যে গ্রামে ১৫ বছর যাবৎ টেলিভিশন দেখা নিষেধ!
শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুর সদর উপজেলার বড়াইল গ্রামে ১৫ বছর ধরে টেলিভিশন দেখা নিষেধ রয়েছে। শরিয়তপুর এমন একটি গ্রাম রয়েছে যেখানে দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও শুধুমাত্র টেলিভিশন দেখা বা চালানো নিষেধ রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার বড়াইল গ্রামে ১৫ বছর আগে থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রয়েছে। এখানে আধুনিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে মোবাইল-ফোনসহ সব ধরণের ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্রের ব্যবহার থাকলেও নেই কোন টেলিভিশনের ব্যবহার। শুধু তাই নয়, টেলিভিশন দেখা সম্পূর্ণ নিষেধ। এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন বড়াইল নূরানী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল হাই মুন্সী।
এলাকাবাসী জানান, মো. আবদুল হাই মুন্সীর বড়াইল গ্রামে অনেক অবদান রয়েছে। তিনি জীবত থাকতে বড়াইল গ্রামে কেউ টেলিভিশন চালাতে পারবে না। তাছাড়া বড়াইল গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো পুরুষ শিক্ষক চাকুরী করতে পারেন না। যদি কোন পুরুষ শিক্ষক বিদ্যালয়ে চাকুরি করতে চান তাহলে তাকে মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটি থেকে বাধা প্রদান করা হয়।
এ ব্যাপারে শরীয়তপুর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমানের সাথে আলাপ কালে তিনি বলেন, টেলিভিশনে ৯০ শতাংশ অনুষ্ঠান দেখা ইসলামের দৃষ্টিতে নাযায়েজ। কিন্তু ১০ শতাংশ দেখা যায়েজ। তিনি আরো বলেন, মোবাইল ফোনে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সব ধরনের অশ্লীল সিনেমা দেখা যায়। আর সেই ফোন যদি পকেটে রেখে নামাজ পড়তে পারে, তাহলে টেলিভিশন ঘরে রাখতে সমস্যা কোথায়?



