সৈয়দপুরে বাস-ই যখন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী: নিরিবিলি স্থানে দাড়িয়ে আছে ঝকঝকে একটি এসি বাস। কিছুক্ষণ পরই কয়েকজন কিশোরী এসে উঠে পড়লেন দাঁড়ানো বাসে। বসলেন নিজ নিজ আসনে। চালক সুইচ টিপে গেট বন্ধ করে বাসটি চালু করলেও এক কদমও এগুলো না বাসটি। ইঞ্জিন চালু রেখেই দাঁড়িয়ে থাকলো ঘন্টার পর ঘন্টা। পরে বুঝা গেলো এটি কোন যাত্রীবাহি বাস নয়। আর্নিং এন্ড লার্নিং প্রোগ্রামের ভ্রাম্যমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এটি। বাসের ভেতরের প্রতিটি আসনের সামনে একটি করে কম্পিউটার রয়েছে। সেই কম্পিউটারে বসেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছে কিশোরীরা।
এমন দৃশ্য চোখে পড়লো সৈয়দপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- সৈয়দপুর সরকারী কারিগরী মহাবিদ্যালয়, সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ক্যান্টপাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ প্রভৃতি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দাঁড়িয়ে আছে বাস। বাসের ভিতরে শিক্ষার্থীরা নিজ আসনে বসে কম্পিউটার চালাচ্ছেন। আর তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন সরকারের আইসিটি ডিভিশনের রংপুর বিভাগের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর আব্দুর রহমান ইমন নামে এক ব্যক্তি।
সেখানে কথা হয় প্রশিক্ষকের সাথে। তিনি জানান, কিশোরীদের গ্রাফিক্স ডিজাইন, এমএস অফিস, ইন্টারনেট আউটসোর্সিংসহ নানা প্রোগ্রাম শেখানো হচ্ছে।
প্রোগ্রামটি তত্বাবধান করছেন, সৈয়দপুর উপজেলা তথ্য সেবা কেন্দ্রের টেকনিশিয়ানা হাফিজুর রহমান।
প্রশিক্ষণ নেয়া শিক্ষার্থীরা জানান, সরকার তথা আইসিটি ডিভিশনের এমন উদ্যোগে বেশ খুশি তারা। তারা বলেন, বিনা পয়সায় তারা কম্পিটারের সকল প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন। তাছাড়াও কোন ঘরে নয়, শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বাসের মধ্যেই এমন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করায় এক নতুন অধ্যায় পেয়েছেন তারা।
ডিজিটাল বাংলাদেশ, আইসিটি ডিভিশন, হুয়াই, রবি এর সহযোগিতায় কিশোরীদের নিয়ে লানিং এন্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের টেকসই নারী উন্নয়নে আইসিটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সৈয়দপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো: বজলুর রশীদ জানান, উপজেলার বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে কিশোরীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে বিনা পয়সায়। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কম্পিটারের প্রশিক্ষণ লব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আউটসোর্সিংয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারবে। ফলে তাদের সামনে এক নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হবে। যাতে তারা শিক্ষাজীবন শেষে কর্মসংস্থানের জন্য বসে না থেকে বা হতাশ না হয়ে নিজেরাই নিজেদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করে স্বাবলম্বি হতে পারবে।



