মিঠাপুকুরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ
মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরে মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর চরকাবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এদিকে এলাকাবাসী গণ স্বাক্ষরে জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, জনতা ব্যাংকের জি.এম কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে দূর্নীতি তদন্তে আজ রবিবার উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ২ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে আসছে। এদিকে দূর্নীতি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, রংপুরে মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর চরকাবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী সুশীল চন্দ্র ভূয়া ছাত্র/ছাত্রী দেখিয়ে এবং উপবৃত্তিপ্রাপ্ত অবিভাবকের স্বাক্ষর জাল করে শঠিবাড়ী জনতা ব্যাংক কর্মকর্তার সাথে আতাত করে দীর্ঘ দিন থেকে সরকারী অর্থ আত্মসাত করে আসছে। নিয়মিত শিক্ষক-শিক্ষিকার হাজিরা খাতায় উপস্থিত দেখিয়ে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা করে আসছে। এতে করে শিক্ষার্থীরা সঠিক ভাবে শিক্ষা লাভ করতে না পারায় অবিভাবকেরা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর চরকাবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গতকাল শনিবার বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে হাজিরা খাতায় ৪০ জন ছাত্র/ছাত্রী থাকলেও বাস্তবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২৮ জন, ২য় শ্রেণীতে ৪৪ জন থাকলেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২২ জন, ৩য় শ্রেণীতে ৩১ জন থাকলেও অংশগ্রহণ করে ১৬জন, ৪র্থ শ্রেণীতে ২৩ জনের মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১২ জন। তাদের মধ্যেও বেশীরভাগ ছাত্র/ছাত্রী ওই এলাকার বিভিন্ন শিশু নিকেতন এবং রুপসী বাংলা কোচিং সেন্টার থেকে নিয়ে এসে পরীক্ষা দিচ্ছে বলে অনেক শিক্ষার্থী অকপটে স্বীকার করে।
অন্যদিকে পরীক্ষার খাতা বিতরণ এবং পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা করছে কোচিং সেন্টার ও শিশু নিকেতনের শিক্ষকরা। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা প্রক্সি দিতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার কাজে সহযোগিতা করছে। পরে তারা ওই বিদ্যালয় থেকে দ্রূত সটকে পড়ে। এদিকে প্রধান শিক্ষক সুশীল চন্দ্র জানান, চলতি বছর উপবৃত্তি পায় ১ম শ্রেণীতে ৩৫ জন, ২য় শ্রেণীতে ৩৪ জন,৩য় শ্রেণীতে ২৯ জন, ৪র্থ শ্রেণীতে ২১ জন এবং ৫ম শ্রেণীতে ২১ জন। ছাত্র/ছাত্রী ও অবিভাবকরা উপবৃত্তির সময় শতভাগ উপস্থিত হলেও পরীক্ষার সময় অনীহা দেখায়। অনেক ছাত্র/ছাত্রীকে পরীক্ষার জন্য মোবাইল করেও আনা হয়ে থাকে। এখানে কোন রাস্তাঘাট ও যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষাতে অংশগ্রহণ করেনা বলে তিনি অজুহাত দাড় করান।
৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোছা. শাহানাজ পারভীনের মাতা হাসিনা বেগম জানান, আমার মেয়ের উপবৃত্তির টাকা দীর্ঘদিন থেকে প্রধান শিক্ষক আত্মসাত করে আসছে। আমার স্বাক্ষর ছাড়া টাকা উত্তোলনের বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের নিকট থেকে জানতে চাইলে তিনি জানান ব্যাংকের লোকেরা কিভাবে স্বাক্ষর ছাড়া টাকা দিয়েছে তা আমার জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে তার মুখ বন্ধ করতে প্রধান শিক্ষক ও ব্যাংক কর্মকর্তা তাকে দু’দফায় বৃত্তির নামে পাঁচশত টাকা ফেরত দেয়।
ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা শাহানাজ পারভীন জানান, আমাদের বিদ্যালয়ে ছাত্র/ছাত্রী কম থাকায় কিছু কিছু ছাত্র/ছাত্রী অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়ে এসে পরীক্ষা দেওয়ানো হয়। এই অনিয়ম আমরাও চাইনা কিন্তু ছাত্র/ছাত্রীরা উপস্থিতি সংখ্যা কম থাকায় এই কাজটি তাদের করতে হয়। তিনি আরও জানান, এইসব অনিয়মের কারনে বিলকিস ম্যাডামের মত আমিও বদলী নিতে চাই। প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আইজার রহমান জানান, আমি আজ শুনতে পাচ্ছি এই বিদ্যালয়ে এত জন ছাত্র/ছাত্রী আছে। আর উপবৃত্তি পায় ১৩৮ জন এবিষয়টিও আমার জানা ছিল না।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার এবং ওই ক্লাষ্টারের দায়িত্ব প্রাপ্ত মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমি সবে মাত্র ২ হলে ওই বিদ্যালয়ের তদারকির দায়িত্ব পেয়েছে সময় অভাবে আমি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করতে পারিনি কোন অনিয়ম থাকলে তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। মিঠাপুকুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্বাস আলী ভূইয়া জানান মিঠাপুকুর উপজেলাটি বড় হওয়ায় আমি সবকিছু সঠিক ভাবে খোঁজ খবর নিতে সময় পাইনা। অনিয়মের-অভিযোগ তদন্তে আজ সেখানে একটি তদন্ত টিম সেখানে যাবে। কোন অনিয়ম পাওয়া গেলে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।



