ভূরুঙ্গামারী হানাদার মুক্ত দিবস আজ
আব্দুল গনি , নাগেশ্বরী, কড়িগ্রাম : আজ ঐতিহাসিক ১৪ নভেম্বর। মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালীন ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদারদের কবল থেকে দেশের ইতিহাসে প্রথম শত্রু মুক্ত হয়েছিল কুড়িগ্রামের সীমান্ত উপজেলা ভূরুঙ্গামারী । ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনীর প্রবল আক্রমনে ভূরুঙ্গামারী থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল পাক হানাদার বাহিনী। এই যুদ্ধে পাক বাহিনীর ২৫ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন আতাউল্লাহ খান সহ অসংখ্য সৈন্য নিহত হয়। দেশীয় দোসরদের সহযোগীতায় মুক্তিবাহিনীর প্রতিরোধ অতিক্রম করে ২৭ মে ধরলা নদী পার হয়ে ২৮ মে পাক বাহিনী ভূরুঙ্গামারী দখল করে নেয়। প্রথমাবস্থায় বাঙ্গালী ইপিআর সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধারা তাদের সাথে পেরে উঠতে না পারলেও অল্প সময়ের ব্যবধানে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে । এ সময় মুক্তিবাহিনী ভারতের সাহেবগঞ্জ ও সোনাহাটে একত্রিত হয়ে পাক বাহিনীর উপর পূনরায় আক্রমন চালায় । ভারতীয় সেনা বাহিনীর ষষ্ঠ মাউন্টেন ডিভিশনের ব্রিগেডিয়ার যোশীর সহযোগিতায় ১৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ৬ নং সেক্টর কমান্ডার, উইং কমান্ডার এম.কে বাশারের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পাক বাহিনীর উপর তিনদিক থেকে আর্টিলারী আক্রমন চালায় । রাত ব্যাপী চলে এ যুদ্ধ। ভোরে ভূরুঙ্গামারী থেকে পিছু হটে নাগেশ্বরীর দিকে আসার পথে জয়মনিরহাটে ( শহীদ সামাদ নগর ) মুক্তি বাহিনীর আরও একটি সুসংগঠিত দলের আক্রমনের মুখে পড়ে পাক বাহিনীর অনেক সৈন্য নিহত হয়। পরে অল্প সংখ্যক সৈন্য নিয়ে তারা নাগেশ্বরীর রায়গঞ্জে পৌঁছায়। ৬ নং সেক্টরের সাহেবগঞ্জ সাব -সেক্টর পরিচালিত এ যুদ্ধ অত্র অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধকালীন অন্যতম স্মরনীয় ঘটনা।
সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ভূরুঙ্গামারী হানাদার মুক্ত হয়। সর্বত্র উত্তোলিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা এবং মুক্তিপাগল জনতা বিজয় উল্লাসে রাস্তায় নেমে আসে। হানাদারমুক্ত ভূরুঙ্গামারীতে মুক্তিবাহিনী পাক বাহিনীর আস্তানা অনুসন্ধান করতে গিয়ে তৎকালীন সিও (বর্তমানে ইউএনও ) অফিসে বিবস্ত্র অবস্থায় পাক বাহিনীর ধর্ষনের শিকার ৪০ তরনীকে উদ্ধার করে। দেশের ইতিহাসে প্রথম হানাদার মুক্ত হওয়ার গৌরব অর্জনকারী ভূরুঙ্গামারী উপজেলাবাসী নানা কর্মসূচী পালনের মধ্য দিয়ে দিনটিকে বিন¤্র শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় স্মরন করে আসছে।



