Connecting You with the Truth
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

- Advertisement -

শাশুড়ির সম্পত্তির কারণে খুন হন গাংনীর নাজিম

মেহেরপুর প্রতিনিধি:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাদিয়াপাড়া মহব্বতপুর গ্রামের নাজিম উদ্দীন (৪৫) হত্যাকাণ্ডের জট খুলতে শুরু করেছে।
নাজিমের শাশুড়ি রহিমা খাতুনের নামে থাকা সম্পত্তি হাতিয়ে নিতেই প্রতিবেশী বিল্লাল হোসেন কৌশলে গণপিটুনির নাটক সাজিয়ে নাজিমকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মোক্তার হোসেন।
তিনি জানান, নাজিমের শ্বশুর মহসিন আলী মারা যান প্রায় ৫ বছর আগে। এরপর শাশুড়ি রহিমা ৬ বিঘা জমিসহ বাড়ির সম্পত্তির মালিক হন। এরইমধ্যে প্রতিবেশী ইলিয়াছের সঙ্গে পরকীয়ার জের ধরে বিয়ে হয় রহিমার। বিষয়টি নিয়ে জামাতা নাজিমের বিরোধের দেখা দিলে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে রহিমাকে তালাক দেয় ইলিয়াছ। রহিমার কাছ থেকে ওই ৪০ হাজার টাকা ধার নেয় তার আরেক প্রতিবেশী বিল্লাল হোসেন। একপর্যায়ে রহিমার সব সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে কৌশলে রহিমার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি করেন বিল্লাল। সে সময় প্রতিদিনই বিল্লাল মোবাইল ফোনে রহিমার সঙ্গে কথা বলে তাকে আয়ত্তে আনার চেষ্টা করেন।
তদন্তে আরো জানা যায়, গত ১ মে থেকে ১২ মে রাত পর্যন্ত বিল্লাল ও রহিমার মধ্যে মোবাইল ফোনে ১৪৭ বার কথা হয়। ঘটনার দিন ১২ মে রাতে বিল্লাল কৌশলমতো রহিমাকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। কিন্তু বিষয়টি টের পেয়ে শাশুড়ির পিছু নেয় নাজিম। বিল্লাল বিষয়টি বুঝতে পেরে উল্টো নাজিমের বিরুদ্ধে গরু ও কবুতর চুরির অপবাদ দিয়ে প্রতিবেশীদের ডেকে গণপিটুনি দেয়। পরদিন হাসপাতালে নাজিমের মৃত্যু হয়।
এ সময় নাজিমকে রক্ষা করতে গিয়ে রহিমাও মারাত্মক আহত হন। সকালে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তার বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করে বিল্লালের লোকজন। ওই মামলায় রহিমা কিছুদিন কারাগারে থেকে জামিন পান।
ওসি আরো জানান, পুলিশি তদন্তে মূল রহস্য বেরিয়ে আসায় আসামিরা গাঁ ঢাকা দিয়েছে। বিল্লাল হোসেন বেশ কিছুদিন আগেই সেই মোবাইল নম্বর বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সামাদ ও মাসাদসহ অভিযুক্তদের পুলিশ গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। দ্রুত তাদের সবাইকে গ্রেফতার করা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.