নড়াইলে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলা বর্ষবরণ উদযাপন

0

NRL..01উজ্জ্বল রায়, নড়াইল: বাংলা নববর্ষ বাঙালির আবেগ অনুভুতি ও প্রাণের উচ্ছাসের মধ্যদিয়ে নড়াইলে বর্ষবরণ উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টায় বর্ষবরণ উদযাপন পর্ষদের উদ্যোগে সুলতান মঞ্চ হতে এবং একই সময় জেলা শিল্পকলা একাডেমী চত্বর থেকে আরো একটি এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রা দু’টি নড়াইল পুরাতন বাসটার্মিনালে এসে একত্রিত হয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমী চত্বর যেয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় নড়াইলের জেলা প্রশাসক মো: হেলাল মাহমুদ শরীফ, পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: সিদ্দিকুর রহমান, নড়াইল সরকারী ভিক্টোরিয়া কলেজের উপাধ্যক্ষ বরুণ কুমার বিশ্বাস, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুভাষ বিশ্বাস, সাইফুর রহমান হিলু, মলয় কুমার কুন্ডু, আব্দুর রশীদ মন্নু, আসলাম খান লুলু, আঞ্জুমান আরা, শাহ জালাল মুকুল প্রমুখ অংশ নেয়। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা শিল্প সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। এসময় নড়াইল জেলা অনলাইন মিডিয়া ক্লাবের পক্ষ থেকে সভাপতি উজ্জ্বল রায় ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ হিমেল মোল্যা উপস্থিত প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। উলে­খ্য, বাংলা নববর্ষ কেন এবং কবে থেকে এটি শুরু হলো তা আমাদের জানা দরকার। বাংলা উইকপিডিয়ার তথ্য মতে- ‘হিন্দু সৌর পঞ্জিকা অনুসারে বাংলা বারটি মাস অনেক আগে থেকেই পালিত হত। তখন নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ আর্তব উৎসব তথা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে পালিত হত। তখন এর মূল তাৎপর্য ছিল কৃষিকাজ। প্রাযুক্তিক প্রয়োগের যুগ শুরু না হওয়ায় কৃষকদের ঋতুর উপরই নির্ভর করতে হত। ভারতবর্ষে মুঘল সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর সম্রাটরা হিজরী পঞ্জিকা অনুসারে কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করত। কিন্তু হিজরি সন চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা কৃষি ফলনের সাথে মিলত না। এতে অসময়ে কৃষকদেরকে খজনা পরিশোধ করতে বাধ্য করতে হত। খাজনা আদায়ে সুষ্ঠুতা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। তিনি মূলত প্রাচীন বর্ষপঞ্জতে সংস্কার আনার আদেশ দেন। সম্রাটের আদেশ মতে তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতেহউল­াহ সিরাজি সৌর সন এবং আরবি হিজরী সনের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম বিনির্মাণ করেন। ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ই মার্চ বা ১১ই মার্চ থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (৫ই নভেম্বর, ১৫৫৬) থেকে। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়। আকবরের সময়কাল থেকেই পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন শুরু হয়। তখন প্রত্যেককে চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সকল খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে হত। এর পর দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হত। এই উৎসবটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয় যার রুপ পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে এই পর্যায়ে এসেছে। তখনকার সময় এই দিনের প্রধান ঘটনা ছিল একটি হালখাতা তৈরি করা। হালখাতা বলতে একটি নতুন হিসাব বই বোঝানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে হালখাতা হল বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকানপাঠের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া। গ্রাম, শহর বা বাণিজ্যিক এলাকা, সকল স্থানেই পুরনো বছরের হিসাব বই বন্ধ করে নতুন হিসাব বই খোলা হয়। হালখাতার দিনে দোকনদাররা তাদের ক্রেতাদের মিষ্টান্ন আপ্যায়ন করে থাকে। এই প্রথাটি এখনও অনেকাংশে প্রচলিত আছে, বিশেষত স্বর্ণের দোকানে। আধুনিক নববর্ষ উদযাপনের খবর প্রথম পাওয়া যায় ১৯১৭ সালে। প্রথম মহাযুদ্ধে ব্রিটিশদের বিজয় কামনা করে সে বছর পহেলা বৈশাখে হোম কীর্ত্তণ ও পূজার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর ১৯৩৮ সালেও অনুরূপ কর্মকান্ডের উলে­খ পাওযা যায়। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৭ সনের আগে ঘটা করে পহেলা বৈশাখ পালনের রীতি তেমন একটা জনপ্রিয় হয়নি।

Leave A Reply

Pinterest
Print