তিস্তাব্রীজের টোলপ্লাজায় ভুয়া বড়কর্তা: তল্লাসীর নামে অনিয়মের অভিযোগ

0

কাউনিয়া(রংপুর) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কে তিন জেলার মানুষের সেতুবন্ধন ঐতিহ্যবাহী তিস্তাব্রীজ এর টোলপ্লাজায় কে এই রিপন। লেখাপড়ায় বেশী এগুতে না পারলেও চতুরতা আর ধান্ধাবাজীতে অতুলনীয় পারদর্শী। টোলপ্লাজার পাশ্ববর্তী স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে পুলিশের নাকের ডগায় ভুয়া বড়কর্তা হয়ে গড়ে তুলেছে এক সংঘবদ্ধ চক্র। দায়িত্বরত অসাধু পুলিশের প্রত্যক্ষ সহযোগীতা ও কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে যানবাহনে তল্লাশীর নামে বড়কর্তা সেজে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। কথিত আছে, সীমান্তবর্তী দুই জেলার মাদকদ্রব্যসহ অবৈধ মালা-মাল পরিবহনের অন্যতম একটি রুট তিস্তাব্রীজ। সেগুলো দেখ-ভাল করার জন্য রয়েছে একটি পুলিশ চৌকি আছে একজন এসআই(দায়িত্ব প্রাপ্ত ইনচার্জ) ও ১জন গাড়ীচালকসহ ৪জন কনষ্টোবল। কিন্তু দেখেও যেন কেউ দেখে না, নাকি দেখতে চায় না সে প্রশ্ন জনমনে। অথচ পুলিশ সুপারের কঠোর হস্তক্ষেপে লালমনিরহাট পুলিশ প্রশাসনের অদম্য সাহসীকতা ও সাফল্যে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের তিস্তাব্রীজ টোলপ্লাজা এলাকার মোঃ সেকেন্দার আলীর পুত্র এক সন্তানের জনক মোঃ রিপন মিয়া দায়িত্বরত অসাধু পুলিশের উপস্থিতিতে তিস্তাব্রীজের টোলপ্লাজায় সব ধরনের যানবাহনে তল্লাশী করে। আছে ক’জন সহকারী, আব-ভাবে মনে হয় সে পুলিশের কোন এক বড়কর্তা। দায়িত্বরত অসাধু পুলিশরা রিপনের কথার বাহিরে যান না। কোন মাদকদ্রব্য আটক বা ছাড়তে হবে সবই চলে রিপনের ইশারায়। অনেক নিরহ মানুষকে আটক করে মাদকদ্রব্য দিয়ে চালান দেয়ার ভয় দেখিয়ে আদায় করে মোটা অংকের টাকা। সেই টাকা দায়িত্বরত অসাধু পুলিশসহ স্তরভেদে ভাগবাটয়ারা করে রিপন। যেহেতু যানবাহনের যাত্রীরা বেশীর ভাগই দেশের নানা প্রান্তের আর সেই সুযোগের সৎ ব্যবহারে অভ্যস্ত রিপন। আটককৃর্তদের সাথে চাহিদা মোতাবেক দরকসা-কসি না হলে পরিমানে বেশী দেখিয়ে মামলা দেয়ার অভিযোগ যথেষ্ট। আরো জানাগেছে, আটককৃর্ত বিভিন্ন মাদক কিছু অংশের থানায় মামলা দিয়ে বেশির ভাগই রিপনের মাধ্যমে দায়িত্বরত অসাধু পুলিশ বিক্রি করে। রাত হলেই শুরু হয় বিভিন্ন অপকর্ম, টাকা হাতানোর নিত্য নতুন ফন্দি। দেশের বিভিন্ন স্থানে রিপনের রয়েছে মাদকের শক্ত নেটওয়ার্ক। তিস্তাব্রীজ দিয়ে যানবাহনে চুক্তিভিত্তিক মাদকদ্রব্য পাচারের মূলনায়ক রিপন। কিছু দায়িত্বরত অসাধু পুলিশের ছত্রছায়ায় রিপন দীর্ঘদিন যাবৎ মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছে। রিপন নিজেও মাদকসেবী রয়েছে মাদকাসক্তদের সাথে সখ্যতা। মাদকব্যবসা সংক্রান্ত মাদকদ্রব্যসহ বিগত দিনে র‌্যাবের কাছে গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে আটক ছিল প্রায় ৩মাস। সুষ্ঠু তদন্ত করলে বেড়িয়ে আসবে থলের বিড়াল, বন্ধ হবে অনৈতিক কর্মকান্ড মনে করেন অনেকেই।
এব্যপারে জনৈক রিপন মিয়ার সাথে তিস্তাব্রীজ টোলপ্লাজায় কথা বলার চেষ্টা করা হলে নানা অজুহাতে কথা বলেননি। পরে মুঠো ফোনে প্রতিবেদককে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশদের সহযোগীতা করি প্রয়োজনে তাদের লোকজন সংগ্রহ করে দেই এর বেশী কিছুনা। তিনি বলেন, তিস্তাব্রীজ টোলপ্লাজায় পুলিশ ছাড়াও একাধিক লোক তল্লাশীর কাজে সহযোগীতা করে তারা বেতন ভুক্ত। আমার বাড়ী ও দোকান এখানে তাই পুলিশের সাথে সর্ম্পক থাকাটা অস্বাভাবিক নয়।
এবিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানা অফিসার ইনচার্জ মাহফুজ আলম জানান, রিপন কোন পুলিশ নাকি ওতো পাবলিক। এই সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে দেখেছি সে খুব ভাল ছেলে এসব খামাখা মিথ্যা। তিনি জানান, তিস্তাব্রীজ টোলপ্লাজায় পুলিশের সহযোগী হিসাবে কিছু লোক কাজ করে।
এদিকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত পূর্বক তিস্তাব্রীজ টোলপ্লাজায় দায়িত্বরত অসাধু পুলিশসহ ভুয়া বড়কর্তা রিপন গং এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী করেন স্থানীয় সচেতন মহল। অপরদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ প্রশাসনের সরাসরি সম্পৃক্ততায় এ হীন কাজ সংঘটিত হওয়ায় আশানুরুপ সাফল্য নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন অনেকে ।

Leave A Reply