‘কাস্টিং কাউচ’ নিয়ে মুখ খুললে ক্যারিয়ার শেষ!

0
‘কাস্টিং কাউচ’ নিয়ে মুখ খুললে ক্যারিয়ার শেষ!

‘কাস্টিং কাউচ’ নিয়ে মুখ খুললে ক্যারিয়ার শেষ!

‘কাস্টিং কাউচ’ নিয়ে বলিউডে মুখ খুললে নিজের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে, হারাতে হবে গ্ল্যামার জগৎ—এই ভয়ে গুরুতর সমস্যা হওয়ার পরও ‘কাস্টিং কাউচ’ নিয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। এমনটাই বলছেন বলিউড তারকা ইলিয়ানা ডি ক্রুজ। তাঁর মতে, কোনো তারকা নিজের ক্ষতি করতে চান না। কারণ, প্রথম সারির এই তারকারা সবাই প্রতিষ্ঠিত। তাঁদের অনেকেরই দুর্ভাগ্য, কারণ অনেককেই কাস্টিং কাউচের শিকার হতে হয়েছিল।

বলিউডে কাস্টিং কাউচের সবচেয়ে বেশি শিকার হন নতুন মেয়েরা। তাঁদের ব্যাপারে ইলিয়ানা ডি ক্রুজ বললেন, বলিউডে অভিনয়ের অনেক স্বপ্ন তাঁদের চোখে। নিশ্চয়ই কেউ চান না, তাঁদের ক্যারিয়ার শুরুতেই শেষ হয়ে যাক। আর এ কারণেই কাস্টিং কাউচের ঘটনা সব সময় ধামাচাপা পড়ে যায়।

ইলিয়ানা ডি ক্রুজের দাবি, ভারতে বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পূজা করা হয়। সেখানে কাস্টিং কাউচ নিয়ে মুখ খুললে যে ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

এর আগে বলিউডের অভিনয়শিল্পী রিচা চাড্ডাও কাস্টিং কাউচ নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। একটি ইংরেজি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিচা চাড্ডা জানান, কাস্টিং কাউচ নিয়ে কথা বলতে চান। সেই মানুষগুলোর মুখোশ খুলে দিতে চান। তাদের নাম উল্লেখ করতে চান। তবে এর আগে তাঁর নিরাপত্তা আর কাজ নিশ্চিত করতে হবে।

বলিউডে শুধু মেয়েরা নন, ছেলেরাও শিকার হন কাস্টিং কাউচের। এনডি টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রণবীর সিং বলেন, ‘এক ভদ্রলোক তার আন্ধেরির বাড়িতে আমাকে একবার ডেকেছিলেন। আমি সুন্দর পোর্টফোলিও তৈরি করে নিয়ে গিয়েছিলাম। তিনি সেটা দেখলেনই না। বললেন, “তোমাকে আরও স্মার্ট হতে হবে। আরও সেক্সি হতে হবে।” তারপর আমাকে অবাক করে দিয়ে বলেন, “আমরা কিছুই করব না। আমাকে একবার ছুঁতে দাও।” পরে জেনেছি, এমন ব্যবহার তিনি আরও অনেকের সঙ্গেই করেছেন।’

কালকি কোয়েচলিন বলেন, ‘বলিউডে অবশ্যই কাস্টিং কাউচ রয়েছে। আমাকেও অফার দেওয়া হয়েছিল। আমার যখন অস্বস্তি হয়েছে, আমি সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছি।’

ডিএনএকে আয়ুষ্মান খুরানা বলেন, ‘গোড়াতে আমি টেলিভিশনে অ্যাঙ্করিং করতাম। এক কাস্টিং ডিরেক্টর আমাকে সরাসরি যৌন প্রস্তাব দিয়েছিলেন।’

পরিচালক রাজকুমার সন্তোষীর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ আনেন মমতা কুলকার্নি। তিনি বলেন, ‘চায়না গেট’ ছবির শুটিংয়ে রাজকুমার সন্তোষী তাঁর কাছে যৌন-সুবিধা চেয়েছিলেন। রাজি না হওয়ায় নাকি তাঁর চরিত্রটি ছবি থেকে বাদ দেওয়া হয়।

কৃতি শ্যাননকেও এমনি অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়। দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে কৃতি বলেন, তিনি পড়াশোনা করেছেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। পাস করে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে তিনি চলে আসেন ফিল্মে। স্বপ্ন ছিল বড়। আজ তিনি যেখানে দাঁড়িয়েছেন, সেখানে আসার জন্য তাঁকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। তিনি শুনেছিলেন কাস্টিং কাউচের কথা। শুনেছিলেন, ছবিতে সুযোগ পেতে গেলে নাকি বিছানায় যেতে হয়। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে তাঁকে এর শিকার হতে হয়নি। তাঁকে কেউ বিছানায় যাওয়ার প্রস্তাব দেয়নি। তবে মনে ভয় ছিল, যদি এসব ঘটে, তাহলে তিনি কীভাবে এর মোকাবিলা করবেন? এরপর তাঁর ক্যারিয়ার ঠিক থাকবে তো?

Leave A Reply