বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় বেগবান হচ্ছে আন্দোলন-অনিশ্চয়তায় ৮৬ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী
বেরোবি প্রতিনিধ, রংপুর: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বহুমূখী আন্দোলন দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কমকর্তা-কর্মচারীর বিভিন্ন দাবির বহুমূখী আন্দোলনে ক্রমান্বয়ে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। চলমান আন্দোলনের সমাধান না হওয়ায় এদিকে বিপাকে আর অনিশ্চয়তায় পড়েছে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ৮৬ হাজারেরও বেশি ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থী। দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা প্রায় শেষের দিকে হলেও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও পূর্ণ নির্ধারণ করা হয় নি। ফলে অনিশ্চয়তায় পড়েছে ৮৬ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর জীবন। জানা যায়, গত ৪,৫ও ৬ ই ডিসেম্বর ভর্তি পরীক্ষার নির্ধারিত তারিখ বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সংকটের কারণে আবেদনের মেয়াদ গত কাল ২৫ শে নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। গত কাল দুপুর ২টা পর্যন্ত ৮৬ হাজারেরও বেশি ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীর আবেদন জমা পড়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোর্শেদ উল আলম রনি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালেয়র বহুমূখী আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অচল অবস্থার নিরসন না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঠিক করতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এদিকে এই অবস্থার আশু কোন সমাধান না হয়ে উল্টো বহুমূখী আন্দোলনের আকার তীব্রতা ধারণ করছে। জানা যায়, গত কাল সকাল ১১টা থেকে কলা অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষক সমিতির দাবির ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করে মানববন্ধন করে কলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধান পদে কেউ না থাকায় বিভিন্ন প্রয়োজনে স্বাক্ষর নিতে পারছেন না তারা। একই সময়ে বিভাগীয় প্রধান লাইব্রেরিতে বই, বিভাগীয় সেমিনার কক্ষ ও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্র্থীরা। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা একটি র্যালি নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনে গিয়ে উপাচার্যের কাছে দাবি সম্বলিত একটি স্বারকলিপি প্রদান করে। এদিকে ৭ দফা দাবিতে অটল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির প্রতিবাদ অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবাদ অবস্থানের ৬ষ্ঠ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শিক্ষক সমিতির আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন। এতে শিক্ষকদের আন্দোলনে নতুন মাত্রা ও শক্তি জোড়ালো হলো বলে মনে করছেন অনেকে। একই সাথে আঠারো মাসের বেশি বকেয়া বেতন ও ভাতাদি ও চাকুরি স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বেতন না পাওয়া ১৫২ জন কর্মকর্তা কর্মচারী। সবমিলিয়ে গত দিনগুলোর চেয়ে আন্দোলনের তীব্রতা একটু বেশি মনে করছেন অনেকে। এবিষয়ে উপাচার্র্য প্রফেসর ড. একেএম নূর-উন-নবী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির দায় শিক্ষকদেরকেই নিতে হবে। শুধু গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে নয়, অন্যান্য বিভাগেও একই সমস্যা বিদ্যমান। সবমিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি একটি জটিল পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। এদিকে নতুন শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে আদালতে নিষেধাজ্ঞা থাকায়, পদ থাকলেও নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না। শিক্ষকরা তাদের দাবিতে অনড় থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না। শিক্ষার্থীদের কথা তাদের বিবেচনা করতে হবে। ইউজিসি ও নিয়ম বহির্ভূত কোন কাজ আমি করতে পারব না। ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীর ব্যাপারে জানান, চলমান সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।



