রাত পোহালেই ভোটযুদ্ধ! নৌকার পালে দক্ষিণের হাওয়া, ধানের শীষ দ্বিধা দ্বন্দে
উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: আসন্ন ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় পৌরসভা নির্বাচনের আর মাত্র একদিন বাকি। প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা শেষ পর্যায়ে। নড়াইল পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস নৌকা প্রতীকে ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জুলফিকার আলী মন্ডল ধানের শীষ প্রতীকে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এছাড়া রয়েছেন একাধিক সতন্ত্র প্রার্থীও। ঘরে বসে নেই প্রার্থীদের স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়স্বজনরাও। কিন্তু পৌরসভার ভোটারদের সাথে কথা বললে দেখা যায় উল্টো চিত্র। উন্নয়নের কথা উঠলেই ক্ষেপে যাচ্ছেন ভোটাররা। তারা বলছেন, পৌরসভায় উন্নয়ন হয়নি, প্রসার হয়েছে দুর্নীতির। আর বেড়েছে বখাটেদের উৎপাত। নড়াইল পৌরসভাটি কাগজে কলমে মডেল পৌরসভা হিসেবে স্থান পেলেও পৌরবাসী রয়েছেন অন্ধকারে। অনেকেই অভিযোগ করে বলেছেন, প্রদীপের নিচে অন্ধকার। অপর্যাপ্ত পানি সরবরাহ, অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ, নোংরা পরিবেশ, মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা, খেলার মাঠ, শিশুদের বিনোদন কেন্দ্রের অভাব, মাদকের ভয়াবহতা এবং বখাটেদের উৎপাতসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত প্রথম শ্রেণীর এই মডেল পৌরসভাটি। এছাড়া, ভবনকেন্দ্রিক দুর্নীতির দিক থেকেও এই পৌরসভাটি পিছিয়ে নেই। এসব বিষয় এখন পৌর ভোটের রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সরজমিনে নড়াইল পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে কথা হলে বেরিয়ে আসে নানা তথ্য ও অভিযোগ। প্রায় মানুষই তুলে ধরেন পৌর এলাকার মানুষের নাগরিক সুবিধা নিয়ে। পৌর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, কাগজে কলমে নড়াইল পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণীর হলেও বাস্তবে তা উল্টো। উন্নয়নের দিক থেকে এ পৌরসভা কোন ক্লাসের মধ্যে পড়ে না। আর ভোট এলেই যত উন্নয়নের বাণী শোনায় প্রার্থীরা। ভোট চলে গেলে আর কোন খোঁজ থাকে না। তাই এবার আগে উন্নয়নের হিসাব মিলাবো, তারপর দেখে শুনে ভোট দেবো। পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডেরকে বাসিন্দা বলেন, নড়াইল পৌরসভায় যদি যোগ্য লোক নির্বাচিত না হন তাহলে পৌরসভার উন্নয়ন সম্ভব না। জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মীর সাথে কথা বলে জানা যায়, আমাদের পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হিসেবে যে উন্নয়নের কথা ছিল আমরা সাধারণ পৌরবাসী ও ভোটার হিসেবে তা পাইনি। আমাদের পৌরসভায় উন্নতমানের শিশুপার্ক নেই। শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি মাত্র চিত্রা নদীর কুল এখন আবর্জনার স্তুপ। তাই এবার আমরা সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে বেছে নেবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে নড়াইলকে সত্যিকারের মডেল পৌরসভায় রুপান্তরিত করবো। পৌর এলাকার রিকশাচালক আবুল মিয়া জানান, রাস্তাঘাটের অবস্থা তেমন ভালো (২য় পাতায় দেখুন) নেই। ভাঙাচুরা রাস্তায় রিকশা চালাতে খুবই কষ্ট হয়। ভোটের সময় হইছে তাই আমাদের কদর বাড়ছে প্রার্থীদের কাছে। এবার এমন একজনকে বেছে নেবো যিনি আমাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা ভাববেন। গৃহীনি পারভীন বেগম জানান, ভোটের সময় মুখে কথার ফুলঝুরি নিয়ে হাজির হন প্রার্থীরা। পাশে নদী থাকতেও বর্ষাকাল এলেই রাস্তাঘাট, ড্রেনে পানি জমে। তলিয়ে যায় রাস্তাঘাট। যা নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয় না। তাই এবার ভোটও সেই ভাবেই দেবো। দক্ষিণ নড়াইলের বাসিন্দা আব্দুল আলিম বলেন, মাছিমদিয়া গ্রামে একটি শিশুপার্ক করার জায়গা নির্ধারণ থাকলেও আজও পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি। জায়গাটি তদারকির অভাবে এখন মাদকসেবী আর ভবঘুরেদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। সুশীল সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধির সাথে কথা বলে জানা যায়, নড়াইল শহরের সৌন্দর্য বর্ধন চিত্রা নদীর কুলটি এখন ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রভাবশালীদের কব্জায় চলে যাচ্ছে নদীর দুই কুল। অথচ স্থানীয় প্রশাসন এই নদীটিকে ঘিরে শহরবাসীকে কতই না স্বপ্ন দেখিয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল ফুলের গাছে ঘেরা ও পাড় বাঁধানো খালসহ হাঁটাচলার জন্য মনোরম একটি ওয়াকওয়ে থাকবে। পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা আর অবহেলায় সবকিছুই যেনো ভেস্তে যাচ্ছে। নড়াইলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মেয়র মোস্তফা কামাল বলেন, আমি কিছু দিনের জন্য দায়িত্ব নিয়ে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। যাতে পৌরবাসীর দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমেছে বলে আমি আশা করি। আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস বলেন, আমি দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের দুঃখ, দুর্দশা সম্পর্কে আমি জেনেছি। এবার নেত্রী দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। পৌরবাসী যদি নৌকায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করেন তাহলে আমি জনগনের পাশে থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে নড়াইল মডেল পৌরসভাকে সত্যিকারের ডিজিটাল পৌরসভায় রুপান্তরিত করবো। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জুলফিকার আলী মন্ডল বলেন, আমি ক্ষমতায় থাকাকালীন নড়াইল পৌরসভায় কোটি কোটি টাকার কাজ করেছি। সুখে দুঃখে পৌরবাসীর পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। জনগনই ভোটের মাধ্যমে তার প্রমান দেবে। অপরদিকে, দলীয় মনোনীত প্রার্থীর সমর্থনে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে পুরোদমে গণসংযোগে নেমে পড়েন জেলা আ’লীগের সভাপতি এ্যাড. সুবাস চন্দ্র বোস, সাধারণ সম্পাদক নিজামউদ্দিন খান নিলুসহ যুবলীগ, ছাত্রলীগে নেতাকর্মীরা।



