মুজাহিদের সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে পরিবার
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহম্মাদ মুজাহিদের সঙ্গে দেখা করতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটে তারা কারাগারে প্রবেশ করেন। মুজাহিদের ছেলে আলী আহমেদ মাবরুর ও কয়েকজন নারীসহ মুজাহিদের পরিবারের ১২ জন সাক্ষাৎ প্রার্থী সে সময় উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছেন তার স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও মেয়ের জামাই।
এর আগে সকালে ১২টার দিকে সাক্ষাতের আবেদন করা হয় মুজাহিদের পরিবার থেকে। কারাগারে প্রবেশের আগে মাবরুরসহ পরিবারের কাউকে কারো সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়নি। পৌনে ২টার দিকে একটি ছোট কারে চরে মুজাহিদের পরিবার কারাফটকে আসেন। সেখানে কয়েক মিনিট দাঁড়িয়েই তারা কারা অভ্যন্তরে চলে যান। এর আগে, দুপুর সাড়ে ১২টায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক আসামি বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে তার পরিবারের ১৫ জন সদস্য কারাগারে দেখা করেছেন।
২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছিলেন। ওই রায় চ্যালেঞ্জ করে মুজাহিদের আইনজীবীরা সর্বোচ্চ আদালতে গেলে সর্বোচ্চ আদালতও ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখেন। তবে প্রসিকিউশনের আনা সাতটি অভিযোগের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল তাকে তিনটিতে মৃত্যুদণ্ড দিলেও আপিল বিভাগ শুধুমাত্র ষষ্ঠ অভিযোগে অর্থাৎ বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখেন। ৩০ সেপ্টেম্বর সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর দণ্ড থেকে বাঁচতে মুজাহিদের সামনে খোলা ছিল রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের পথ। তাও গতকাল বন্ধ হয়ে যায় আপিল বিভাগের রায়ে। এখন রাষ্ট্রপতির ক্ষমাই তাদের বাঁচার একমাত্র পথ।



