সব প্রস্তুতি শেষ, রাত পোহালেই ভোটযুদ্ধ শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ২৩৪ টি পৌরসভার ভোট গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে ব্যালট পেপার। প্রচার-প্রচারণাও শেষ। আজ রাত পোহালেই আগামীকাল বুধবার ভোটযুদ্ধ।
এটি প্রথমবারের মতো দলভিত্তিক পৌরসভা নির্বাচন । মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলেও কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা আসনে ভোট হবে নির্দলীয় ভাবে। এ সুযোগে সাত বছর পর আওয়ামী লীগ, বিএনপির প্রার্থীরা নৌকা এবং ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর উভয় দলই তাদের প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে ভোটের মাঠে লড়বেন।
এ অবস্থায় ভোটের দিন ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনার পাশাপাশি শংকাও বিরাজ করছে ভোটারদের মধ্যে।
আওয়ামী লীগ-বিএনপির এ মর্যাদার লড়াই শান্তিপূর্ণ করতে মাঠে নেমেছে বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ সব ধরনের নির্বাচনী সামগ্রী বিশেষ নিরাপত্তায় ইতোমধ্যেই পৌঁছে যাবে কেন্দ্রে কেন্দ্রে।
এদিকে অবাধ ও সুষ্ঠু পৌর নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সব ধরনের প্রস্ততি সম্পন্ন করেছে ইসি। এরই মধ্যে নির্বিঘ্নে ভোটের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের নিশ্চিন্তে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে কিছু কিছু জায়গায় অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি ঘটে যাওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছে না কমিশন। সেজন্য নির্বাচন প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈধ অস্ত্রবহন ও প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া সহিংসতা রোধে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে চেকিংয়ের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের দাঙ্গা, সন্ত্রাস বা অনিয়ম সংঘটিত হলে কিংবা আইন ও বিধির কোনো বত্যয় ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে ইসি।
এ অবস্থায় পৌর নির্বাচনের নিরাপত্তায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৩০৪ জন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর মধ্যে পুলিশ ৪৫ হাজার, বিজিবি ৯ হাজার ৪১৫ জন, র্যাব ৮ হাজার ৪২৪ জন, কোস্টগার্ড ২২৫ জন, অঙ্গীভূত আনসার ৪৯ হাজার ৭২৮ জন এবং ব্যাটালিয়ন আনসার ৪ হাজার ৫১২ জন। ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে ৮ জন অস্ত্রধারীসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর ২০ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। আর সাধারণ কেন্দ্রে ৭ জন অস্ত্রধারীসহ ১৯ জন সদস্য থাকবেন। প্রতিটি পৌরসভায় সোমবার সকাল থেকে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির মোবাইল টিম টহল শুরু করেছে।
বিশেষ অভিযান শুরু
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী ও অপরাধী ধরতে ইসির নির্দেশে সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) বিশেষ অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খা বাহিনী। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী দুই হাজার ২৯ জন সন্ত্রাসী নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৫৬১ জন ও বিএনপির এক হাজার ১২১ জন রয়েছে। বাকিরা অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের। তাদের ধরতেও নির্দেশ দিয়েছে ইসি। এছাড়া পুলিশ, এপিবিন, আনসার, র্যাব, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সমন্বয়ে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে। প্রতিটি পৌরসভায় একটি করে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্সও দায়িত্ব পালন করছে।
জঙ্গি হামলার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ
এছাড়া ভোটের আগমুহূর্তে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে বিশেষ দৃষ্টি রেখে প্রয়োজনে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করতে বলেছে ইসি। দুই অঞ্চলে পুলিশের বিশেষ শাখার পক্ষ থেকে জঙ্গি হামলার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের কথা জানানো হয়। বিষয়টি বিবেচনা করে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এছাড়া বিভিন্ন সমাবেশ, পথসভা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে।
বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার নির্দেশ
পৌরসভা নির্বাচনে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সোমবার মধ্যরাতের আগেই বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির উপ-সচিব মো. সামসুল আলম রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছেন। স্বেচ্ছায় এলাকা না ছাড়লে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
ফুলপুর থানার ওসিকে প্রত্যাহার
ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল হককে প্রত্যাহারের জন্য মহাপুলিশ পরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ নিয়েছে ইসি। তার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থীকে ভয়-ভীতি ও হুমকি দেয়ার অভিযোগের সত্যতা মেলায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আগে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, কালকিনি, কুলাউড়া ও মতলব উত্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করার নির্দেশনা দেয় ইসি। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি থানার ওসির অনিয়ম খতিয়ে দেখছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি।
প্রস্ততি সম্পন্ন; নির্বিঘ্ন ভোটের প্রতিশ্রুতি
এদিকে নির্বিঘ্ন ভোটের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের নিশ্চিন্তে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ গতকাল সোমবার ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে পর্যাপ্ত আইন শৃঙ্খলা-বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন, কোনো সমস্যা হবে না।
প্রসঙ্গত, মেয়র পদে ৯৪৫ জনসহ মোট ১২ হাজার প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে প্রায় ৩ হাজার ৫৮২টি কেন্দ্রে ৬১ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। প্রায় ৭২ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।



