রিজার্ভ থেকে মুদ্রা চুরি: শিগগিরই তদন্তে যুক্ত হচ্ছে এফবিআই
বিডিপি ডেস্ক: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে মুদ্রা চুরির ঘটনা তদন্তে গতকাল বৃহস্পতিবার আরও কিছু আলামত জব্দ করেছে সিআইডি। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের বেশ কিছু নথিপত্র ও কম্পিউটার। এ ছাড়া ব্যাংকের ব্যাক অফিস অব দ্য ডিলিং রুম ও ফরেক্স রিজার্ভ ট্রেজারি ম্যানেজমেন্টের কর্মকর্তা ও তাদের স্বজনের নামে-বেনামে ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য সম্পদের তথ্যের খোঁজ নেওয়া হয়। আলোচিত এ ঘটনা তদন্তে সহায়তার জন্য এরই মধ্যে সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। আজ এফবিআইর বাংলাদেশে অবস্থানরত এক কর্মকর্তার সঙ্গে সিআইডির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কোনো কারণে আজকের বৈঠক না হলে তা আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হবে। এফবিআই ও সিআইডি যৌথভাবে যে কোনো সময় বাংলাদেশ ব্যাংকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পারে। এ ছাড়া ইন্টারপোলের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা শুরু করেছে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি। শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফবিআইর একটি সাইবার বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে আসতে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফবিআইর একটি দল অর্থ চুরির ঘটনা তদন্ত করতে ফিলিপাইন গেছে। সিআইডি ও এফবিআই পরস্পরের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করবে। এফবিআই এরই মধ্যে ফিলিপাইনে যেসব তথ্য পেয়েছে তা সিআইডিকে জানাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পাঁচটি সংস্থা। সিআইডি ছাড়াও এ দলে আছে পুলিশ সদরদপ্তর, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সমন্বিত দল। মুদ্রা চুরির ঘটনায় মতিঝিল থানায় দায়ের করা মামলাটির মূল তদন্তের সঙ্গে নিযুক্ত থাকবে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন খানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল। গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটির দিনেও তদন্ত দলের সদস্যরা দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকে যান। সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সিআইডি। কয়েকজনকে গতকালও একান্তে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের একটি দল বাংলাদেশ ব্যাংকে যায়। এ ব্যাপারে সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি শেখ হিমায়েত হোসেন গতকাল সমকালকে বলেন, এরই মধ্যে এফবিআইর সদস্যরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সুষ্ঠুভাবে তদন্ত শেষ করে জড়িতদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে চেষ্টার কোনো ত্রুটি থাকবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক পরিদর্শন শেষে সিআইডির উপমহাপরিদর্শক (এইচআরএম) সাইফুল ইসলাম বলেন, ফরেন এক্সচেঞ্জ এবং সিকিউরিটি সার্ভিল্যান্স ইকুইপমেন্ট জব্দ করা হয়েছে। যেসব কম্পিউটার ব্যবহার করে হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে, তাও জব্দ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য সাবেক গভর্নর আতিউর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি-না সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে সাইফুল ইসলাম বলেন, তদন্তের স্বার্থে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে শুক্রবার দুপুরে এফবিআইর এক কর্মকর্তা আসবেন। একাধিক সূত্র জানায়, ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের আগেই জানানো হয়েছিল, বৃহস্পতিবার ছুটির দিনে তারা যেন ব্যাংকে উপস্থিত থাকেন। গতকালও মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সিআইডির আট সদস্যের দল। সিআইডি কর্মকর্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তারা বুঝতে চেষ্টা করেন, অর্থ চুরির ঘটনায় নেটওয়ার্কিংয়ের কোনো দুর্বলতা ছিল কি-না। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তদন্ত দলের সদস্যরা। গতকাল রাত ৯টা পর্যন্ত সিআইডি বাংলাদেশ ব্যাংকে অবস্থান করে। ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ ও ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের ডিলিং রুমের দায়িত্বরত সব কর্মকর্তার জীবনবৃত্তান্ত খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও তাদের স্বজনদের নামে-বেনামে কী কী সম্পদ রয়েছে, তাও তদন্তের আওতায় আনতে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা গত এক বছর দেশের বাইরে গিয়ে সন্দেহভাজন কারও সঙ্গে দেখা করেছেন কি-না, সে ব্যাপারেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনার নেপথ্যে দেশি-বিদেশি কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি-না, তাও তদন্ত কর্মকর্তারা খুঁজে দেখছেন। তদন্তের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানান, তদন্তের এই পর্যায়ে আলামত ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের ওপর তারা জোর দিচ্ছেন। এসব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে তারা সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তবে এখন যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তথ্য নেওয়া হচ্ছে, তাদের অনেকেই সন্দেহভাজন নন। প্রয়োজনে ব্যাংকের যে কোনো পর্যায়ের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তার যোগসাজশ পাওয়া গেলে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পৃথক তদন্ত দল গঠন করেছে সিআইডি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় গত মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের দু’জন ডেপুটি গভর্নর আবুল কাসেম ও নাজনীন সুলতানাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া ওএসডি করা হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসলাম আলমকে। আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।



