স্রষ্টার অস্তিত্বের স্বীকৃতি-অস্বীকৃতির উপর অনেক কিছু নির্ভর করে

0

Asad Aliমোহাম্মদ আসাদ আলী : সুস্থ মস্তিস্কের সচেতন মানুষমাত্রই জানেন- আত্মাহীন যান্ত্রিক উন্নতিতে ভর করে সমগ্র মানবজাতি দিন দিন নিশ্চিত ধ্বংসের পথে এগিয়ে চলছে। মানুষ জানে এ পথ ধ্বংসের, এ পথ বিপদের, কিন্তু থেমে যেতে পারছে না। পারছে না কারণ প্রচলিত বস্তুবাদী সভ্যতা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও তাকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে।
আত্মাহীন জীবনব্যবস্থাগুলো মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক সর্বগ্রাসী মহাদানবে পরিণত করেছে, পৃথিবীর কর্তৃত্ব কেন্দ্রীভূত হয়ে বিশেষ একটি শ্রেণির হাতে জমা হচ্ছে যাদের কাছে একটি প্রাণের চেয়ে একটি বুলেটের মূল্য অনেক বেশি। অতি ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য সমগ্র মানবজাতিকে বিপদে ফেলতেও তারা পিছপা হচ্ছে না। এই কর্তৃত্ববাদী শক্তির শাসন ও শোষণ থেকে বাঁচার জন্য মানুষ একের পর এক জীবনব্যবস্থা পরিবর্তন করছে। রাজতন্ত্র থেকে গণতন্ত্র, গণতন্ত্র থেকে একনায়কতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র থেকে সমাজতন্ত্রে প্রবেশ করেছে, কিন্তু জীবনব্যবস্থার এই উত্থান পতন ধ্বংসের পথে মানুষের অগ্রযাত্রাকে ঠেকিয়ে রাখতে পারে নি। বরং এই জীবনব্যবস্থাগুলো নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে বিশ্বযুদ্ধের মতো ঘটনা ঘটে গেছে।
যে পথে চললে, যে জীবনব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রতিষ্ঠা করলে মানুষ জাতি অপ্রতিরোধ্যভাবে তার আত্মহত্যার দিকে এগিয়ে যাবে না, তার বুদ্ধি ও মনের, দেহের ও আত্মার এমন একটা সুষ্ঠু, ভারসাম্য মিশ্রণ দেবে যা তাকে দু’দিকেই উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবে- এমন পথ খুঁজতে গেলে সর্বপ্রথম মানুষকে একটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যে সিদ্ধান্তের উপর তার সাফল্য ও বিফলতা স¤পূর্ণভাবে নির্ভর করবে। সেটা হচ্ছে ধীরস্থির, নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত করা যে, এই পৃথিবী ও মহাবিশ্বের কোন স্রষ্টা আছেন, কি নেই।
সাধারণ বুদ্ধিতেই এটা পরিষ্কার বোঝা যায় যে, মানুষ পৃথিবীতে কোন পথে কিভাবে চললে নিরাপত্তা ও শান্তির মধ্যে থাকতে পারবে তা স্রষ্টা থাকলে বা না থাকলে এই উভয় অবস্থাতেই একই হওয়া স¤পূর্ণ অসম্ভব। আরও সহজ করতে গেলে- আপনাকে যদি কোনও বিশেষ একটি দেশে যেতে হয়, তবে সর্ব অবস্থাতেই আপনার সিদ্ধান্ত কি একই হবে? যদি সেই দেশটাতে দৃঢ় আইন-কানুন, বিচারালয়, কর্তব্যনিষ্ঠ, দক্ষ পুলিশ থাকে, অথবা সেই দেশটাতে কোন সরকার, আইন-কানুন, পুলিশ এমনকি কোর্ট-কাচারী কিছুই না থাকে- এই উভয় অবস্থাতেই কি আপনি একইভাবে সেই দেশে প্রবেশ করবেন এবং একইভাবে বিচরণ করবেন? কোন দ্বিধা না করে বলা যায় যে- অবশ্যই নয়। প্রথম অবস্থায় আপনি একা এবং নিরস্ত্র সে দেশে প্রবেশ করবেন এবং নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াবেন এবং দ্বিতীয় অবস্থায় আপনি একা সে দেশে অবশ্যই প্রবেশ করবেন না। যদি যেতেই হয় তবে আপনি দল গঠন করবেন, অস্ত্র সজ্জিত হবেন এবং চলাফেরার সময় অত্যন্ত সতর্ক এবং সাবধান হবেন। যেহেতু দেশে আইন নেই তাই আপনার অস্ত্রই হবে আইন। অর্থাৎ ঐ দেশে একটা শক্তিশালী সরকার থাকা বা না থাকার উপর আপনার মত, পথ, কাজ সর্ব কিছু শুধু বদলাচ্ছে না একেবারে উল্টো হয়ে যাচ্ছে।
একইভাবে স্রষ্টার অস্তিত্ব থাকা বা না থাকার উপর মানুষের চলার পথ, মত ও শান্তি-অশান্তি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। নাস্তিকদের দাবি মোতাবেক যদি তিনি না থাকেন তবে তো না-ই, সে ক্ষেত্রে মানুষের চলার পথ মানুষকেই ঠিক করে নিতে হবে যে চেষ্টা চলছে বিগত কয়েক শতাব্দীব্যাপী এবং যার পরিণাম হিসেবে মানবজাতি এখন ধ্বংসের মুখোমুখী দাঁড়িয়ে আছে। নিজেদের চলার পথ নিজেরা ঠিক করে নিতে মানুষ অপারগ- এটা প্রমাণিত সত্য। অন্যদিকে যদি তিনি থেকে থাকেন তাহলে এটা সাধারণ জ্ঞানেই বোঝা যায় যে, যেহেতু তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, মানুষের শরীর ও আত্মা, মানুষের দুর্বলতা-সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে তার চেয়ে ভালো আর কেউই জানে না, সুতরাং একমাত্র তিনিই পারেন এমন একটি জীবনব্যবস্থা মানুষকে দান করতে যা মেনে চললে মানুষ অনিবার্যভাবে রক্তপাতহীন ও অন্যায়-অবিচারহীন শান্তিময় জীবনযাপন করতে পারবে।
কাজেই স্রষ্টা আছেন কি নেই এই সিদ্ধান্তের উপর স¤পূর্ণ নির্ভর করছে মানুষের সত্যিকারের শান্তিময়, সুখী প্রগতির পথ কিম্বা বিপথ। মানব জাতি হিসাবে, মানুষ আজও এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নি, তাই তার মত ও পথের এত বিভিন্নতা, এত সংঘর্ষ। মানব জাতিকে সামগ্রিকভাবে আজ স্থির সিদ্ধান্ত নিতেই হবে যে স্রষ্টা আছেন কি নেই, কারণ আজ শুধু মানুষে মানুষে যুদ্ধ, রক্তারক্তি, হানাহানি, অশান্তি আর অশ্র“ নয়, এগুলো দিয়ে তার অতীত ও বর্তমান পূর্ণ হয়ে আছে- আজ বাজী তার একেবারে অস্তিত্বের।

Leave A Reply