতাফ হোসাইন। সাবেক অধ্যক্ষ রমিজ উদ্দিন মন্ডলের ইশারায় এসব দুর্নীতির কারনে মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারী ও এলাকাবাসী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।



