রংপুরে জেঁকে বসেছে শীত: দুর্বিসহ জনজীবন
রংপুর প্রতিনিধি: পৌষের শুরুতেই রংপুরসহ গোটা উত্তরাঞ্চলে জেঁকে বসেছে শীত। গত কয়েকদিন ধরে হিমেল হাওয়া আর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির ন্যায় ঘন কুয়াশা শীতের তীব্রতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকগুণ। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। এ অঞ্চলে সাধারণতঃ মাঘ মাসে শীতের তীব্রতা বেশি থাকলেও এবার পৌষের শুরুতেই তা প্রকট আকার ধারণ করেছে । দিনের বেলায় সূর্যের আলোর প্রায় দেখাই মিলছে না। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে ঘন কুয়াশায় চারিদিক আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে। থাকছে দিনের প্রায় দ্বিপ্রহর পর্যন্ত। রাজধানীগামী এবং রাজধানী থেকে ছেড়ে আসা উত্তরাঞ্চলগামী নাইট কোচগুলো চলছে শ্লোথ গতিতে। দুর্ঘটনা এড়াতে দিনের বেলাতেই হেড লাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে চালকদের। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন না যাত্রীসাধারণ। স্থবির হয়ে পড়েছে কৃষিকাজ। কৃষিবিদদের মতে: শীতের এমন তীব্রতা ও ঘন কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হলে ইরি বোরো চাষের জন্য তৈরিকৃত বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। ফলে ইরি-বোরো চাষে ব্যঘাৎ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। দুর্ভোগ নেমে এসেছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষদের। শীত উপেক্ষা করে কাজে বেরুতে পারছেন না তারা। কেউ কেউ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। রেলওয়ে স্টেশনে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে ভাসমান মানুষগুলো। শীত বেড়ে যাওয়ায় ফুটপাথের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে প্রচণ্ড ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারি,বেসরকারি ও ব্যক্তি বিশেষে অতি দরিদ্রদের মধ্যে শীত বস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে বটে,তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। শীতে সবচেয়ে কাবু হয়ে পড়েছে শিশু এবং বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা। মানুষের পাশাপাশি পশু-পাখিরাও কাহিল হয়ে পড়েছে। হঠাৎ শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বেসরকারি কয়েকটি হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। রোগীদের মধ্যে শিশুরাই বেশি। চিকিৎসকগণ বলছেন,শৈত্যপ্রবাহের ফলে ডায়রিয়া,শ্বাসকষ্ট,এ্যাজমা,নিউমোনিয়াসহ নানা ধরণের রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না নিলে প্রাণহানিরও আশঙ্কা থেকে যায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে,জানুয়ারি মাসকে বাংলাদেশের সবচেয়ে শীতল মাস হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু প্রকৃতির খেয়ালে এবারে তার ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ শৈত্যপ্রবাহ দু’একদিনের মধ্যেই কেটে যাবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তর রংপুর অফিসের আবহাওয়াবিদ মো. নূর আলম। রংপুর ছাড়াও কুড়িগ্রাম,নীলফামারী,লালমনিরহাট,পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলাগুলোতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। রংপুরের রবিবারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০দশমিক ০ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুপুরের পর কুয়াশা কিছুটা কেটে গেলেও বিকেল থেকেই তা প্রকট আকার ধারণ করছে। ফলে দিনের তুলনায় রাতে তাপমাত্রা আরও নেমে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে,ইতোমধ্যেই রংপুরের ৮ উপজেলায় শীতার্তদের মাঝে কিছু কিছু শীত বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে । শীতার্তদের কথা বিবেচনা করে আরও ৫০ হাজার শীতবস্ত্র চেয়ে ত্রাণ মন্ত্রনালয়ে ফ্যাক্সবার্তা প্রেরণ করা হয়েছে।



