Connect with us

রাজনীতি

তসফিলের আগেই রসিকে নির্বাচনী সাজ-সাজ রব!

Published

on

রংপুর সিটি করপোরেশনের তফসিল ঘোষণার আগেই যেন নির্বাচন নিয়ে সাজ-সাজ রব। ব্যানার ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে পুরো নগরীর পথঘাট। নিজেকে যোগ্য প্রার্থী হিসে উপস্থাপন করে দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন সরকারি দল আওয়ামী লীগের হাফ ডজন নেতা। দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণে নিচ্ছেন নানা উদ্যোগ। বসে নেই বিএনপিরও। তাদেরও প্রচারনায় সরব রয়েছে জেলা ও মহানগরের প্রায় হালি খানেক প্রার্থী। তবে নির্বাচনী প্রচারণায় জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হয়ে পূণরায় নির্বাচিত হতে দলকে সুসংগঠিত করে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বর্তমান মেয়র।

মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) রসিকের নির্বাচনী তফসিল ঘোষনার প্রায় এক মাস আগেই নগরের চিত্র যেন ব্যানার ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে ছয়লাপ হয়েগেছে। অন্য জেলা থেকে আগত যেকোন মানুষ এই চিত্র দেখলে অনুমান করবে সপ্তাহ পেরুলেই ভোট!

সিটি কর্পোরেশনটার সূত্রে জানাগেছে, দেশের সপ্তম এই সিটি কর্পোরেশনে সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল গত ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর। আর নির্বাচিতদের প্রথম সভা হয়েছিল ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। তাই এই হিসে অনুযায়ী গত ১৯ আগস্ট থেকে রংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। যেহেতু সিটির মেয়াদ ধরা হয় প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর, তাই এ সিটিতে বর্তমান পর্ষদের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসেবে রসিক সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজও শুরু করে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন।

নগরঘুরে দেখাগেছে সিটি নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে স্থানীয় লোকজনের সেবার মাধ্যমে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন নানাভাবে। হাট-বাজার ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন তারা। খেলাধুলা, পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয়সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন নিজে থেকেই।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের এমন আগাম প্রচারণায় মেয়র-কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী কারা হচ্ছেন, কার অবস্থান কেমন, কে নির্বাচিত হতে পারেন তা নিয়ে সাধারণ মানুষও আলাপ-আলোচনা শুরু করেছেন। তবে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাসহ পরিকল্পিত নগরায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

এদিকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা মাঠে নেমে ভোটের অংক কষলেও সাধারণ ভোটার ও সচেতন মহল হিসেব কষছে প্রত্যাশিত উন্নয়নের আগাগোড়া নিয়ে। এখনো এই সিটিতে গঠন করা হয়নি রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। রাস্তাঘাটসহ চোখে পড়ার মতো বেশ কিছু উন্নয়ন হলেও কর্পোরেশনের অর্গানোগ্রাম ও মাস্টারপ্লান অনুমোদনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান হয়নি। মূলত আগামী নির্বাচনে এসবই ইস্যু হয়ে উঠবে।

খোঁজ নিয়ে দেখাগেছে, রসিক নির্বাচনে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যে প্রচারণায় নেমেছেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের প্রায় এক ডজন নেতা। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়জন, জাতীয় পার্টির একজন, বিএনপির তিনজন ছাড়াও জাসদ, বাসদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন করে প্রার্থীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে বর্তমান মেয়রকে একক প্রার্থী হিসেবে দাবি করছেন জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতারা।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী, পার্টির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর জাপার সভাপতি বর্তমান মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা সর্বত্রই প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার পক্ষে পার্টির মহানগর ও জেলা শাখার নেতাকর্মীরা মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন।

এছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে মাঠে প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে আছেন দলের রংপুর মহানগরের সভাপতি সফিয়ার রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আতাউর জামান বাবু ও রংপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও শ্রমিকলীগ নেতা এম এ মজিদ। এসব প্রার্থীরা ইতোমধ্যে জনসমর্থন আদায়সহ দলীয় মনোনয়ন চেয়ে নগরীতে ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ও স্টিকার লাগিয়েছেন। পাড়া-মহল্লাতে সভা-সমাবেশও করছেন। এছাড়া সিটি নির্বাচনে মনোনয়ন চাইতে পারেন রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম, রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি রেজাউল ইসলাম মিলন।

এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নেতারা বর্তমান সরকার ও ইসির অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসলেও রংপুর সিটি নির্বাচনে অংশ নিতে তাদের দলের দু-একজন নেতা প্রকাশ্যে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, সাবেক সহ-সভাপতি কাওছার জামান বাবলা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু ও জেলা যুবদলের সভাপতি নাজমুল আলম নাজু।

এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র আবদুর রউফ মানিক, নারী নেত্রী সুইটি আনজুম, ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান বনির নামও শোনা যাচ্ছে।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলেছেন, এ সিটি নির্বাচনে মূলত লড়াই হবে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মধ্যে। বিএনপি এবারের নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নাও নিতে পারে। তারা বলছেন, বিগত নির্বাচনে জাতীয় পার্টি পেয়েছিল ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯, নৌকা প্রতীক পেয়েছিল ৬২ হাজার ৪০০, ধানের শীষ পেয়েছিল ৩৫ হাজার ১৩৬ এবং ইসলামী আন্দোলন পেয়েছিল ২৪ হাজার ৬ ভোট। তাই এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর নির্ভর করছে নির্বাচনী মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি।

এ ব্যাপারে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি জানান, তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলন করেছেন। সব সময় দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সরকারের ভিশন মিশন বাস্তবায়নে কাজ করে গেছেন। বিশেষ করে রংপুরের উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তিনি দলের শীর্ষ নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেষ্টা করে গেছেন। রংপুরকে পরিকল্পিত, গোছালো ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়তে হলে শুধু আবেগের বশে একটা দল বা ব্যক্তির পক্ষে না থেকে ভোটারদের বৃহৎ স্বার্থে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করতে এখনই চিন্তাভাবনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দল থেকে মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে জয়ী হবো ইনশাআল্লাহ্। মানুষ এখন বোঝে উন্নয়ন করতে হলে সরকারি দলের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে হবে।

আর জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর সভাপতি বর্তমান মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, গত পৌনে পাঁচ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বর্ধিত এলাকাগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এবার কাজ করা হয়েছে। করোনা মহামারির মধ্যেও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং জনসেবা বন্ধ ছিল না। যেকোনা সময়ের চেয়ে বর্তমান পরিষদ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিচার বিশ্লেষণে এগিয়ে থাকবে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, এই নগরকে পরিকল্পিত ও গোছালো হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। পাঁচ বছরে সবকিছু পরিবর্তন হবে না, এর জন্য সময় লাগবে। তবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থেমে থাকেনি। আমার বিশ্বাস আসন্ন সিটি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারও বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।

রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম শাহাতাব উদ্দিন জানান আগামী নভেম্বরে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে। এ লক্ষে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চলমান‌ রয়েছে। তবে এবারেও এ সিটিতে ইভিএমে ভোট গ্রহণে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। আগামী ডিসেম্বরের শেষের দিকে এ নির্বাচন করার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, পৌরসভা থেকে ৩৩টি ওয়ার্ড নিয়ে রংপুর সিটি কর্পোরেশন গঠন হয় ২০১২ সালের ২৮ জুন। এরপর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ওই বছর ২০ ডিসেম্বর। এতে প্রথম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন সরফুদ্দিন আহমেদ ঝণ্টু। বর্তমানে এই সিটির জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। আর ভোটার রয়েছে চার লাখের বেশি। ২০১৭ সালের দ্বিতীয় নির্বাচনের সময় ভোটার ছিল ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রাজনীতি

বাধা উপেক্ষা করে কুমিল্লায় জনস্রোত আসছে: খন্দকার মোশাররফ

Published

on

ডেস্ক রিপোর্ট:
কুমিল্লায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের এক দিন আগে শুক্রবার সকাল থেকে মিছিল নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে জমায়েত হন। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের দাবি সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে পথে পথে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন নেতাকর্মীরা। এ বাধা উপেক্ষা করে গণসমাবেশে জনস্রোত আসছে।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় টাউনহল মাঠে মঞ্চ তৈরির কাজ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ দাবি করেন। খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, কোনো অপশক্তি আমাদের নেতাকর্মীদের দমিয়ে রাখতে পারবে না। সকাল থেকে সারা শহরে মিছিল হচ্ছে। নেতাকর্মী ভরে গেছে শহর। সুতরাং কুমিল্লা মহানগরী জনগণের মহানগরীতে পরিণত হয়েছে। তারাই শনিবারের সমাবেশ সফল করবেন। সমাবেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, মঞ্চ তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। এ ছাড়া সব বিষয়ে সঠিকভাবে তদারকি চলছে।

কুমিল্লা ও আশপাশের জেলা উপজেলার নেতাকর্মীদের ওপর হামলার বিবরণ তুলে ধরে খন্দকার মোশাররফ বলেন, কুমিল্লায় বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে সরকারি দল ও পুলিশ নারকীয় তাণ্ডব চালাচ্ছে। তবে তারা যতই নির্যাতন-নিপীড়ন করুক, দমিয়ে রাখতে পারবে না। তিনি বলেন, এই সরকার ভোটচোর সরকার। প্রধানমন্ত্রী যশোরের একটি সমাবেশে বলেছেন, আপনারা ভোট দিয়ে পলাতক নেতাকে ক্ষমতায় আনতে চান? এর মানে সরকারের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। এই কথা প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, আপনার দেখেছেন, সমাবেশকে উপলক্ষ করে গোটা কুমিল্লা নগর উৎসবের নগরে পরিণত হয়েছে। এত বাধাবিপত্তির পরও আগের সাতটি সমাবেশ ব্যাপক শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কথা দিলাম, কুমিল্লার সমাবেশও শান্তিপূর্ণ হবে। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন লোকজন বলছেন, খেলা হবে। এটা খেলা নয়, রাজনীতি। এই রাজনীতির মাধ্যমেই আমরা দেশের ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে মেরামত করতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সমাবেশের প্রধান সমন্বয়ক হাজি আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিন প্রমুখ। শনিবারের গণসমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা আছে।

Continue Reading

রাজনীতি

নিষেধাজ্ঞায় ২৩ দিন ধরে চুপচাপ জি এম কাদের

Published

on

দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে আদালতের ‘অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার’ আওতায় থাকা জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের টানা ২৩ দিন ধরে চুপচাপ রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে ১ নভেম্বর থেকে শুধু দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেই নয়, কার্যত রাজনীতিরই বাইরে রয়েছেন তিনি। দলের বনানী ও কাকরাইল কার্যালয়েও আসছেন না। দলের কোনো কর্মসূচিতেও অংশ নিচ্ছেন না। এমনকি, দলের কেউ মারা গেলে শোকও জানাচ্ছেন না। এর মধ্যেই তার বিরুদ্ধে এবার আদালত অবমাননার মামলা হয়েছে।

দল থেকে বহিষ্কৃত সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধার একটি মামলায় গত ৩১ অক্টোবর জি এম কাদেরের ওপর দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ মাসুদুল হক। নিষেধাজ্ঞা খারিজ চেয়ে জি এম কাদেরের করা আবেদন গত ১৬ নভেম্বর খারিজ করে দেয় আদালত। নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকার মধ্যে জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব ‘অসত্য’ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ইতিমধ্যে ঢাকা ও রংপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে জাপা। এতে আদালত অবমাননা হয়েছে দাবি করে ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে নতুন আরেকটি মামলা করেছেন জিয়াউল হক মৃধা।

গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউল হক মৃধা মামলা করার বিষয়টি জানিয়ে বলেছেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জি এম কাদেরের লোকজন রাজপথে অবস্থান নিয়েছেন। এর পেছনে জি এম কাদেরের হাত আছে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজপথে অবস্থান নেওয়া মানে তারা আইন-আদালত মানেন না, আদালত অবমাননা করছেন।’

এদিকে, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যহারের আবেদন খারিজ করার বিরুদ্ধে জজ কোর্টে আপিল করেছেন জি এম কাদেরের আইনজীবীরা। আজ বৃহস্পতিবার এর ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের রায় বাতিলের জন্য আমরা আবেদন করেছি। জজ কোর্টে ন্যায়বিচার পেলে জাপা চেয়ারম্যান আগের মতো স্বাভাবিকভাবে দল পরিচালনা করতে পারবেন। আর জজ কোর্টে ন্যায়বিচার না পেলে আমরা হাইকোর্টে যাব।’

জি এম কাদেরের ওপর আদালতের ‘অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা’ দেওয়ার ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। জাপার কো-চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাপার সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেছেন, জি এম কাদের দেশ ও মানুষের অধিকারের প্রশ্নে সর্বদা সোচ্চার। তাই তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মানে দেশ ও মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। ‘অসত্য’ মামলায় একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা নজিরবিহীন। জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মঙ্গলবার রাজধানীর বিজয়নগরে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে বিজয়নগর পানির ট্যাংক পর্যন্ত মূল সড়কে আয়োজিত এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর জাপার নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তারা জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান দেন। সমাবেশে সভাপতিত্বকারী ঢাকা-৪ আসনের জাপা দলীয় এমপি আবু হোসেন বাবলা বলেন, জি এম কাদের দেশ ও মানুষের নেতা। দেশের মানুষ তার নেতৃত্ব গ্রহণ করেছে। এতে হতাশ হয়ে দল থেকে বহিষ্কৃৃত ও কিছু অর্বাচীন জি এম কাদের ও জাপার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, আদালত অসত্য মামলা খারিজ করে দেবে। জি এম কাদের আবারও মুক্তভাবে দেশ ও মানুষের কথা বলবেন।

রওশন ফিরছেন রবিবার:

মাঝখানে কয়েক দিন বাদ দিয়ে টানা এক বছর ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ আগামী ২৭ নভেম্বর রবিবার দেশে ফিরছেন। বিরোধীদলীয় নেতার একান্ত সচিব এ কে এম আবদুর রহিম ভূঞা স্বাক্ষরিত গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রবিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় এসে পৌঁছাবেন রওশন এরশাদ।

ব্যাংককে চিকিৎসাধীন রওশন এরশাদ হঠাত্ গত ৩০ সেপ্টেম্বর এক চিঠির মাধ্যমে জাপার দশম জাতীয় কাউন্সিল ডাকেন। ২৬ নভেম্বর এই কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল। পরদিনই (১ অক্টোবর) ‘দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে রওশন এরশাদ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না’—এমন কারণ দেখিয়ে তার পরিবর্তে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করার জন্য সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে চিঠি দেয় দলটির পার্লামেন্টারি পার্টি। এ নিয়ে জাপায় বিবাদ দেখা দেয়। এ অবস্থায় জি এম কাদেরকে ‘সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা’ হিসেবে স্পিকার স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ না করা পর্যন্ত ৩১ অক্টোবর থেকে সংসদ বর্জনের ঘোষণা দেয় দলটির পার্লামেন্টারি পার্টি। আগের দিন রাতে এই ঘোষণা দিলেও ‘স্পিকারের আশ্বাসে’ পরদিনই জি এম কাদেরের নেতৃত্বে সংসদে ফিরেন জাপার এমপিরা। অন্যদিকে, আগের দিন রাতে রওশন এরশাদও ২৬ নভেম্বর ডাকা দলের কাউন্সিল স্থগিত করেন।

Continue Reading

রাজনীতি

জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদককে হাইকোর্টের আদেশ

Published

on

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
দলীয় মনোনয়ন বাণিজ্য করে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশন-দূদককে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তদন্তে কোনো ধরনের গাফলতি হলে দুদকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

সম্প্রতি বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের প্রকাশিত রায়ে এ নির্দেশ দেয়া হয়। গেলো মঙ্গলবার আদেশ প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করে রিটকারী মো. ইদ্রিস আলীর আইনজীবী মোহাম্মাদ হেলাল উদ্দিন এসব তথ্য জানান।

বৃহস্পতিবার ডিআরইউ নসরুল হামিদ মিলনায়তনে এবিষয় সংবাদ সম্মেলন করেন রিটকারী মো.ইদ্রিস আলী। এতে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মাদ কাদের জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে বড় অংকের উৎকোচের মাধ্যমে নারী এমপি  মনোনয়ন দিয়ে অবৈধপন্থা অর্থ আত্মসাৎ করেছেন- অভিযোগ এনে দূদকে একটি আবেদন দাখিল করা হয়। বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্তের আবেদন করা হয় দূদকে।

দুদক এ বিষয়ে তদন্ত শুরু না করায় আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছিলেন মো. ইদ্রিস আলী। তবে আইনি নোটিশ পাওয়ার পরও কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মাদ কাদেরের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্য পদের মনোনয়ন বাণিজ্য ও পদ বাণিজ্যের অভিযোগ নিষ্পত্তির নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটের শুনানি শেষে সেটি নিষ্পত্তি করেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। তারা এ বিষয়ে বেশ কিছু নির্দেশনাও দেন।

ইদ্রিস আলী জানান, এরইমধ্যে হাইকোর্টের রায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত ৬ পৃষ্ঠার রায়ে বলা হয়েছে, রিট আবেদনটির শুনানি শেষে আদালত রুল জারির প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না। যথাযথ আদালতে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়ে তার আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়।

এ বিষয় রিটকারীর আইনজীবী হেলাল উদ্দিন জানান, রায়ে দুদককে জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অবহেলা করলে দুদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে বাদী যদি মনে করেন ন্যায়বিচার পাননি তাহলে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর জাপার চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে দলীয় মনোনয়ন বাণিজ্য ও পদ বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ এনে তা তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করেন জাতীয় পার্টি পূনর্গঠন প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলী।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় পার্টির ৪ (চার) জন নারী সংসদ সদস্যের মনোনয়ন কার্যক্রমে ১৮ কোটি ১০ লাখ টাকা উৎকোচ নেন জি এম কাদের। বিনিময়ে ঐ ৪ নারীকে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। মসিউর রহমান রাঙ্গার মাধ্যমে মনোনীত নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে জাতীয় সংসদের আসনে মনোনীত করার অঙ্গীকার ও অর্থ প্রদানের শর্তে চুক্তিপত্র সম্পাদন হয়। এ বিষয়ে একজন নারী সংসদ সদস্যের চুক্তি হয়, যা এরইমধ্যে গণমাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। ৩ জন সদস্য থেকে কমপক্ষে প্রতিজনে ৫ কোটি করে মোট ১৫ কোটি টাকা এবং প্রয়াত অধ্যাপক মাসুদা এম রশীদ চৌধুরীর কাছ থেকে ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে জি এম কাদের গ্রহণ করেছেন, যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।অ

ভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার ও প্রভাব খাঁটিয়ে দলের কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মুত্যুর পর মসিউর রহমান রাঙ্গাকে ব্যবহার করে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্ট একটি নামসর্বস্ব প্যাডে এরশাদ সাহেবের দস্তখত তৈরি করেন।

Continue Reading