সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদ সদস্যদের উপর বর্বরচিত হামলা: কী সেদিন ঘটেছিল?
মোহাম্মদ আসাদ আলী
গত ১৪ মার্চ সোনাইমুড়িতে স্থানীয় ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বর্বর আক্রমণে প্রাণ হারান হেযবুত তওহীদের এই দুইজন কর্মী। তাদেরকে প্রথমে পাথর মেরে রক্তাক্ত করা হয়, তারপর জবাই করা হয়, হাত-পায়ের রগ কাটা হয়, চোখ উপড়ে ফেলা হয়। সবশেষে লাশের গায়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার পোরকরা গ্রাম। এই গ্রামেরই বাসিন্দা নুরুল হক মেম্বারের পরিবারসহ আশেপাশের আরও আট-দশটি বাড়ির চল্লিশ-পঞ্চাশজন ব্যক্তি ১৯৯৯ সাল থেকেই হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। যারা জানেন না তাদের জন্য একটু বলে রাখা দরকার যে, হেযবুত তওহীদ হচ্ছে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক আন্দোলন। এই আন্দোলনের কর্মীরা ইসলামের নামে চলমান সকল প্রকার ধর্মব্যবসা, অপরাজনীতি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে সচেতন করে চলেছে।
হেযবুত তওহীদের মাননীয় এমামের বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় চুয়াডাঙ্গার হাজার হাজার জনসাধারণ। এভাবেই সারা দেশে হেযবুত তওহীদ শত শত আলোচনা সভা, জনসভা, সেমিনার, প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, মতবিবিনময় সভা ইত্যাদি আয়োজন করে মানুষকে অন্যায়, অবিচার, অসত্য, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, ধর্মব্যবসা ও অপরাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানাচ্ছে।
যেহেতু এই আন্দোলন সকল প্রকার ধর্মব্যবসা, জঙ্গিবাদ ও অপরাজনীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে, তাই স্বভাবতই এই আন্দোলনের কর্মীদেরকে এক শ্রেণির ধর্মব্যবসায়ী ও জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর রোষানলে পড়তে হয়। এরই অংশ হিসেবে ২০০৯ সালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে স্থানীয় ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীর ইন্ধনে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার শুরু হয়। ধর্মভীরু মানুষকে বোঝানো হয় হেযবুত তওহীদ খ্রিস্টান হয়ে গেছে। মসজিদের খুৎবায়, ওয়াজে-মাহফিলে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে অপপ্রচার অব্যাহত রাখা হয়। গ্রামবাসীকে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ভুলভাল তথ্য দিয়ে উত্তেজিত করা হতে থাকে। এভাবে ধর্মভীরু মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম বানিয়ে নেয় ধর্মজীবী ষড়যন্ত্রকারীরা। তারপর একদিন সুযোগ বুঝে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের উপর হামলা চালায় তারা। আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় আটটি বাড়ি। লুণ্ঠিত হয় টাকা-পয়সা, আসবাবপত্র। পৈশাচিক ওই আক্রমণে সেদিন নারী-শিশুসহ হেযবুত তওহীদের অনেক সদস্য গুরুতর আহত হয়। পরিহাসের বিষয় হলো- বর্বরোচিত ওই হামলায় ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হেযবুত তওহীদের সদস্যদের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করে তাদেরকে জেলে ঢোকানো হয়। আর আক্রমণকারী ষড়যন্ত্রকারীরা এলাকা দাপিয়ে বেড়ায় নির্বিঘ্নে।
২০০৯ সালে বর্বরোচিত হামলায় ভস্মীভূত হওয়া হেযবুত তওহীদের সদস্যদের একটি বাড়ি। এরকম আরও আটটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে তারা সম্পূর্ণভাবে জ্বালিয়ে দেয়।
এরপর আদালত থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হলে হেযবুত তওহীদের সদস্যরা পুনরায় তাদের আবাসভূমিতে ফিরে গিয়ে নতুনভাবে বাড়ি নির্মাণ করে। তারা অতীতের দুঃসহ স্মৃতিকে মুছে ফেলে গ্রামের আর দশজনের মতই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে থাকে। কিন্তু স্থানীয় ষড়যন্ত্রকারী জঙ্গিবাদী জামাত-হেফাজত-চরমোনাইদের অপপ্রচার বন্ধ থাকে নি এক দিনের জন্যও। তারা সুযোগ খুঁজতে থাকে নতুন কোনো ইস্যুর সন্ধানে যাতে করে আবারও ২০০৯ সালের নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে।
কিছুদিন আগে হেযবুত তওহীদের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারা বাড়ির আঙ্গিনায় একটি মসজিদ নির্মাণ করবে। কাছে কোনো মসজিদ না থাকায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে সমস্যা হত। তাই এ সিদ্ধান্ত। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, এমন একটি সাধাসিধে বিষয়েও স্থানীয় জামাত ও হেফাজতের পক্ষ থেকে ভয়ানক ষড়যন্ত্র শুরু হলো। হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে মসজিদ নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হতেই মসজিদের ইমাম-মুসল্লি বেশধারী জামাত-হেফাজত চক্র বিষয়টিকে নিয়ে এমন নির্জলা মিথ্যা ছড়াতে লাগল যা শুনে আমরা নিজেরাই হতবাক হয়ে যাই। তারা এলাকায় জোর অপপ্রচার চালাতে লাগল যে, হেযবুত তওহীদ হচ্ছে কুফরী সংগঠন, এরা অনেক আগেই খ্রিস্টান হয়ে গেছে, এবার তারা গ্রামে গীর্জা নির্মাণ করতে চাচ্ছে। এদেরকে প্রতিরোধ করা সবার ঈমানী দায়িত্ব। এদেরকে হত্যা করা ফরজ। এদেরকে গ্রামে থাকতে দিলে কারও ঈমান থাকবে না ইত্যাদি।
হেযবুত তওহীদ আন্তধর্মীয় ঐক্য চায়- এ কারণে নাকি হেযবুত তওহীদ কুফরি সংগঠন হয়ে গেছে, তারা এখন কাফেরদেরকে হত্যা করে নিজেদের জান্নাত পাকাপোক্ত করতে চায়। এই হ্যান্ডবিল তারা গ্রামের প্রতিটি মসজিদে মসজিদে দোকান-পাটে প্রচার করেছে। কথিত ইসলামী রাজনীতি করে এমন ইমাম সাহেবরা খুৎবায় এই ফতোয়ার হ্যান্ডবিল পড়ে পড়ে মুসল্লিদেরকে প্ররোচিত করেছে হেযবুত তওহীদের সদস্যদেরকে আক্রমণ করতে।
এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, অধিকাংশ ধর্মপ্রাণ মানুষের ঈমান নিয়ন্ত্রণ করে ওই ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোই। কাজেই মানুষকে এই ডাহা মিথ্যা কথা বিশ্বাস করাতেও তাদের তেমন বেগ পেতে হয় নি। মাত্র একটি ঘরের ভিত্তি স্থাপন করা হচ্ছে, মাত্র খুঁটি গাড়া হয়েছে, এমন একটি চিহ্নও কেউ দেখাতে পারবে না যাতে ঘরটিকে গীর্জা ভাবার বিন্দুমাত্র যৌক্তিকতা থাকে, অথচ অনেকে ধর্মব্যবসায়ীদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে মিথ্যাকে বিশ্বাস করে নিল। উল্লেখ্য, ঘটনার দুই দিন আগে থেকে হেযবুত তওহীদের নির্মাণাধীন ওই মসজিদে নিয়মিত আজান দেওয়া হচ্ছিল এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও পড়া হচ্ছিল।
যাই হোক, গত কয়েকদিন আগে গ্রামের বাজারে ও আশেপাশের মসজিদগুলোতে মোটরসাইকেলে চেপে কোথা থেকে একদল টুপি-পাঞ্জাবি পরিহিত লোক আসে। তাদেরকে এলাকার মসজিদগুলোতে একটি ফতোয়াসম্বলিত হ্যান্ডবিল বিলি করতে দেখা যায়। কোথায় থেকে তারা এসেছে, কে তাদের পাঠিয়েছে, কে ফতোয়া প্রদান করেছে এখনও বিষয়টা রহস্যে ঘেরা। প্রশাসনিক সুষ্ঠু তদন্ত হলে আশা করা যায় তাদের নাম-পরিচয় জানা যাবে। তবে আমরা বিস্মিত হই যখন জানতে পারি তাদের উদ্দেশ্য ছিল- আর কিছু নয় হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে এলাকার জনগণকে উস্কে দেওয়া। তারা হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধেই ওই ফতোয়ার কাগজ ছড়াচ্ছিল।
ক্যাপশনের কোনো দরকার আছে বলে মনে করি না।
‘হেযবুত তওহীদ একটি কুফরী সংগঠন’ শিরোনামের যে নাম-পরিচয়হীন হ্যান্ডবিল তারা সর্বত্র বিলি করেছে তাতে হেযবুত তওহীদের বিভিন্ন বক্তব্যকে খণ্ডিত ও বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে, কোথাও আবার সম্পূর্ণ নিজেদের মনগড়া কথা আমাদের নামে চালিয়ে দিয়েছে। হ্যান্ডবিলটি সংগ্রহ করে পড়ার পর তাদের মোটিভ বুঝতে আমাদের আর বাকি রইল না। তারা এমনভাবে হ্যান্ডবিলটি সাজিয়েছে যা খুব সহজেই একজন ধর্মভীরু মানুষকে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে সহিংস কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত করতে সক্ষম। এটা বোঝার পরই আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করি এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাই। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে বিষয়টির যথাযথ গুরুত্ব উপলব্ধি করতে প্রশাসন ব্যর্থ হয়। যে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতে পারে জেনেও প্রশাসন কেন আগে থেকেই সজাগ হলো না তার উত্তর আমরা আজও পাই নি।
কী ভয়ানক উসকানি। মার্ক করা কমেন্টটা লক্ষ্য করুন, শিউরে উঠবেন। এই ফেসবুক আইডিটার ফলোয়ার প্রায় ৩৮, ০০০। এই প্রচারণার ফল কত ভয়াবহ হতে পারে চিন্তা করেছেন কখনও?
ঘটনার দিন সকালে।
অবশেষে গত ১৪ মার্চ ষড়যন্ত্রকারী লেবাসধারী জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের সুদিন এসে গেল। ওইদিন সকাল থেকে হাজার হাজার সন্ত্রাসী একত্রিত হয়ে মিছিল করতে থাকে এবং হেযবুত তওহীদের সদস্যদের হত্যা করতে প্ররোচিত করে এমন উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। ফর্মালিটি রক্ষার জন্য ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি পেশ করার উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও মূলত তাদের ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী পরিকল্পনা আগে থেকেই সাজানো ছিল। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা প্রস্তুত রেখেই তারা মিছিল বের করে। এরই মধ্যে ইউএনও কার্যালয়ে যেতে পুলিশি বাধার মুখে পড়লে এবং পুলিশ স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা করবে বলে শান্তনা দিলে তারা পরিকল্পনা ভেস্তে যাবার আশঙ্কায় এবার তৎক্ষনাৎ হেযবুত তওহীদের সদস্যদের ঘরবাড়ি অভিমুখে রওনা দেয়। অপপ্রচারের ষোলো কলা পূর্ণ হয় যখন তারা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয় যে, হেযবুত তওহীদের সদস্যরা তাদের উপর হামলা করেছে। ব্যস, এবার সবাই আরও ক্ষিপ্ত হয়ে একযোগে আমাদের নিরাপরাধ কর্মীদের উপর হামলে পড়ে।
হামলার জন্য লোক জড় করা হচ্ছে। নেতৃত্বে আছে স্থানীয় ধর্মব্যবসায়ী জামাত-হেফাজত-চরমোনাই গোষ্ঠী।
শুরু হয়েছে মিছিল, উস্কানিমূলক স্লোগান। অভিমুখ হেযবুত তওহীদের সদস্যদের বাড়িঘর।
হামলার পূর্বপ্রস্তুতি।
দেশীয় অস্ত্র।
বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে তারা খুব সহজেই হেযবুত তওহীদের মুষ্টিমেয় সদস্যের ক্ষুদ্র প্রতিরোধ ব্যর্থ করে দেয়। তারপর শুরু হয় নৃশংসতার নতুন ধারা। তারা আমাদের দুইজন সদস্যকে প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যা করে। তাদের চোখ উপড়ে নেয়, হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়। তারপর লাশের উপর পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। হেযবুত তওহীদের সদস্যরা প্রায় সবাই আহত হয়ে শয্যাগ্রহণ করলে হামলায় নেতৃত্ব দানকারী জামাতপন্থী মসজিদের ইমামের নির্দেশে সন্ত্রাসীগুলো একের পর এক আমাদের সদস্যদের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিতে থাকে। সেই সাথে চলতে থাকে দেদারছে লুটপাট। দুঃখের বিষয় হলো- এত কিছু হয়ে যাচ্ছে, প্রায় চার ঘণ্টা ধরে কয়েকটি বাড়িকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখে সন্ত্রাসী হামলা চলছে, তবু ঘটনাস্থলে পুলিশ-প্রশাসনের পদচিহ্ন পড়ে নি। পুলিশের সাথে আমাদের সদস্যরা প্রথম থেকেই যোগাযোগ রক্ষা করে এসেছে, সাহায্য চেয়েছে বারবার। কিন্তু রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে রাখায় নাকি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে নি। ফলে পর্যাপ্ত সময় পেয়ে বেশ নির্বিঘ্নে নিশ্চিন্তে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে ওই সন্ত্রাসী ধর্মোন্মাদরা।
শুরু হয়েছে ভাঙচুর। হেযবুত তওহীদের সদস্যরা একটি বাড়িতে ঢুকে কোনোরকমে প্রাণ রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে। চারদিকে থেকে ঘিরে রেখেছে হামলাকারীরা। আর অসহায় নীরব দর্শক হয়ে সবকিছু দেখছে গ্রামবাসী।
এই হামলার পেছনে অনলাইন প্রচারণা ছিল নজিরবিহীন।
নৃশংসতা-বর্বরতা
জ্বালিয়ে দেওয়া হয় লাশগুলোকেও।
অবশেষে পুলিশ পৌঁছেছে ঠিকই, তবে তার আগেই দুইজন নিরাপরাধ সদস্যকে হারিয়েছি আমরা। প্রশাসন সতর্ক থাকলে হয়ত এই দুইটি প্রাণ বেঁচে যেত। পরিহাসের এখানেই শেষ নয়, হেযবুত তওহীদের যে সদস্যরা শেষাবধি প্রাণে রক্ষা পেলো, নিছক আত্মরক্ষা করার নিস্ফল প্রয়াস চালানোর অপরাধে উল্টো তাদেরকেই জেলে ঢোকানো হয়েছে।
অবশেষে পুলিশ এসেছে হয়ত লাশগুলো বুঝে নেয়ার জন্য।
হামলাকারী সন্ত্রাসীরা সমস্ত এলাকায় দিবারাত্রি যে নারকীয় তাণ্ডব চালালো, তিনজন মানুষকে প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংসভাবে হত্যা করল, পুলিশ সদস্যদের উপর আক্রমণ চালালো, বাজারের দোকানপাট ভাঙচুর করল, রাস্তার গাছগুলো কেটে ফেলল, আগুন দিয়ে কয়েকটি বাড়ি জ্বালিয়ে ভস্ম করে দিল, এমনকি থানায় পর্যন্ত আক্রমণ চালালো তারা আজ নির্বিঘ্নে বীরের বেশে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, আর যারা নিজেদের প্রাণ রক্ষা করার ব্যর্থ প্রয়াস চালাতে গিয়ে আহত হয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছে তাদেরকেই পুলিশ আদালতে চালান করে রাষ্ট্রীয় আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর উপযুক্ত প্রতিদান দিয়েছে বৈ কি।
তিনি ইসলামের পক্ষে এই প্রথম জেহাদ করলেন। কোনো কারণে তিনি ২০০৯ সালের জেহাদটা মিস করে ফেলেছিলেন।
চার ঘণ্টাতে তাদের পোষায় নি। এতবড় পরিকল্পনা, এতদিনের প্রচার-প্রচারণা শেষে যে জিহাদের আয়োজন তারা করেছে তাতে মাত্র দুইজনকে পুড়াতে পেরেছে। বাকি পঞ্চাশ-ষাটজনকে পুড়াতে না পারার যে কী বেদনা তা তারা উপলব্ধি করছে।
নোয়াখালীবাসীকে অভিনন্দন।
ফতোয়া পাওয়া গেছে।
চাপাতিওয়ালারাও এই ঘটনায় দারুন খুশি। তবে চাপাতিথেরাপি কাজে লাগানোর কথাও ভাবছে তারা।
থানায় হামলা করে কারা? একবার ভাবুন তো, গ্রামের সাধারণ ভুখা-নাঙ্গা মানুষ রাত বারোটায় থানায় হামলা করবে? কতটা বাস্তবতাসম্মত এটা? ভয়ে এরা কেউ থানার আশেপাশে হাটতে সাহস পায় না, তারা করবে থানা আক্রমণ? বস্তুত যারা এই হামলার পরিকল্পনা করেছে, মানুষকে সংগঠিত করেছে, হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে, এবং এ ধরনের কাজ করে যাদের অভ্যাস রয়েছে, এটা তাদেরই কাজ।
একটি অন্যায় শত অন্যায়ের জন্ম দেয়। অপরাধ অপরাধই, ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট থেকে করা হয়েছে বলেই কোনো অপরাধ ক্ষমার যোগ্য হয়ে যায় না। পাবলিক সেন্টিমেন্টের দোহাই দিয়ে অপরাধীদের পার পাইয়ে দেওয়ার একটি প্রবণতা আমরা লক্ষ করে থাকি। কিন্তু এভাবে যে রাষ্ট্রের জন্য কত বড় বিপদ ডেকে আনা হচ্ছে তা কি কেউ ভেবে দেখেছেন? ধর্মের নামে এই উন্মাদনাকে এভাবে চলতে দিলে শেষাবধি কেউই রক্ষা পাবে না। আজ হেযবুত তওহীদ আক্রান্ত হয়েছে, কাল কে আক্রান্ত হবে কেউ জানে না।
অভিসন্ধী বাস্তবায়িত।
হেযবুত তওহীদের সাথে আপনার ব্যক্তিগত মতপার্থক্য থাকতে পারে, এটা কোনো বিষয় নয়। হেযবুত তওহীদ ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু এই মতপার্থক্য যদি আপনাকে রাষ্ট্রে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া থেকে বিরত রাখে তাহলে অপেক্ষা করতে হবে ভয়াবহ কোনো পরিস্থিতির জন্য। হেযবুত তওহীদের পক্ষে না দাঁড়ান, এই দেশের পক্ষে তো দাঁড়াবেন, জনগণের পক্ষে তো দাঁড়াবেন।
লেখক: হেযবুত তওহীদ সদস্য।



