হালুয়াঘাটে জঙ্গী ও সন্ত্রাস নির্মূলে ওসি কামরুল ইসলাম মিয়ার জনসচেতনতা মূলক কার্যক্রম

0

OCহালুয়াঘাট(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধি: হালুয়াঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কামরুল ইসলাম মিয়া, হালুয়াঘাট থানায় যোগদানের পরথেকে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ , নারী নির্যাতন, ইভটিজিং, মাদক, বাল্যবিবাহ, কিশোর- অপরাধ সহ নানা সামাজিক সমস্যা, আইন শৃংখলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রন, অপরাধ দমনে পুলিশের দৈনন্দিন কাজের বাইর, কমিউনিটি পুলিশিং এর ব্যানারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ ব্যতিক্রম পন্থায় কাজ করে যাচ্ছেন। অনেকটাই ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সামাজিক সমস্যাগুলোর বিরুদ্ধে, মানুষকে সচেতন করতে হালুয়াঘাট থানার ৩৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাকদের নিয়ে জনসচেতনামূলক কার্যক্রম করছেন।
ইপটিজিং, মাদক, জঙ্গীবাদ, যৌন হয়রানী, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, কিশোর অপরাধ, সড়ক দূর্ঘটনা বিভিন্ন কারনে প্রতারনা সহ ঘটে যাওয়া ঘটনার কারণ, করুন ও লোমহর্ষক চিত্রগুলো তুলে ধরছেন।
এছাড়া পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় রাখতে মা/ বাবা ও অভিভাবকদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করছেন। সাধারণ জনগন, ওসি কামরুল ইসলাম মিয়ার এ ব্যাতিক্রম উদ্যোগ কে জনবান্ধব বা জনমুখী বলে মন্তব্য করছেন। সামাজিক সমস্যার বিপক্ষে ও সত্য ও সুুন্দরের পক্ষে কাজ করার চেষ্টা করছেন।
ওসি বলেন, অপরাধ দমনে প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা হিসাবে, পুলিশিং কর্মকান্ডে জনগনের অংশ গ্রহণ থাকলে অপরাধ দমন সহজ হয়। আমি এ বিষয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, পুলিশ ভীতি, পুলিশ বিদ্বেষী মনোভাব অধিকাংশ মানুষের রয়েছে। পুলিশ এ জনবান্ধব ধারনায় আন্তরিক হলে পুলিশের প্রতি জনগনের নেতিবাচক ধারনা গুলি থাকবেনা। ও.সি কামরুল ইসলাম বলেন পুলিশ এখন, ফোর্স বা বাহিনী নয়, পুলিশ এখন একটি সেবা মূলক সরকারী সংস্থা। আমরা জনগণকে পুলিশিয় কাজের অংশীদারিত্ব করবো, পুলিশ ও জনগণের সাথে দূরত্ব কমে আসবে। সামাজিক অপরাধ কমে আসবে। সেই লক্ষে কমিউনিটি পুলিশিং এর মূল মন্ত্র নিয়ে গঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সুসংগঠিত জনবন্ধব ও গণমুখী পুলিশিং কর্মকান্ড করছি। সামাজিক যে সমস্ত সমস্যা বা ব্যাধি আছে, সেগুলো সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং সনাগরিক হিসাবে করনীয় সম্পর্কে আইনের দৃষ্টিতে জনগণকে সচেতন করাই আমার উদ্দেশ্য।
পুলিশ যে জনমুখী কাজ করতে পারে, সেই কাজ দ্বারা অপরাধ নিয়ন্ত্রন সহজ হয়। সেটা বুঝিয়ে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে পুলিশ সম্পর্কে ভাল ধারণা সৃষ্টি করা সম্ভব। হালুয়াঘাট থানায় সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ এর বিরুদ্ধে জসচেতনতা সৃষ্টিতে, জাগরণ মূলক জনসভা করে যাচ্ছি যা এই সংকটময় মুহূর্তে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ এর বিরুদ্ধে গনজাগরণ সৃষ্টি করতে সহায়ক হবে। একটি বিশেষ মহল কর্তৃক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ধর্মের বিভিন্ন ভূল ব্যাখ্যা করে বুঝানো, ধর্ম সম্পর্কে ভালভাবে ধারণা না দিয়ে ধর্মের নামে জিহাদ করে পরকালে তাদের বেহেশত পাওয়ার প্রলোভন দেখানো, ছোটদের মাঝে জিহাদী বই তুলে দেয়া, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কুসংস্কারের মাধ্যমে জঙ্গীবাদে জড়িয়ে ফেলা সহ নিজেকে কি ভাবে শহীদ করে দেবে বা অন্তসংঘাত মূলক কর্মকান্ডে জড়িত করবে এই ভূল ধারণাগুলো দেওয়া হয়।
ওসি কামরুল ইসলাম মিয়া, বাল্যবিবাহের বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন। বাল্য বিবাহ ও প্রেম করে পলায়নের ভয়াবহতা তুলে ধরছেন। যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ সচেতনতা মূলক আলোচনা হয়েছে সেখানেই শিক্ষার্থীদের মাঝে অনেক বেশী, সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। তারা এসব সামাজিক ব্যাধি থেকে সতর্ক থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
ওসি কামরুল ইসলাম মিয়া শুধু স্কুল, কলেজ নয় বিভিন্ন অর্ডিয়েন্সে, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে, মসজিদ, মন্দির, গির্জা, পাবলিক মিটিং ও এনজিও সভায় কথা বলে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে হালুয়াঘাটে বৃহত্তর জনগণের কাছে পুলিশের ভাব মুর্তি উজ্জ¦ল হয়েছে। ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বছরে অন্তত একবার আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলেও শিক্ষার্থীরা ভূলপথ কোনটা তা বুঝতে পারবে। তারা সঠিক পথে ফিরে আসবে। অভিভাবকরাও দায়িত্বশীল হবেন। কোন ধরণের কুসংস্কার বা প্রতারনার পথ শিক্ষার্থীরা বেছে নেবেনা। বিশেষ করে জঙ্গীবাদ বা ধর্মীয় সামাজিক ব্যাধি মুক্তি সমাজ বিনির্মানে এর ক্ষুদ্র প্রয়াসকে সামাজিক আন্দোলন হিসাবে উপজেলার সবখানে ছড়িয়ে বিস্তৃত করায় আমার মূল উদ্দেশ্য।

Leave A Reply