শান্তিতে নেই সাধারণ মানুষ, তারা চায় যানমালের নিরাপত্তা
মোঃ জিয়ায়ুর রহমান, চুকনগর॥ শান্তিতে নেই ডুমুরিয়ার আটলিয়া ইউনিয়নের মানুষ। তারা চায় যানমালের নিরাপত্তা। গোটা এলাকায় ছেয়ে গেছে মাদকসেবীদের হাড্ডা খানা। ফলে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে এবার দল নয়, ব্যাক্তিকে প্রাধান্য দিবেন ভোটারেরা। ডুমুরিয়ার আটলিয়া ইউপি নির্বাচনে দল নয়, ব্যাক্তিকে প্রধান্য দিবেন ভোটারেরা এখানে চেয়ারম্যান পদে ৩জন ও সদস্য পদে ৪৭জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সরেজমিনে ঘুরে এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, বর্তমান উপজেলার সকল অবরাধের টার্নিং পয়েন্ট হিসাবে চিহ্নিত চুকনগর এলাকা। এখানে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ সমাজের বিভিন্ন অপরাধ মুলক কর্মকান্ড নিত্যদিনের চিত্র। এলাকায় পুলিশ প্রশাসনের কড়া নজরদারী থাকলেও হচ্ছেনা কোন পরিবর্তন। অদৃশ্য কোন এক শক্তির ছায়ায় ঘটে চলেছে নিয়মিত এ কর্মকান্ড। আর সাধারণ মানুষ রয়েছে সিমাহীন বিপর্যয়ের মধ্যে। চুকনগর, মালতিয়া, রোস্তমপুর, নরনিয়া, চাকুন্দিয়া, গোবিন্দকাটি, বরাতিয়া, কুলবাড়িয়া, মঠবাড়িয়া, আধারমানিক, বয়ারশিং, মনোহরপুর, মুড়োবুনিয়া, সুন্দরবুনিয়া, পুটিমারী, গেলাবদহ, আটলিয়া, নিচুখালী, চ্যাংমারী ও খুটোখালী গ্রাম নিয়ে অবস্থিত বৃহত্তর আটলিয়া ইউনিয়ন। এখানে প্রায় ৬০ হাজার লোকের বসবাস রয়েছে। আছে প্রায় ২৫ হাজার ভোটার। তারা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে। গোটা এলাকাটি যেন মাদকে গ্রাস করে নিয়েছে। রাতে এবং দিনে প্রকাশ্যে চুকনগর বাজার, কাঠালতলা মঠ মন্দির, রোস্তমপুর, গুচ্ছগ্রাম, ডাকবাংলো পরিত্যাক্ত ভবন, বরাতিয়াসহ ৫০/৬০টি গুরুত্বপূর্ন স্পটে চলে রমরমা মাদকের হাড্ডা। ৩টি জেলার সংযোগস্থল চুকনগর বাজারে বহিরাগতদের আনাগোনার ফলে অপরাধের মাত্রা ক্রমন্বয়ে বেড়ে চলেছে। জনপ্রতিনিধিরাও যেন রয়েছে অলস ভূমিকায়। গত রমজান মাসে চুকনগর বাজার এলাকার প্রশান্ত কুমার দাসের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংগঠিত হয়। ওই সময় তাদের পরিবারকে জিম্মি করে স্বর্নালঙ্কার, নগদ টাকাসহ ৮/১০ লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। একই পদ্ধতিতে জিয়াদ বস্ত্রালয়ের মালিক রবিউল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতি করে ৪লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। কিছুদিন আগে র্যাব পরিচয় মালতিয়া গ্রামের এক ধান ব্যবসায়ীর নিকট থেকে ২লাখ টাকা ছিনতাই করে দৃর্বৃত্তরা। ভুক্তভোগী এসব মানুষ চায় নিরাপত্তা। তারা চায় শান্তিতে বসবাস করতে। এমন অপরাধ মুলক কর্মকান্ডে চিত্রটা যেন আটলিয়া ইউনিয়নের নিত্যদিনের। এই ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান রয়েছে শেখ মোঃ বদরুজ্জামান। তিনি ৪বার আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এবার তিনি (৫ম বার) বিএনপি’র মনোনিত হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। আর আওয়ামী লীগের মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী স,ম, আঃ কাইয়ুম নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া ইসালামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে হাতপাখা প্রতীকে মোঃ হালিম সরদার নির্বাচন করছেন। নির্বাচনী সংক্রান্ত বিষয়ে ৭নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এবার দলমত নির্বিশেষে যোগ্য প্রার্থীকে মানুষ ভোট দিবে। তিনি বলেন বর্তমান চেয়ারম্যান স্বার্থের রাজনীতি করে। সাধারণ মানুষ তার পলিসি’র রাজনীতি বুঝে গেছে। যেকারণে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী ও সমার্থক ইতোমধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।’ কুলবাড়িয়া গ্রামের লিয়াকত আলী গাজী ও শহর আলী শেখ বলেন এবার জনগণ ক্ষেপে গেছে, ‘দলমত নির্বিশেষে কাইয়ুম সাহেবকে ভোট দিবে। সে জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।’ ইউপি সদস্য আঃ হালিম মুন্না বলেন, ‘বর্তমান চেয়ারম্যান মানুষের জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এবার এলাকার মানুষ শান্তি প্রতীক হিসেবে আ’লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কাইয়ুম সাহেবকে ভোট দিবে।’ বিএনপি’র প্রার্থী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ বদরুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমান আমার প্রতিপক্ষ যেহেতু ক্ষমতাসীন দলের। তার কর্মী বাহিনীর অত্যাচারে আমার দলের কর্মী ও সমার্থকরা ইতোমধ্যে ভীত হয়ে পড়েছে। ক্ষমতাসীনরা আচারণ বিধি লংঘন করে নির্বাচনী প্রচারনাসহ মিছিল বের করছে। আর আমাদের লোকদের উপর নানাভাবে ভয়ভীতি দিচ্ছে। উপায়ন্ত না পেরে (গতকাল রবিবার) রিটার্নিং অফিসারের নিকট আবেদন করা হয়েছে। এদিকে দিনের বেলার টানিয়ে আসা পোস্টারগুলি রাত পার না হতেই ছিড়ে ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি থানা পুলিশকেও অবহিত করেছি। তিনি মাদকের বিষয়ে বলেন, যেহেতু ৩টি জেলার অর্থাৎ খুলনা, সাতক্ষীরা ও যশোর জেলার সংযোগস্থল চুকনগর। যেকারণে এখানে বহিরাগতদের আনাগোনা বৃদ্ধি। তাছাড়া সমাজে যারা নেতৃত্ব দেয়, সেই পরিবারের সন্তানেরা বর্তমান মাদকের সাথে কোন না কোন ভাবে জড়িত আছে। যারফলে মাদকসহ অসমাজিক কর্মকান্ড নিয়োন্ত্রনের বাহিরে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন ভাবে নির্বাচন হলে আমি আবারো জয়ী হবো আশাকরি।’ আ’লীগ মনোনিত প্রার্থী স.ম. কাইয়ুম বলেন, ‘আমার পিতা মরহুম এসএম আব্দুল হক সাবেক দুই টার্ম ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে পিতার রেখে যাওয়া অসামাপ্ত কাজগুলি সম্পন্ন করবো এবং জনগণের যানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও এলাকাটি মাদকমুক্ত রাখতে জনগণের কাছে আমি ব্রত হয়েছি। তাছাড়া আমি জনসেবা মুলক কর্মকান্ডের পাশাপাশি চুকনগরকে একটি মডেল শহর হিসাবে গড়ে তুলে জননেত্রী শেখ হাসিনার মুখ উজ্জ্বল করার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছি।’ থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা করতে দেয়া হবে না। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পুলিশসহ সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কঠর নিরাপত্তায় থাকবে।’
মোঃ জিয়ায়ুর রহমান, চুকনগর, খুলনা
মোবা: ০১৯৯০৯৪৪৫৯৮



