রংপুরে সাংবাদিক উৎস রহমানকে খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক ৬
রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরে স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক মশিউর রহমান উৎস খুনের ঘটনায় পুলিশ মাদক সম্রঙ্গী রোকশানা পারভিনসহ ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ জগতের রিপোর্ট করাসহ ওই অপরাধ জগতের অনেক তথ্য জানার কারনে তাকে খুন করা হয়েছে বলে পুলিশ ধারনা করছে। আটককৃতদের ডিবি পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে রংপুরে কর্মরত সাংবাদিকরা। আজ সোমবার রংপুর সম্মিলিত সাংবাদিক সমাজের নামে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওসহ স্মারক লিপি প্রদান করে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়েছে।
গতকাল রোববার বেলা ১১টায় রংপুর প্রেসক্লাবে এ নিয়ে জরুরী বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রংপুর প্রেসক্লাব, সিটি প্রেসক্লাব রিপোর্টস ক্লাব, , ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন ও টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম এর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারসহ শাস্তির দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে নানা আলোচনা হয়। সেখানে আন্দোলন কর্মসূচি পরিচালনার জন্য একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়। রংপুর প্রেসক্লাব সাধারন সম্পাদক আলী আশরাফকে আহবায়ক ও সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি শরিফুজ্জামান বুলুকে সদস্য সচিব করে ১৮ সদস্য বিশিষ্ট ওই কমটি গঠন করা হয়। সেখানে সোমবার পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওসহ স্মারক লিপি প্রদান করে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতার করতে না পারলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে বলে বলা হয়।
উল্লেখ্য গত বুধবার গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত সাংবাদিক মশিউর রহমান উৎসকে গাছের সাথে বেঁধে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুঁপিয়ে হত্যা করে। এ সময় খুনিরা তার মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা নিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার সকালে তার লাশ রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের ধান গবেষনা ইনিস্টিটিউটের কাছে গাছের সাথে বাঁধা অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে নিহত সাংবাদিকের মা নুরজাহান বেগম বাদি হয়ে কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই হত্যা মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশের কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে।
রংপুর পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক পিপিএম যুগান্তরকে জানান, তারা নিশ্চিত হয়েছেন মাদক সংক্রান্ত অপরাধ জগতের রিপোর্ট নিয়ে বিরোধের কারনে ওই খুনের ঘটনা ঘটেছে। খুনিরা তার ঘনিষ্ট এবং তাদের সাথে তার সখ্যতা ছিল। তিনি আশা করেন খুনিদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া মোটরসাইকেল, ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা গেলে খুনের ঘটনা সম্পর্কে আরও পরিস্কার ধারনা করা যাবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা এ সব দিক বিবেচনা করেই মাঠে কাজ করছেন।
এ দিকে ওই ঘটায় পুলিশের কাছে সন্দেভাজন কথিত র্যাবের সোর্স রাজুসহ (র্যাব রাজু) কয়েকজন পলাতক রয়েছে। তাদের পুলিশ খোঁজ করছে। একজন বড় মাদক ব্যবসায়ীর খোঁজে পুলিশ মরিয়া হয়ে ওঠেছে। পুলিশের একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রংপুর রেল স্টেশনসহ ঘটনাস্থলের একটি মাদক সিন্ডিকেট চক্র রংপুরের মাদক অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রন করেন। এই অপরাধ সুবিধাভোগি ও পৃষ্টপোষকতা করেন দুই সাংবাদিক। তাদের সম্পর্কেও পুলিশ খোঁজ খবর নিচ্ছেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে সাংবাদিক মশিউর রহমান উৎস খবর প্রকাশ করায় কিছুদিন পূর্বে ওই সিন্ডিকেট চক্রের কয়েকজন গ্রেফতার হন। তারা এখন কারাগার থেকে জামিনে বেড়িয়েছেন। ওই খুনের ঘটনার সাথে তারাও জড়িত কি না সে বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখে খুনের মামলার তদন্ত করছেন।



